বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দল কেন বিরোধীদের ঢাকার রাজপথে "দাঁড়াতে দিতেও" (বিএনপির ভাষায়) নারাজ, মালেতে মোহাম্মদ নাশিদের ক্ষমতাচ্যুতির মধ্যে তার কারণ কেউ খুঁজতেই পারেন। কিন্তু মেয়াদের সোয়া তিন বছরের মাথায় সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট কেন "বন্দুকের মুখে" পদত্যাগ করলেন, তার সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে মেলানোর অবকাশ নেই। কেউ কেউ যদিও বলছেন যে, নাশিদকে আনাড়িপনার খেসারত দিতে হচ্ছে, তারা বোধহয় এই রাজনীতিকের দীর্ঘ ও সংগ্রামী অতীতের কথা মনে রাখেননি। হক কথা বলার দায়ে গত দুই দশকে তাকে ষোলবার জেলে যেতে হয়েছে। ক্ষমতায় যাওয়ার আগের ৪০ বছরের জীবনে ছয়টি বসন্ত কারাগারে কাটানোর নজিরই-বা এই অঞ্চলে কয়জনের আছে? তিনি যেভাবে ৩০ বছরের ছদ্ম-একনায়কত্বের অবসান ঘটিয়েছিলেন, তাতে অনেকে ম্যান্ডেলার কর্মপদ্ধতির ছায়া দেখতে পান।
বস্তুত বিরোধীদলীয় রাজনীতিতে থাকার সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইউম সমর্থিত যেসব সুবিধাভোগী গোষ্ঠী নাশিদকে বারবার পিষে ফেলতে চেয়েছে, মামুনের যেসব রাজনৈতিক সাঙ্গাতদের হাতে নাশিদ কয়েক দফা শারীরিকভাবেও নিগৃহীত হয়েছিলেন, মালদ্বীপের তথাকথিত অভ্যুত্থানের কুশীলব তারাই। ওই গোষ্ঠী তার মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত ২০০৮ সালের নির্বাচনের ফল মেনে নিতে পারেনি। তিনি বিচার বিভাগসহ সরকারের অন্যান্য অংশকে দুর্নীতিমুক্ত করার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, তা ৩০ বছরের মধু জমানো মৌচাকে ঢিল হয়ে দেখা দিয়েছিল। ইহকালীন ভোটের বাজারে সুবিধা করতে না পেরে, বাংলাদেশে যেভাবে কখনও কখনও পরকালীন ইস্যু সামনে আনা হয়, নাশিদের বিরুদ্ধে বিরোধীরা সেভাবেও মাঠে নেমেছিল। নাশিদ যেসব সংস্কারমূলক কর্মসূচী নিয়েছিলেন, তা মালদ্বীপের মোল্লাদের পছন্দ হয়নি।
কেবল কি দেশে? জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে নিজের দেশকে বাঁচাতে গিয়ে নাশিদ আন্তর্জাতিক কায়েমি স্বার্থেও কতটা কাঁটা ফুটিয়েছিলেন, অভ্যুত্থানের পর বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নীরবতাও তার প্রমাণ। আমাদের মনে আছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি সাগরতলে মন্ত্রিসভার প্রতীকী বৈঠকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। কিন্তু সেখানেই দায়িত্ব শেষ করেননি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বৈশ্বিক দরকষাকষিতেও বিপন্ন দেশগুলোর পক্ষে তিনি সত্যিকার অর্থেই, ব্যক্তিগতভাবে, সোচ্চার ছিলেন। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টা গার্ডিয়ানে লিখেছেন, ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে নাশিদ কীভাবে ব্যক্তিগতভাবে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে শেষ মুহুর্তে হাওয়া ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। কীভাবে মালদ্বীপের বৃহৎ দুই প্রতিবেশী চীন ও ভারতের সমস্ত চাপ অগ্রাহ্য করে বিপন্ন দেশগুলোর জন্য শেষ ভরসা ছিনিয়ে এনেছিলেন। নিকট প্রতিবেশী দেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাচ্যুতির পর ভারতের দায়সারা প্রতিক্রিয়ার পেছনে কি এটাও একটি কারণ? ১৯৮৮ সালে মামুন আব্দুল গাইয়ুমের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানকারীদের দমনে "অপারেশন সন্ধ্যা" পরিচালনা করলেও, এবার ভারতীয় পক্ষ মৌনব্রত পালন করল কেন?
এটাও ঠিক, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে মোহাম্মদ নাশিদের অবস্থান ও তৎপরতা এই বিপদ নিয়ে সত্যিকার উদ্বিগ্নদের সমর্থন পেয়েছিল। ২০০৯ সালে টাইম ম্যাগাজিনের বিচারে আমাদের সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে তিনিও "হিরো অব দ্য এনভায়রনমেন্ট" নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরের বছর পেয়েছিলেন পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পদক "চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ"। বিরোধিতার মুখেও যে পড়েছেন নিজের অনড় অবস্থানের কারণে, তা আগেই বললাম। আমরা দেখেছি, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যদিও তাকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে "নিউ বেস্ট ফ্রেন্ড" ঘোষণা দিয়েছেন; কানকুন ও ডারবান সম্মেলনের পর উন্নত বিশ্বে এমন রাষ্ট্রপ্রধান বিরল নয়, যিনি তাকে অপ্রকাশ্যে "ওয়ার্স ফো" ডেকে থাকেন।
এহ বাংলাদেশের জন্য হয়তো বাহ্যই ছিল। বৈশ্বিক কিংবা আঞ্চলিক মোড়লিপনায় আমরা কবে নাক গলিয়েছি? আর নিজেরা দুই দফা সামরিক শাসন চালানোর পর, অন্যদেশের গণতন্ত্র-অগণতন্ত্র নিয়েও আমাদের ছুৎমার্গ থাকা উচিত নয়। কিন্তু প্রশ্ন যখন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক লড়াইয়ের; দৃশ্যপট থেকে মোহাম্মদ নাশিদের প্রস্থান আমাদের চিন্তিত না করে পারে না। বাংলাদেশ কি এ ব্যাপারে মুখ খুলবে। সরকার না হোক, নাগরিক সমাজ বা সংবাদমাধ্যম কি মোহাম্মদ নাশিদের সমর্থনে নিরবতা ভাঙতে পারে না?
আলোচিত ব্লগ
১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন
অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !
অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ব্লাইন্ড স্পট

ঘন কুয়াশার চাদর আর আঁকাবাঁকা সড়কের আড়ালে ‘পদ্মাডাঙা’ গ্রামটা দেখতে আর দশটা নীরব, নিরুপদ্রব পল্লীর মতোই। কিন্তু সাইবার অপরাধের মানচিত্রে এই জায়গার পরিচয় ভিন্ন। ফিশিং, ব্যাংক... ...বাকিটুকু পড়ুন
কাতুকুতু'র কাহিনীনামা
কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।
তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।