somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে এই কইডা কথা যদি বলতে পারতাম !!!!!

২৭ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।আমার খুব সম্মানিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন,পাশাপাশি মন্ত্রীসভার সব বলদ মন্ত্রীদের মাঝে কেন যেন তার সবকিছু একটু ভিন্ন। কারন এই সরকারের আমলে তিনি তার বিভিন্ন বক্তব্যগুলোতে বেশিরভাগ সময় সাধারনত রাজনৈতিক কথাবার্তা প্রাধান্য দেওয়ার চেয়ে তার মন্ত্রনালয় ও অন্যান্য শিক্ষা সম্পর্কিত কথাবার্তা বলেছেন, যেটা একজন 'মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী'র সত্যিকারের যোগ্যতা বহন করে। পাশাপাশি 'যুদ্ধাপরাধী' ট্যাগ, যেটা না বললে যেন অন্যান্য 'মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী' দের যেন মন্ত্রিত্বই থাকবেনা , তিনি তার কথাবার্তায় এইটা মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মিলিয়ে বলার চেষ্টা করেন, যা আসলেই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।
এবার আসি মূল কথায়। সরকার এস.এস.সি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ফেব্রুয়ারী মাস এবং এইচ.এস.সি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য এপ্রিল মাসকে স্থায়ীভাবে নির্ধারিত করে দিয়েছে, যেটা আসলেই প্রশংসার দাবি রাখে। এতে ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য একটা নির্দিষ্ট রুটিন মেনে লক্ষ্যর দিকে আগাতে পারে।যা তাদের ফলাফলের উপর একটা বিশাল প্রভাব রাখে।
আবার একটু ভিন্নভাবে হিসেব করলে দেখা যায় ফেব্রুয়ারী হল বাংলা ফাল্গুনের শুরুর মাস, আর এপ্রিল হল বৈশাখের শুরুর মাস।ফলে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এপ্রিল মাস পুরোদমে বোরো মৌসুমের মাস।আর বোরো ফসল আমাদের জাতীয় খাদ্যভাণ্ডারের একটা বিশাল উৎপাদক। বোরো ফসল থেকে প্রাপ্ত ধানের চাল আমাদের অর্থনীতিতেও বিশাল চালিকাশক্তি।প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বোরো আমাদের জাতীয় জীবনে প্রভাব বিস্তর।আবার একটা সমস্যা হল এই সময় নদী নালা, খাল-বিলে পানির পরিমান কম থাকে, তাই এই সময় চাষের প্রয়োজনীয় পানি বিদ্যুৎচালিত ইঞ্জিনের মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে এনে জমিনে চাষাবাদের জন্য ব্যবহৃত হয়।তাই বোরো মৌসুমে চাষের পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রচুর লোডশেডিং করতে হয়।
আবার প্রতিবছর যারা এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি. পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরাও আমাদের জাতীয় জীবনের একটি বিশাল সম্পদ। এদের মাঝেই লুকিয়ে আছে আগামীর সব সম্ভাবনা।তাই তাদের দিকটা আমরা বিবেচনা না করলে হবে না।

এবার আমার মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে কয়েকটা প্রশ্নঃ

১) যেহেতু বোরো উৎপাদন মৌসুম আর এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি. পরীক্ষা একই সময়ে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে , তাই কৃষক ও ছাত্রছাত্রী সকলের অধিকার বিবেচনা করে দুটি বিষয়ের মাঝে কি আপনি কোন সমন্বয় করতে পাচ্ছেননা?

২) বোরো চাষ মৌসুমের মাস ব্যতীত সম্ভব নয়।আবার বোরো ছাড়া আমাদের অর্থনীতিও পঙ্গু।কিন্তু এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি. পরীক্ষা বছরের যেকোনো সুবিধাজনক মাসে নেওয়া সম্ভব।এতে কৃষক ও ছাত্রছাত্রী উভয়পক্ষের উপর লোডশেডিংএর চাপটা একই সময়ে পড়বে না।

৩) এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি.র প্রতিটি পরীক্ষা একজন ছাত্র বা ছাত্রীর জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মর্ম বহন করে,কারন এই পরীক্ষাগুলো স্কুলের মিড টার্ম পরীক্ষা নয় যে ফলাফল খারাপ তারা মনকে সান্ত্বনা দিবে ' পরের বার ভালো করবো'।তাই তাদের যেকোনো পরিস্থিতিকে মেনে নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে হয়।গ্রীষ্মকালে এমনিতেই যখন মানুষের গরম, লোডশেডিং,মশার উপদ্রপ, পানি সঙ্কট সবকিছু মিলিয়ে একটা দুর্বিষহ জীবনযাপন করে তখন পরীক্ষা তাদের জীবনে একটা বিশাল পাহাড় হয়ে দাড়ায়। তার উপর গরমের ভিতর অনেক সময় একটানা তিনঘণ্টা পরীক্ষাকেন্দ্রে বিদ্যুৎবিহীনভাবে পরীক্ষা দিতে হয়,যা পরোক্ষভাবে তাদের পরীক্ষার ফলাফলে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এই ফলাফল খারাপের দায়ভার কি আপনি নিবেন?

অতএব মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একটাই অনুরোধ প্লিজ আগামী এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি. পরীক্ষার সময়গুলো জাতীয় জীবনের সব পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে নির্ধারণ করবেন। এতে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীর পাশাপাশি দেশ ও জাতির উপকার হবে , অপকার নয়।

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১১:০৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×