somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারী পুরুষ বৈষম্য -প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলালিংক এর দিন বদলের বিজ্ঞাপনটি আমার খুব প্রিয় । হেই দিন কি আর আছে দিন বদলাইয়া গেছে
না , দিন আসলেই বদলাইয়া গেছে । প্রথম আলোর নতুন স্লোগান বদলে যাও বদলে দাও । দিন বদলের এই সময়ে আমরা কি আসলেই
বদলাতে পেরেছি কিংবা আদৌ বদলানোর চেষ্টা করছি ? আমি প্রায়ই ভাবি .............................
হিসাব মিলাতে পারি না । চিন্ত্া ভাবনা এলোমেলো হয়ে যায় ।আজও অনেক নারী এসিড দগ্ধ হয় , যৌতুকের কারনে অত্যাচার সহ্য করতে হয় নারীদের , আজও নারীদের শুনতে হয় তুমি নারী , সব সহ্য
করতে হবে ।
আমরা কি পারবো বদলাতে আমাদের মানসিকতা ? প্রথমত আমরা মানুষ , নারী কিংবা পুরুষ । কিন্তু আমাদের সমাজ নারীদের আজ ও মানুষ ভাবে না । সমান সংখ্যক ক্রোমোজম আছে নারী ও পুরুষের শরীরে
এক জোড়া ক্রোমোজম সংখ্যায় শুধু ভিন্নতা আছে ।
কোথাও কোমোজম সংখ্যার ঘাটতি নেই ।
ক্রোমোজম সংখ্যার ভিন্নতার কারনে নারী শারীরিকভাবে কিছুটা দূর্বল । কিন্তু মানসিকভাবে দূর্বল আমাদের
সমাজ আমাদের মানসিকতা । বেগম রোকেয়া বলেছিলেন -

স্বীকার করি যে শারীরিক দুর্বলতাবশত নারীজাতি অপর জাতির সাহায্যে নির্ভর করে । তাই বলিয়া পুরুষ প্রভূ
হইতে পারে না । কারন জগতে দেখিতে পাই , প্রত্যেকে প্রত্যেকের নিকট কোন না কোন সাহায্য প্রার্থনা
করে , যেন একে অপরের সাহায্য ব্যতীত চলিতে পেির না । তরুলতা যেমন বৃষ্টির সাহায্য প্রার্থী , মেঘ ও সেইরুপ তর ুর সাহায্য চায় জলবৃদ্ধির নিমিত্ত নদী বর্ষার সাহায্য পায় , মেঘ আবার নদীর নিকট রীনি ।
তবে তরংগিনী কাদম্বিনীর স্বামী না কাদম্বিনী তরংগিনীর স্বামী ? এ স্বাভাবিক নিয়মের কথা ছাড়িয়া কেবল
সামাজিক নিয়মে দৃষ্টিপাত করিলেও আমরা তাহাই দেখি ।
কেহ সুএধর কেহ তন্তুবায় ইত্যাদি । একজন ব্যারিষ্টার ডাক্তারের সাহায্য প্রার্থী , আবার ডাক্তার ও ব্যারিষ্টারের
সাহায্য চাহেন । তবে ডাক্তারকে ব্যারিষ্টারের স্বামী বলিব , না ব্যারিষ্টার ডাক্তারের স্বামী ? যদি ইহাদের কেহ কাহাকে স্বামী বলিয়া স্বীকার না করেন , তবে শ্রীমতি গন জীবনের চিরসঙ্গী শ্রীমানমিগকে স্বামী ভাবিবেন কেন?
আমরা জানি সন্মান দিলে সন্মান পাওয়া যায় , ভালবাসা দিলে ভালবাসা পাওয়া যায় । নারী পূরুষ একে অপরের সহায়ক ।
শুধুমাএ মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে নারীকে তার প্রাপ্ত সন্মান দিলে একটি দেশ তথা জাতি , সর্বোপরি সভ্যতার উন্নয়ন ঘটবনো সম্ভব ।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারী পুরুষ বৈষম্য
বাংলাদেশের জনগনের একটি বিশাল অংশ নারী । পুরুষ ও নারীর অন্পুাত ১০০:১০৫.২১ । বাংলাদেশের সংবিধানের ১০,১৯,২৭,২৮,২৯ নং ধারায় রাষ্ট্র ও সমাজের সকল ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের
বিষয়টি সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ আছে । নারী অধিকারের বিষয়টিকে মানবাধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে মানুষের
মৌলিক অধিকার ও মূল্যবোধের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমতা নিশ্চিত করনের উদ্দেশ্যে আর্ন্তজাতিকভাবে জাতি
সংঘের নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) প্রতিষ্টিত হয়েছে । বাংলাদেশ এ সনদ অনুমোদন
পরবর্তী ২৪ বছর পার করলেও এদেশের নারীরা তাদের অধিকারে ক্ষেত্রে বৈষম্য এর শিকার যা তাদেরকে
এখন ও পিছিয়ে রেখেছে ।

