somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাশিদের জন্য নিরবতা নয়

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দল কেন বিরোধীদের ঢাকার রাজপথে "দাঁড়াতে দিতেও" (বিএনপির ভাষায়) নারাজ, মালেতে মোহাম্মদ নাশিদের ক্ষমতাচ্যুতির মধ্যে তার কারণ কেউ খুঁজতেই পারেন। কিন্তু মেয়াদের সোয়া তিন বছরের মাথায় সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট কেন "বন্দুকের মুখে" পদত্যাগ করলেন, তার সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে মেলানোর অবকাশ নেই। কেউ কেউ যদিও বলছেন যে, নাশিদকে আনাড়িপনার খেসারত দিতে হচ্ছে, তারা বোধহয় এই রাজনীতিকের দীর্ঘ ও সংগ্রামী অতীতের কথা মনে রাখেননি। হক কথা বলার দায়ে গত দুই দশকে তাকে ষোলবার জেলে যেতে হয়েছে। ক্ষমতায় যাওয়ার আগের ৪০ বছরের জীবনে ছয়টি বসন্ত কারাগারে কাটানোর নজিরই-বা এই অঞ্চলে কয়জনের আছে? তিনি যেভাবে ৩০ বছরের ছদ্ম-একনায়কত্বের অবসান ঘটিয়েছিলেন, তাতে অনেকে ম্যান্ডেলার কর্মপদ্ধতির ছায়া দেখতে পান।
বস্তুত বিরোধীদলীয় রাজনীতিতে থাকার সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইউম সমর্থিত যেসব সুবিধাভোগী গোষ্ঠী নাশিদকে বারবার পিষে ফেলতে চেয়েছে, মামুনের যেসব রাজনৈতিক সাঙ্গাতদের হাতে নাশিদ কয়েক দফা শারীরিকভাবেও নিগৃহীত হয়েছিলেন, মালদ্বীপের তথাকথিত অভ্যুত্থানের কুশীলব তারাই। ওই গোষ্ঠী তার মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত ২০০৮ সালের নির্বাচনের ফল মেনে নিতে পারেনি। তিনি বিচার বিভাগসহ সরকারের অন্যান্য অংশকে দুর্নীতিমুক্ত করার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, তা ৩০ বছরের মধু জমানো মৌচাকে ঢিল হয়ে দেখা দিয়েছিল। ইহকালীন ভোটের বাজারে সুবিধা করতে না পেরে, বাংলাদেশে যেভাবে কখনও কখনও পরকালীন ইস্যু সামনে আনা হয়, নাশিদের বিরুদ্ধে বিরোধীরা সেভাবেও মাঠে নেমেছিল। নাশিদ যেসব সংস্কারমূলক কর্মসূচী নিয়েছিলেন, তা মালদ্বীপের মোল্লাদের পছন্দ হয়নি।
কেবল কি দেশে? জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে নিজের দেশকে বাঁচাতে গিয়ে নাশিদ আন্তর্জাতিক কায়েমি স্বার্থেও কতটা কাঁটা ফুটিয়েছিলেন, অভ্যুত্থানের পর বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নীরবতাও তার প্রমাণ। আমাদের মনে আছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি সাগরতলে মন্ত্রিসভার প্রতীকী বৈঠকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। কিন্তু সেখানেই দায়িত্ব শেষ করেননি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বৈশ্বিক দরকষাকষিতেও বিপন্ন দেশগুলোর পক্ষে তিনি সত্যিকার অর্থেই, ব্যক্তিগতভাবে, সোচ্চার ছিলেন। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টা গার্ডিয়ানে লিখেছেন, ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে নাশিদ কীভাবে ব্যক্তিগতভাবে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে শেষ মুহুর্তে হাওয়া ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। কীভাবে মালদ্বীপের বৃহৎ দুই প্রতিবেশী চীন ও ভারতের সমস্ত চাপ অগ্রাহ্য করে বিপন্ন দেশগুলোর জন্য শেষ ভরসা ছিনিয়ে এনেছিলেন। নিকট প্রতিবেশী দেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাচ্যুতির পর ভারতের দায়সারা প্রতিক্রিয়ার পেছনে কি এটাও একটি কারণ? ১৯৮৮ সালে মামুন আব্দুল গাইয়ুমের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানকারীদের দমনে "অপারেশন সন্ধ্যা" পরিচালনা করলেও, এবার ভারতীয় পক্ষ মৌনব্রত পালন করল কেন?
এটাও ঠিক, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে মোহাম্মদ নাশিদের অবস্থান ও তৎপরতা এই বিপদ নিয়ে সত্যিকার উদ্বিগ্নদের সমর্থন পেয়েছিল। ২০০৯ সালে টাইম ম্যাগাজিনের বিচারে আমাদের সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে তিনিও "হিরো অব দ্য এনভায়রনমেন্ট" নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরের বছর পেয়েছিলেন পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পদক "চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ"। বিরোধিতার মুখেও যে পড়েছেন নিজের অনড় অবস্থানের কারণে, তা আগেই বললাম। আমরা দেখেছি, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যদিও তাকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে "নিউ বেস্ট ফ্রেন্ড" ঘোষণা দিয়েছেন; কানকুন ও ডারবান সম্মেলনের পর উন্নত বিশ্বে এমন রাষ্ট্রপ্রধান বিরল নয়, যিনি তাকে অপ্রকাশ্যে "ওয়ার্স ফো" ডেকে থাকেন।
এহ বাংলাদেশের জন্য হয়তো বাহ্যই ছিল। বৈশ্বিক কিংবা আঞ্চলিক মোড়লিপনায় আমরা কবে নাক গলিয়েছি? আর নিজেরা দুই দফা সামরিক শাসন চালানোর পর, অন্যদেশের গণতন্ত্র-অগণতন্ত্র নিয়েও আমাদের ছুৎমার্গ থাকা উচিত নয়। কিন্তু প্রশ্ন যখন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক লড়াইয়ের; দৃশ্যপট থেকে মোহাম্মদ নাশিদের প্রস্থান আমাদের চিন্তিত না করে পারে না। বাংলাদেশ কি এ ব্যাপারে মুখ খুলবে। সরকার না হোক, নাগরিক সমাজ বা সংবাদমাধ্যম কি মোহাম্মদ নাশিদের সমর্থনে নিরবতা ভাঙতে পারে না?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×