somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

যে জাতি নিজের দেশেই জিম্মি তারা আবার ফ্রিতে যাবে অন্য ৪২ দেশে!! হাস্যকর ৪২ দেশে!!

০৬ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





বিনা ভিসায় ৪২ টা দেশে যাওয়ার আশায় বুক বাঁধা বাংলাদেশিদের জন্য এ খবরটি যেন এক রঙিন স্বপ্নের মত। তবে বাস্তবতা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাধারণ মানুষের জন্য এই ৪২ টা দেশে যাওয়ার আসল চিত্র কেমন? আসুন জেনে নেই।

বাস্তবতার খুঁটিনাটি
প্রথমেই বলি, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ওশেনিয়া অঞ্চলের কোনো দেশে যেতে চাইলে বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য খুবই কঠিন। এসব দেশে যেতে হলে আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্যের ট্রানজিট ভিসা লাগবে। যা সাধারণত পাওয়া কঠিন। ১১টি আমেরিকার দেশ, ৮টি ওশেনিয়ার দেশ এবং ১টি ক্যারিবীয় দেশ – মোট ২০টি দেশের নাম প্রথমেই তালিকা থেকে বাদ।

আফ্রিকার দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পর্যটন আকর্ষণ খুবই খারাপ। সেগুলো পর্যটকদের জন্য তেমন জনপ্রিয়ও না। অতএব, আফ্রিকার ১৬টি দেশও বাদ। তালিকায় যুক্ত হলো ৩৬।

এবার আসি এশিয়ার দিকে। কম্বোডিয়ায় গেলে ইমিগ্রেশনে দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করা হয়। যদি আপনার ভালো ট্রাভেল হিস্ট্রি এবং পেশাদার ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকে, তাহলে পরের ফ্লাইটেই দেশে ফিরে আসতে হবে। এটি নিয়মিত খবর। ফলে কম্বোডিয়া যোগ করল ৩৭টি।

এবার পূর্ব তিমুর। পূর্ব তিমুরে ঢোকার জন্যও ভালো ট্রাভেল হিস্ট্রি এবং শক্ত পেশাদার কারণ লাগবে। যদি তা না থাকে, তাহলে ঢাকার বিমানবন্দরই ছাড়তে দেবে না। তাই পূর্ব তিমুরের সাথে তালিকা হলো ৩৮টি।

প্রকৃত সত্য
তাহলে বাদ রইল ৪টি দেশ – ভুটান, নেপাল, শ্রীলংকা এবং মালদ্বীপ। এগুলোর ক্ষেত্রে ভিসা ছাড়াই যাওয়া সম্ভব। এ হিসাবটাই আসলে প্রকৃত হিসাব।

পরিশেষে
যারা বিনা ভিসায় ৪২ দেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তাদের জন্য এটি একটা কঠিন বাস্তবতা। আর যারা এই তথ্য শেয়ার করে বেড়ান, তারা প্রকৃত তথ্যটি জানার চেষ্টা করুন। ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত না করাই ভালো। তাই সাংবাদিক ভাইয়াদের উচিত প্রকৃত সত্য তুলে ধরা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রক্রিয়া এবং ইমিগ্রেশন নীতিমালা জানতে এবং বুঝতে আমাদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।


ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যতের সুযোগ----
বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা নীতিমালা ও ইমিগ্রেশন নীতিগুলো বেশ জটিল এবং অনেকক্ষেত্রেই কঠিন। তবুও কিছু কৌশল ও প্রস্তুতির মাধ্যমে এই প্রতিবন্ধকতাগুলো কিছুটা হলেও পাড়ি দেওয়া সম্ভব।

ভ্রমণ পরিকল্পনা: কৌশল ও প্রস্তুতি-----
১. পর্যটন হিস্ট্রি তৈরি করুন:
যারা ভ্রমণ করতে চান, তাদের জন্য ভালো ট্রাভেল হিস্ট্রি থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি প্রাথমিকভাবে কিছু সহজলভ্য দেশে ভ্রমণ করেন, তবে আপনার পাসপোর্টে সেগুলোর সিল থাকার ফলে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

২. পেশাগত ব্যাকগ্রাউন্ড মজবুত করুন:---
যারা ভ্রমণ করতে চান, তাদের জন্য প্রফেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো দেশের ইমিগ্রেশন অফিসার যদি দেখেন যে আপনি একটি স্থিতিশীল চাকরি বা ব্যবসায় নিয়োজিত, তাহলে তারা আপনাকে ভিসা দিতে বেশি সহানুভূতিশীল হবেন।