শিক্ষা ক্ষেত্রে নারী বৈষম্য- যে কোন জাতিসত্ত্বার উন্নয়নে প্রথমেই যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ন তা হলো শিক্ষা । বাংলাদেশ সরকার এবং বেসরকারি পর্যায়ে নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া সত্তেও নারীরা
পিছিয়ে আছে । স্কুলে ভর্তি এবং শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়ার হার ছেলে শিশুর তুলনায় মেয়েশিশুর বেশি ।
তাছাড়া উপবৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে আবশ্যক শর্তগুলো না মানায় নারী শিক্ষার গুনগত মান হ্রাস পাচ্ছে ।
সরকারের যথেষ্ট সদিচ্ছা সত্তেও এ ক্ষেত্রে ও দেখা যাচ্ছে বৈষম্য ।


স্বাস্থ্যসেবায় নারী বৈষম্য - স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে নারীনা যথেষ্ঠ বৈষ্যমের শিকার হচ্ছে । বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির
তথ্য অনুযায়ী মায়েদের নিরাপদ প্রসবপূর্ব সেবার জন্য সরকারের ব্যয় বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় শতকরা ৪৯
ভাগ এবং প্রসব পরবর্তী সেবার জন্য মাএ শতকরা ১৮ ভাগ । তাছাড়া ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কারের কারনে গ্রাম্য
নারীরা মৃত্যবরন করছে ।

কর্মক্ষেএে নারী বৈষম্য - কর্মক্ষেএে নারী শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি । পারিশ্রমিকের
ক্ষেএে বৈষম্য , কাজ বন্টনে বৈষম্য , তথ্যের অভাবে নারী উদ্যোক্তারা পিছিয়ে আছে । এক সমীক্ষায় দেখা
গেছে নারীরা পুরুষদের তুলনায় ১৩% বেশি সময় পারিশ্রমিকসহ এবং বিনা পারিশ্রমিকে গ্রামে মোট শ্রমের ৫৫% ও শহরে মোট শ্রমের ৫০% শ্রম দান করে ।কিন্তু অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে
নারীরা চিরকাল অবহেলিত ।

জাতীয় সংসদে বৈষম্য - জাতীয় সংসদে নারী বৈষম্য অত্যন্ত প্রকট । রাষ্ট্রপ্রধান ও বিরোধীদলীয় প্রধান নারী
হওয়া সত্তেও জাতীয় সংসদে এখনো নারী সদস্য সংখ্যা খুব একটা বৃদ্ধি পায়নি । ২০০৮ ব্যতিত
পূর্বের সংসদ নির্বাচন গুলোতে নারী প্রার্থীতার সার্বিক হার ২% এর বেশি ছিল না ।


রাজনীতি ও প্রসাশনে নারী –পুরুষ বৈষম্য - স্থানীয় পর্যায়ে রাজনীতিবীদ হিসেবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষনের অভাব ও পুরুষের বিরুপ মনোভাবের কারনে বিঘিœত হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়া । তাছাড়া নীতিমালা প্রনয়ন ,প্রশাসনিক , বিচার বিভাগীয় ও আইনী কাঠামো ইত্যাদী ক্ষেত্রে নারীর প্রতিনিধিত্ব এখন ও অনেক কম ।
১ম ও ২য় শ্রেনীর সরকারী চাকরিতে নারীর অংশগ্রহন মাএ ৮% ,তৃতীয় শ্রেনীর চাকরীতে ১২% , এবং চতুর্থ
শ্রেনীর চাকুরীতে মাএ ৬% যা নারীকে ক্রমান্বয়ে শেকড়হীন ও নড়বড়ে করে তুলেছে ।


সিধান্ত গ্রহনে নারী পুরুষ বৈষম্য - আমাদের দেশের নারীরা স্বাধীনতার পুর্ন উপভোগ করতে পারে না সিধান্ব
গ্রহনের অভাবে । সামাজিক সাংস্কৃতিক বাধার কারনে এখনো নারীদের সিধান্ব পুরুষরাই নেয় ।
বিভিন্ন মন্ত্রনালয় ও এজেন্সির নীতি নির্ধারনী কাঠামোতে - যেমন গর্ভনিং বোর্ড , নিবাহী কমিটি , স্থানীয় প্রকল্প
প্রনয়ন , সরকার কাঠামো এবং বাস্তবায়ন ও পরীক্ষন কমিটিতে পুরুষের তুলনায়
নারীর অংশগ্রহন অত্যন্ত কম ।

ইহা ছাড়াও তথ্যের অধিকারের ক্ষেত্রে , মত প্রকাশের ক্ষেত্রে নারীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষ্যমের শিকার হয় ।
একটি জাতির উন্নয়নের জন্য বৈষম্য কখনই সুফল বয়ে আনতে পারে না । নারী পুরুষ সমভাবে কাজ করলেই
দিন বদলানো সম্ভব , একটি জাতির উন্নয়ন সম্ভব ।
শুধুমাএ মানসিকতা উদার করে নারীকে মানুষ হিসাবে ম্বীকৃতি দিয়ে পারষ্পারিক শ্রদ্ধাবোধ , ভালবাসা , সহমর্মিতা জাগ্রত করনের মাধ্যমে একটি জাতির দিন বদলানো সম্ভব ।
আমি আশাবাদী নারী তার প্রাপ্ত সন্মান পাবে , দেশ ও জাতি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে ।
দিন বদলে যাবে
”এই দিন দিন নয় আরও দিন আছে , এই দিনেরে নিবো আমরা সেই দিনের ও কাছে ”


শারমিন আক্তার রুপা
সমাজকর্মী

৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×