somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক, দুই, তিন

০১ লা অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৪:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক বেজায় ধনী আর ভীষণ শক্তিশালী রাজার বিশ্বাস, দুনিয়াতে তাঁর মতো ক্ষমতাশালী মানুষ দুটি নেই। একদিন তাঁর বেজায় চিন্তা হল, তিনি যা ভাবেন তা অন্যেরা আঁচ করতে পারছে কি না।
তখনি তাঁর মন্ত্রী-আমলা-চাকর বাকর, সবাইকে ডেকে বললেন, তিনি কী ভাবছেন, ওরা বলুক। অনেকে অনেক রকম বলল বটে, তবে কারো জবাবেই রাজা খুশি হলেন না।
রাজা তাঁর দেওয়ানকে হুকুম দিলেন, তাঁর মনের কথা আঁচ করতে পারে, এমন কাউকে চাই। ঠিক একমাসের মধ্যে এই আশ্চর্য মানুষটিকে চাই।
দেওয়ান বিশ্বভুবন তন্নতন্ন করে খুঁজে সারা। এদিকে মাস শেষ হয় হয়, তিনি তো মরিয়া হয়ে উঠলেন। তাঁর ছিল এক মেয়ে। সে বলল, ঠিক দিনে ঠিক মানুষটিকে সে হাজির করবে। এ কথা শুনে দেওয়ান খানিক খুশি হলেন। বললেন, 'বেশ তো! দেখা যাক কাকে হাজির করো তুমি!'
কাজটি তিনি মেয়েটিকে সঁপে দিলেন।
দিনটি যখন এল, মেয়ে এনে হাজির করল এক বোকাসোকা মানুষকে। সে তাদেরই রাখাল। মেয়ে বাপকে বলছে, ওকে রাজার কাছে নিয়ে যেতে। দেওয়ান তো মেয়ের কাণ্ড দেখে মূর্ছা যান যান। কিন্তু মেয়ে বলছে এই বোকাসোকা রাখালই সংকট তরাবে। দেওয়ানের তো আর কিছু করারও নেই। তিনি মেয়ের ওপর আস্থাও রাখেন। অগত্যা রাখালকে নিয়েই দরবারে গেলেন।
দরবারে সবাই হাজির। রাজাও অপেক্ষা করছেন। দেওয়ান রাখালটিকে রাজার সামনে আনলেন। রাখাল যখন রাজার চোখে তাকাল, রাজা একটা আঙুল তুললেন।
রাখাল তুলল দুটো আঙুল।
রাজা তুললেন তিনটে আঙুল।
রাখাল জোরে জোরে মাথা নাড়ছে আর পালাবার চেষ্টা করছে।
রাজা হেসে বাঁচেন না। তিনি খুব, খুব খুশি। দেওয়ানকে দারুণ প্রশংসা করলেন। কি বুদ্ধিমান মানুষকেই যে এনেছেন তিনি। দেওয়ানকে অনেক বখশিসও দিলেন।
দেওয়ান ঘাবড়ে হতভম্ব। কি যে ঘটে গেল, কিছুই তো বোঝেননি তিনি। মিনতি করে বললেন, রাজা একটু খোলসা করে বুঝিয়ে দিন।
রাজা বললেন, 'যখন একটা আঙুল তুলেছি, আমি শুধিয়েছি, আমি একাই কি রাজা? দু'আঙুল তুলে ও মনে করিয়ে দিল, ভগবানও আছেন। আমার যত ক্ষমতা, তাঁর অন্তত সেটুকু ক্ষমতা আছে। তারপর জিগ্যেস করলাম, তিন নম্বর রাজা কেউ আছেন কি? ও প্রবল ভাবে জানিয়ে দিল, নেই। লোকটা আমার মনের কথা ধরে ফেলেছে। আমি ভাবতাম, আমি একাই সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা ধরি। ও মনে করিয়ে দিল, আরেকজনও আছেন, তিনি ভগবান! তবে তৃতীয় কেউ নেই।'
তারপর যে-যার ঘরে গেল। রাতে দেওয়ান বোকা রাখালকে শুধোচ্ছেন, রাজার সঙ্গে তার কি মনের কথা হল!
রাখাল বলছে, 'প্রভু! আমার নিজের মোটে তিনটে ভেড়া। আপনি রাজার কাছে নিলেন আমাকে, রাজা একটা আঙুল তুললেন। বুঝলাম, একটা ভেড়া চান। তা এত্ত বড় রাজা! আমি দুটো দিতে চাইলাম। তিনটে আঙুল তুলে যখন জানাল, যে তিনটে ভেড়াই চায়, মনে হল বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে এটা। তাই ভাগতে চেষ্টা করছিলাম।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×