somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হায়রে অভাগা দেশ আমার

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন মানুষ নিজেকে, তার মা-বাবা, ভাইবোন, স্ত্রী সন্তানকে যতটুকু ভালবাসে, আমি মনে করি তার নিজের দেশকে তার চেয়ে কম ভালবাসে না। যদি তা না হত, তাহলে নিজের জীবনকে বাজি রেখে ১৯৭১ সালে এত মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ত না। আমার বিশ্বাস একটি দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজের দেশের সাফল্যে যেমন আনন্দে উল্লসিত হয়, আবেগে আপ্লুত হয় তেমনি দেশের ব্যর্থতায় বেদনায় কাতর হয়, হতাশায় জর্জরিত হয়।
১/১১র পট পরিবর্তনের পর ভেবেছিলাম আমাদের দেশের রাজনীতিতে, দেশ পরিচালনায় নতুন সরকারের মধ্যে একটা আমূল পরিবর্তন আসবে। আমরা সাধারণ জনগণ নতুন আশা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলাম, আছি, থাকব। কিন্তু কয়লা ধুলে যে ময়লা যায় না এই সত্যকে অস্বীকার করার তো কোন উপায় নেই।
আমি খুব বেশী কিছু নিয়ে আমার লেখাটুকু দীর্ঘায়িত করব না। শুধু একটি বিষয় এখানে তুলে ধরতে চাচ্ছি। এই কথাটি আমরা সবাই কম বেশী জানি ‍‍‌ '' বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলে পরিচয়" কিন্তু আমাদের দেশে নাম নিয়ে এত মাতামাতি আর টানা হ্যাচড়া যে বৃক্ষ আর ফলের জীবন সারা।
সরকার পরিবর্তনের সাথে নামের পরির্তনের রেওয়াজটা যেন সব সরকারের একটা ফরয কাজ হয়ে গেছে। এই পরিবর্তন করে তারা কোন উদ্দেশ্যকে হাসিল করতে চান তা ভেবে পাইনা। তারা কি মনে করেন নাম দিলে মানুষ বেশী মনে রাখবে আর শ্রদ্ধাবনত চিত্তে সারা জনম ভক্তি করবে? শ্রদ্ধা, ভক্তি, ভালবাসা এসব মানবিক বোধগুলোকি জোর করে আদায় করা যায়। শ্রদ্ধা, ভক্তি, ভালবাসা জানানো আর স্মরণীয় করে রাখার জন্যই যদি তাদের উদ্দেশ্য হয় তাহলে পূর্ববর্তি সরকার যেই নাম গুলো রেখে যায় পরবর্তি সরকার এসে সেগুলো মুছে দিয়ে মানুষের মন থেকেও কি সেই শ্রদ্ধা ভক্তিকে মুছে দিতে চান। তাদের মাথায় কি এতটুকু বোধ নেই কারো শ্রদ্ধা ভালবাসা পেতে হলে অন্যকেও শ্রদ্ধা সম্মান করতে হয়। পুরনো নাম থাকলে কি ক্ষতি ? আর নতুন হলেই বা দেশের বা জনগণের কি লাভ !? একটি জায়গার নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম কিংবা স্থাপনার যখন নাম করণ করা হয় তখন সেই নামকরনের সাথে সেই বিষয়টির সম্পৃক্ততা কতটুকু আছে বা কোন ব্যাক্তির নামে যখন রাখা হবে সেই ব্যাক্তির সাথে সেই প্রতিষ্ঠানের বা জায়গায় কিংবা স্থাপনায় তাঁর অবদান কতটুকু আছে সেটি অবশ্যই বিবেচ্য হওয়া উচিত। তা হলেই সেই নাম করণে সার্থকতা এবং গ্রহণ যোগ্যতা থাকে। কিন্তু আমাদের সরকার গুলো কি সেই বোধটুকু আছে ? জনগণ কি তাদের ভোট দিয়ে সব ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছে, যে যা ইচ্ছা তারা তাই করে বেড়াবেন? জানি না কোন চামচাদের প্ররোচনায় সরকারগুলো নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি এ দেশে চালু করল। তাদের একবার ভেবে দেখা উচিত এই নাম নিয়ে টানা হ্যাচড়া জনগণ কতটুকু সমর্থন করে। দেশ পরিচালনার যেই গুরু দায়িত্ব জনগণ তাদের দিয়েছে সেই দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে তারা কতটুকু পালন করছেন তার হিসাব করে তার পুরস্কারতো জনগণ একসময় ঠিকই বুঝিয়ে দেবে।
দুঃখ হয়, আমাদের সরকারগুলো ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না। তারা বার বার পূর্বসুরীদের বিতর্কিত বিষয়গুলোকেই অনুসরণ আর অনুকরণ করেন। জানি না কেন তারা পুরনো ধ্যান ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না। কেন তারা তৈল মর্দনকারীদের এত পছন্দ করেন ? আমরা আর কবে দেশের সাধারণ জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন দেখতে পাব তাদের কর্মকান্ডে? যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন কি শুধু আশায় বুক বেঁধে আলেয়ার পেছনেই আমরা ছুটে বেড়াব? আর কখনও কি আসবে ৭১ এর মত সময়, যখন সরকারী দল বিরোধী দল ভুলে গিয়ে দেশের জনগণের সাথে এক কাতারে দাঁড়িয়ে দেশের উন্নয়নে হাতে হাতে রেখে সবাই কাজ করবে। জানি এ এক অবাস্তব কল্পনা আমার। তাইতো দেশটাকে বড় অভাগা মনে হয়। শুধু ভাবি যারা দেশের জন্য চিন্তা করে তারা কাজ করার সুযোগ পায় না। আর যাদেরকে তারা সে সুযোগটুকু করে দেয় সেই মানুষ গুলো সেই সুযোগগুলোকে দেশের কাজে লাগায় না।







৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×