গল্পের আগামিকাল এবং বাস্তবের গতকাল।খুব সকাল না হলেও শুক্রবারের তুলনায় খুব সকালে ঘুম ভাংল অলসতার সাথে উঠালাম গৃহ মন্ত্রনালয় এর সাথে কথা বলতে বলতে ৯ টা বাজিয়ে উঠালাম বিছানা থেকে বাড়ি ফিরতে হবে আজকে তাই গোসল করতে ঢুকলাম অনেক্ষন ধরে গোসল করলাম যদিও রাতে একবার করেছি। এর মাঝে আমার বরিশাল অফিস এর ইন চার্জ মঞ্জু ভাই আসছেন আমাকে বিদায় জানাতে গোসল সেরে তৈরি হয়ে নিলাম ঢাকে ফেরার জন্যে শেষ বারের মত সাইট আফিস এ একটু ঢু মারতে গেলাম রানা ভাই ও মঞ্জু ভাই কে নিয়ে সেখানে আধা ঘন্টা কাটিয়ে বের হলাম নাথুল্লাবাদ বাস স্টেন্ড এর পথে ১১.৪৫ এ কেওরাকান্দি যাবার মাইক্রোবাস এ চরে বসলাম কেননা তারাতারি নারায়ানগঞ্জ ফিরতে হবে ঘড়ি ধরে চলছিলাম যার ধারাবাহিকতায় ২টায় কেওরাকান্দি ঘাট মাঝে নামাজের জন্যে ভাঙ্গার আগে থামতে হয়েছিল।
আকাশ পরিস্কার ছিল বাতাস টাও নরম লাগছিল এবং রোদ টা গায়ে লাগছিল টিকিট কেটে চড়ে বসলাম একটা বোটে বার জন আমারা যাত্রী এবং ২০-২১ বছর বয়স এর বোট চালক রওয়ানা হলাম। চলছিলাম ভাল ভাবে হঠাৎ শরিয়তপুর ঘাট বরাবর বোটের ইঞ্জিন খুক খুক কেশে বন্ধ আমি হাসব না কাদব বুঝে উঠতে পারছিলাম না ঢেউ এর ধাক্কায় চরে উঠার উপক্রম যাত্রী রা সবাই বোট চালক কে ঝারি কেন খারাপ বোট নিয়া বের হইসে আমি মনে মনে নিজেকে এই বলে সান্তনা দিতেছি যে এটা ডিজিটাল বাংলাদেশ এখানে ৮ নম্বর বাস আছে ৮ নম্বর স্পিডবোট থাকবে না তা কি হয় যাই হউক খানিক্খন ঠুক ঠাক এর পর বোট আবার চালু হল।শরিয়তপুর পার হয়ে পদ্মার বড় বড় চর চোখে পড়ছিল বাতাস টা একটু বারার দিকে খেয়াল করি নাই পদ্মার নুতুন জাগা চর গুল তে বালি সাদা বালির উড়াউড়ি আকাশে উঠে যাচ্ছে দেখে আমাকে আবেগে পেয়ে বসল ভাবছিলাম ফোন বের করে গৃহ মন্ত্রনালয় কল করি আর তাকে এম এম এস করে পাঠাই এত কিছু ভাবছি এর মাঝে আমাদের বোট আবার ও বিকল তবে এবার পাকাপাকি ভাবে বোট চালক যত কলাকৌশল জারি জুরি প্রয়োগ করেও ইঞ্জিন চালু করা গেল না আর আমাদের বোট আবারও চরে উঠেছে যাত্রীরা বোট চালক রে এই মারে তো সেই মারে তার মালিক কে ফোন করে আসতে বলে মালিক কি আর আসে…।।কেউ কে কখন ও দেখছে ৮ নম্বর বাস বিকল হলে আরেকটা খালি এসে যাত্রি দের নিয়া গেসে আমি এবার আমার পাশেরজন কে বললাম যে গতকাল ও একই ঘটনা ঘটছে……।।যাই হোক আরো ৩০ মিনিট পর একটা খালি বোট যচ্ছিল মাওয়া ঘাট তাকে হাত তুলে ডেকে থামানো হল আমাদের পিরাপিরি আর ৬ লিটার অক্টেন এর বিনিময় এ আমাদের নিল অপর বোট আমি ভাবলাম যাক বাচা গেল যাহেতু চরে উঠে গেছিলাম প্রায় অনেক কষ্ট করে নুতন চালক আমাদের বোট চলার মত পানিতে নিয়ে গেল ওনেক অনেক ধন্যবাদ তাকে আমি তখন ও জানি না আমাকে আর ১০০ ধন্যবাদ দিতে হবে আগামী ১০ মিনিট এর মাঝে চর এর বাক টা পেরিয়ে বড় নদী তে পরেছি মাত্র বাতাস হঠাৎ ঠান্ডা লাগতে শুরু করল ঢেউ গুলা কালা বদর এর তিন গুন বড় বড় বোট দারুন লাফাচ্ছে যদিও আমি মাওয়া ঘাট দেখতেছি এক এর পর এক ঢেউ নাকে মুখে পানি চশমা পানিতে ভিজে ঘোলা একবার বোট প্রায় কাত হয়ে উলটে যাচ্ছিল ঠিক এই সময় আমার সেই “বিষ খাত” “কাছে থাকুন গ্রামীনফোন” আবার ও বেজে উঠল আমি ভাবি একি ভাবে হয়ে এটা কি কাকতালীয়………না অন্য কিছু………… আমি ভাবছি তীরে এসে তরী ডুব্বে নাকি ঢেউ এর বাড়ি খেতে খেতে কোন রকমে ঘাটে এসে ভিড়লাম এক সময় মনে হচ্ছিল আজকে বুঝি আর পার পাব না ধন্যবাদ আমাদের পদ্মা নদীর মাঝি কে একে বাড়ে বাচ্চা ১৫-১৬ বছর কিন্তু সাহস তার অসীম নইলে আমাদের সলীল সমাধি আর ঠেকান যেত না।ঘাটে এসে দেখি আর যত বোট ছিল সবার এক অবস্থা কাপতে কাপতে বাস ষ্টেন্ড এ এসে ফোন এর মিস কল গুলা দেখলাম দেখি আবারো আমার মা এটা কি কাকতালীয়………না অন্য কিছু………………………আবার মা কে বললাম মা এমন সময় কেন দাও যে ফোন ধরতে পারি না……।।বড় বাচা বেচে গেছি কারন আমি সাতার জানি না খুব একটা……………

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

