অনেক দূরের আপনজন
কৃষ্ণসাগর-তীরবর্তী অঞ্চলে কাজিম কোইনসু তুমুল জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী। তুরস্ক ছাড়াও জর্জিয়া ও আর্মেনিয়ায় তার গানের অ্যালবাম বহুল বিক্রীত। তার জন্ম বাংলাদেশের স্বাধীনতার বছর_ ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর, তুরস্কের আর্তভিন প্রদেশের হোপা এলাকায়। ১৯৯২ সালে মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন শুরু করেন। পরের বছর প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব ব্যান্ড দল 'ফ্যসি বেরেপে' বা সমুদ্রসন্তান। ২০০০ সালে ব্যান্ড দলটি ভেঙে যাওয়ার পর তিনি একের পর এক সলো অ্যালবাম বের করতে থাকেন। মূলত এ সময়ই তার জনপ্রিয়তা আগের সবার রেকর্ড ভাঙতে থাকে। তার গান ছড়িয়ে পড়তে থাকে তুরস্কের সীমানা পেরিয়ে জর্জিয়া, আর্মেনিয়াসহ কৃষ্ণসাগর-তীরবর্তী গোটা অঞ্চলে। তিনি নিজেও সঙ্গীত শিল্পীর বাইরে এক আন্দোলনের আইকন হয়ে ওঠেন।
ব্যক্তি কাজিম ও তার গান কেন এত জনপ্রিয়? তিনি লোকসঙ্গীতের সঙ্গে রক মিউজিক মিশিয়েছেন বলে? কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ও অবহেলিত কয়েকটি আঞ্চলিক ভাষায় বেশকিছু গান (আমাদের ভাওয়াইয়ার মতো) গেয়েছেন বলে? কাজিমের স্বাতন্ত্র্য ও সৌন্দর্য হচ্ছে, বিপুল জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও তিনি কেবল কণ্ঠশিল্পী ও গীতিকার হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেননি। যে বাণী তিনি সঙ্গীতে ধারণ করেছেন, তা নিজের জীবন দিয়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি একাধারে গীতিকার, কণ্ঠশিল্পী ও খ্যাতিমান পরিবেশকর্মী। কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার যে প্রত্যয় তিনি গানের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতেন, তা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়েও ছুটে বেড়াতেন। বিশেষ করে ওই অঞ্চলে ১৯৮৬ সালে সোভিয়েত ইউক্রেনে চেরনোবিল পরমাণু দুর্ঘটনার তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে সোচ্চার ছিলেন।
চেরনোবিল দুর্ঘটনার আড়াই দশক পেরিয়ে গেলেও এখনও তুরস্কের কৃষ্ণসাগর-তীরবর্তী অঞ্চলে এর বিরূপ প্রভাব স্পষ্ট। সেখানকার প্রায় প্রতি পরিবারেই একাধিক সদস্য ক্যান্সারে আক্রান্ত। একটি হিসাবে দেখা গেছে, কৃষ্ণসাগর-তীরবর্তী অঞ্চলের ৩৮ শতাংশ মৃত্যুই ক্যান্সারের কারণে ঘটে থাকে। তাদের বড় একটি অংশ হয় অকালমৃত্যুর শিকার। তা সত্ত্বেও উপকূলীয় সিনোপ শহরে তুরস্কের সরকার যখন একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়, কাজিম সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি সঙ্গীতে, বিতর্কে, সমাবেশে অংশ নিয়ে স্থানীয় মানুষকে এর বিরুদ্ধে সংগঠিত করতে থাকেন। পরমাণু তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় উপেক্ষা করে তিনি জনমত গঠনে গোটা কৃষ্ণসাগর-তীরবর্তী অঞ্চলে ছুটে বেড়িয়েছেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ২০০৫ সালে তারও ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং জুনের ২৫ তারিখ, আজকের দিনে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে, ধারণা করা হয়, যে পরমাণু তেজস্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে তিনি সঙ্গীত ও সংগ্রামে নিমগ্ন ছিলেন, তা থেকেই এই ক্যান্সার।
বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরবর্তী হলেও কাজিম কোইনসু এবং তার চিন্তা ও তৎপরতা আমাদের জন্য কেবল প্রেরণার উৎস নয়, শিক্ষণীয়ও। দেশে এখন সঙ্গীতের স্বর্ণযুগ। কিন্তু শক্তিশালী এই মাধ্যমটিতে পরিবেশ-প্রতিবেশের অংশ কতখানি? আমাদের ক'জন সঙ্গীত শিল্পী প্রকৃতি নিয়ে ভাবেন? ক'জনই-বা আছেন, যারা মঞ্চে ও মিডিয়ায় বিপন্ন পাহাড়, নদী, বন ও জীববৈচিত্র্যের জন্য গান গাওয়ার পাশাপাশি মাঠের আন্দোলনে অংশ নেবেন? কৃষ্ণসাগরের সন্তান কাজিম কোইনসুর জীবন ও কর্ম যদি বঙ্গোপসাগর-তীরবর্তী কারও মনে সামান্য ভাবনার উদ্রেক করে, আজকের লেখা সার্থক।-প্রতিবেশ সুরক্ষার প্রশ্নে অনেক দূরের ওই আপনজনের সংগ্রাম ও ত্যাগের প্রতি টুপিখোলা অভিবাদন।
সাদা নীল জার্সি

গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাইরে এসো
এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।
দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?
"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্পর্শে_ _ _ _ _
-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন
বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।