somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পদদলিত স্বপ্ন ও একজন আনু মুহাম্মদ

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শাহতাব সিদ্দিক অনিক, ইমরান হোসেন ইমন, নাজমুল হাসান রাহাত, আহসান উলল্গাহ, নাদিয়া সারোয়াত, আশিকুর রহমান, খালেকুর রহমান, সালাহ উদ্দিন শুভ্র, ইফফাত জাহান, একরামুল হক শিপলু, ইফতেখারুল বারী, মির্জা আতিকুর রহমান, মিলি ত্রিপুরা, উম্মে সালমা,
সামিউল ইসলাম, ইমরুল হাসান



আমাদের স্বপ্ন দেখা তবুও থামেনি। আমরা জানতাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন একদিন শেষ হবে, নিজেদের স্বপ্নটাকে আড়াল করে উপার্জনের জীবনে ছুটে বেড়াতে হবে। তবুও কখনও মানবিকতায়, বিদ্রোহের আঁচে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ঠিকই ফিরে আসে আমাদের কাছে। আমরা অহঙ্কার করি, গর্বের বাতাস আমাদের বুকে দোলা দেয়। আমাদের শিক্ষকদের অবহেলায় সেশনজটের পাহাড় জমা হয়েছিল তাও আমরা টপকে গিয়েছি, আমাদের শিক্ষকরা গুণ্ডাবাহিনীর সঙ্গে গলা মিলিয়ে হেঁটেছেন, আমরা দেখেছি, তাদের হাতের ইশারায় লাঠি উঠে আসত কোনো কোনো শিক্ষার্থীর হাতে, তাদের চোখে নারী হয়ে উঠত ভোগ্য। তবুও আমরা স্বপ্ন দেখা থামাইনি। কারণ আমরা জানতাম একজন আনু মুহাম্মদ আছেন_ যাকে ভালোবাসা যায়_ যার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের স্বপ্নও বেঁচে থাকে।
কোনো ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারছে না হয়রানির ভয়ে, তার ভরসা আনু মুহাম্মদ। যৌন নিপীড়নের আন্দোলন চলছে_ অনশনে আছে আন্দোলনকারীরা_ আনু স্যারই পারেন কেবল সেই অনশন ভাঙাতে। তাকে দেখিয়ে দিতে হয় না_ বলে দিতে হয় না তিনি জনতার লোক। সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক সবাই স্বস্তি পেতাম তার উপস্থিতিতে। আমাদের শিক্ষকরা যখন ভাগবাটোয়ারা আর ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত, আমাদের শিক্ষকরা যখন উপাচার্যের গুণকীর্তনে গলা মেলায়, ফন্দি আঁটে নতুন কোনো দালানের ইট-সিমেন্ট নিয়ে; তখনও আমরা আশাবাদী হই একজন আনু মুহাম্মদের সততা দেখে, তার দৃঢ়তা আমাদের শেখায়_ শক্তি জোগায়। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন_ 'বাংলাদেশে অর্থবিত্ত-দাপট-ক্ষমতাওয়ালা হিসেবে যারা পরিচিত, যারা নীতিনির্ধারণ করেন এমনকি সংস্কৃতি জগতেও যারা হোমরাচোমরা তাদের অনেককে দেখলে আমার সেই বৃদ্ধ দাসের কথাই মনে পড়ে। কী পরম যত্নে আগ্রহে এবং আনন্দে এরা দাস হিসেবে নিজেদের জাহির করে। আর যারা ভেতর থেকে দাস তারা আবার স্বাধীন মানুষ দেখলে সন্ত্রস্ত হয়, শক্তি থাকলে তাকে গুঁড়িয়ে দিতে চেষ্টা করে। কিন্তু এই দাস সংস্কৃতির আধিপত্য মানুষ মানবে কেন? '
কখনওই আধিপত্য মানতে রাজি ছিলেন না আনু মুহাম্মদ। তেল-গ্যাস সম্পদ রক্ষার আন্দোলন নতুন নয়_ শুরু থেকেই এর সঙ্গে আছেন তিনি। ফুলবাড়ী থেকে বহুজাতিক কোম্পানিকে তাড়া করেছে জনতা_ তাদের সঙ্গেই ছিলেন আনু মুহাম্মদ। আমাদের জন্য প্রয়োজন যে মানুষটির, একজন বিদ্রোহীর, জনতার কাতারে দাঁড়িয়ে যিনি লড়াই করে যাবেন, সেই মানুষই হয়ে উঠেছেন আনু মুহাম্মদ। তার শরীরে আক্রোশে নেমে আসা বুটের লাথিগুলো কার? যে হাত হিংস্র হয়ে ওঠে তাকে আঘাত করতে সেই হাত কার? কার বাড়া ভাতে ছাই দিয়েছেন আনু মুহাম্মদ, কার এমন চক্ষুশূল হয়ে উঠলেন তিনি? এই রাষ্ট্রেরই গোপন কুঠুরি থেকে বেরিয়ে আসা এই হাত, যাদের লোভের জিহ্বায় বারবার কাঁটা ঠেকিয়েছেন আনু মুহাম্মদ এই হাত তার। দেশের কথা বলা যাবে না, সম্পদ যে নিয়ে গেছে নিয়ে যাক, চুপ করে থাকাই আমাদের শিক্ষা, বহুজাতিকের পণ্য হয়ে ওঠা মন-মগজের শিক্ষাই আধুনিকতা_ এমনটা আমরা শিখিনি আনু মুহাম্মদের কাছ থেকে। তাই হয়তো ক্রোধান্ধ রাষ্ট্র তার মনের আশা মিটিয়েছে_ লালায় চিটচিটে হাসি ফুটেছে সেদিন কত কত লুটেরার মুখে।
তারা হয়তো ভেবেছে পা ভেঙে দিলে আর মিছিলে আসবেন না আনু মুহাম্মদ, রাস্তায় ফেলে তাকে বেদম পিটিয়ে আহত করলে তিনি ভয় পাবেন, আর নামবেন না রাস্তায়, আর প্রতিবাদ করবেন না লুটপাট নিয়ে। কী নির্মম এক ছবি জাতীয় দৈনিকে এসেছে_ কী অমানবিক হয়ে উঠতে পারে রাষ্ট্রযন্ত্রের লোকেরা। কতগুলো আঘাত করার পর রাষ্ট্রের মনে হয়েছে যথেষ্টই হয়েছে, কতগুলো বুটের লাথি ছুটে গেছে আমাদের শিক্ষকের শরীরে। আমরা জানি না। কিন্তু আমরা জানি তিনি আমাদের শিক্ষক, তিনি আমাদের ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। আমরা জানি এই তেতো লবণাক্ত জীবনের বাঁকে বাঁকে মানুষের জন্য অপেক্ষা করে রূপান্তর। কিন্তু সে কি এতই সহজ! তার জন্য আছে অশ্রুঘামরক্তমৃত্যুদুয়ার। আছে দীর্ঘ পথপরিক্রমা।

লেখকগণ : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দক্ষিণের বিল

লিখেছেন কালো যাদুকর, ২২ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:১৮

আরেকটি উত্তপ্ত বিকেল এলো,
লাউয়ের মাচা থেকে সাদা ফুল গুলো ঝুলে ছিল
দক্ষিণের বিল থেকে গরম বাতাস চোখ রাঙ্গাল ।

তখন তুমি সদ্য স্নান সেরে অশান্ত চুল মেলে,
সারাদিনের কাজ সেরে,
একটু বসেছ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সদয় আচরণ করলে আল্লাহর ভালোবাসা পাবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

১) "দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় আচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×