৩. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহ করুন:--
ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট (যেমন ব্যাংক স্টেটমেন্ট, চাকরির সনদ, ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স ইত্যাদি) ঠিকমতো প্রস্তুত রাখুন। এগুলো ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে সহায়তা করবে।

৪. ট্রাভেল এজেন্সির সাহায্য নিন:--
বিশ্বস্ত ট্রাভেল এজেন্সির সাহায্য নিন যারা আপনাকে ভিসা প্রক্রিয়া, ডকুমেন্টেশন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে সহায়তা করতে পারে।

৫. স্থানীয় পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমর্থন করুন:---
আপনি যদি ভ্রমণ করতে চান, তাহলে প্রথমে দেশের ভেতরে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখুন। এতে আপনার ট্রাভেল হিস্ট্রি যেমন মজবুত হবে, তেমনি দেশের পর্যটন খাতকেও সমর্থন করতে পারবেন।

ভবিষ্যতের সুযোগ: আন্তর্জাতিক ভ্রমণ----
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য কিছু নতুন সুযোগ আসতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ভিসা নীতিমালার পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আরও অনেক দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন। এজন্য আমাদের কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে:

১. দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মজবুত করা:---
যতই দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মজবুত হবে, ততই অন্যান্য দেশের সাথে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হবে। তাই সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও বেশি উদ্যোগী হওয়া।

২. নতুন ভিসা নীতিমালা:----
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ করে ভিসা নীতিমালার পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা উচিত। এতে ভ্রমণকারীরা উপকৃত হবেন।

৩. পর্যটন খাতের উন্নয়ন:---
দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া উচিত। এতে দেশের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের মানুষের জন্য নতুন ভ্রমণ সুযোগও তৈরি হবে।

উপসংহার
"৪২ টি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ" বিষয়টি হয়তো আকর্ষণীয় শোনাতে পারে, তবে বাস্তবতা বেশ কঠিন। সচেতনতা, প্রস্তুতি, এবং কৌশলের মাধ্যমে এই প্রতিবন্ধকতাগুলো কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সহজতর করার জন্য সরকার এবং সাধারণ মানুষের একসাথে কাজ করতে হবে। সঠিক তথ্য জানুন, সঠিক পরিকল্পনা করুন, আর স্বপ্ন দেখুন নতুন গন্তব্যের।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:১৮
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাকি সংস্কৃতির লোকদের কারনে আমাদের জাতিটা দাঁড়ানোর সুযোগই পেলো না। (সাময়িক )

লিখেছেন সোনাগাজী, ২০ শে জুলাই, ২০২৪ ভোর ৬:৩৫



ভারত বিভক্তের সময় হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক ভয়ংকর দাংগার জন্ম দিয়েছিলো; দাংগার পর হওয়া পাকিস্তানকে মুসলমানেরা ইসলামের প্রতীক হিসেবে নিয়েছিলো, পুন্যভুমি; যদিও দেশটাকে মিলিটারী আবর্জনার স্তুপে পরিণত করছিলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামাত-শিবির-বিএনপি'এর বাসনা কিছুটা পুর্ণ হয়েছে

লিখেছেন সোনাগাজী, ২০ শে জুলাই, ২০২৪ বিকাল ৪:০৮



বিএনপি ছিলো মিলিটারীর সিভিল সাইনবোর্ড আর জামাত ছিলো মিলিটারীর সিভিল জল্লাদ; শেখ হাসনা মিলিটারী নামানোতে ওরা কিছুটা অক্সিজেন পেয়েছে, আশার আলো দেখছে।

জামাত-শিবির-বিএনপি অবশ্যই আওয়ামী লীগের বদলে দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বর্তমান পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে সুস্থ ও স্ট্র্রং থাকার কোন উপায় জানা আছে কারো?

লিখেছেন মেঠোপথ২৩, ২০ শে জুলাই, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৪৯



১১৫ জনের মৃত্যূ হয়েছে এখন পর্যন্ত ! দূর বিদেশে আরেক দেশের দেয়া নিশ্চিন্ত, নিরাপদ আশ্রয়ে বসে নিজ মাতৃভুমিতে নিরস্ত্র বাচ্চা ছেলেদের রক্ত ঝড়তে দেখছি। দেশের কারো সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×