গুলশান ও বনানীতে নামে-বেনামে সুরম্য বাড়ি, প্লট, নোয়াখালী ও কক্সবাজারে নামে-বেনামে শত শত একর জমি, ডান্ডি ডাইং, কোকো লঞ্চ, অসংখ্য ফ্যাক্টরি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎস কি: আওয়ামী লীগ
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে জমা দেয়া সম্পদ বিবরণীর সঙ্গে তার বিত্ত-বৈভবের মিল আছে কি না সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার। খালেদা জিয়ার আয়ের উৎস, তার বিপুল সম্পদ এবং তার এই জমাকৃত সম্পদ বিবরণীর সঙ্গে জীবন ধারণের কি পরিমাণ ব্যবধান রয়েছে তা খতিয়ে দেখার জন্য উলিৱখিত সংস্থাগুলোকে আমরা পুনর্বার অনুরোধ জানাচ্ছি। গতকাল রাজধানীর ধানমণ্ডিতে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, আহমদ হোসেন, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মৃণাল কান্তি দাস, আফজাল হোসেন প্রমুখ।
বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ির সম্পদের একটি তালিকা উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ করেছেন আশরাফ। তিনি মনে করেন, খালেদা জিয়ার ‘বিলাসী জীবনকে’ আড়াল করে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নদিকে ফেরানোর জন্য গত ১০ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। দলীয়নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যটি খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন তোতা পাখির মতো পাঠ করেছেন। বিএনপি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র কম্পিউটার বিজ্ঞানী সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে সর্বৈব মিথ্যা, কল্পিত ও মনগড়া বক্তব্য রেখেছেন। অকাট্য যুক্তি ও তথ্য প্রমাণ ছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য দেয়া থেকে বিএনপিকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানান তিনি। সৈয়দ আশরাফ প্রশ্ন তুলে বলেন,
বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যয়-বহুল আয়েশী জীবন-যাপনের তথ্যচিত্র দেখে শুধু বাংলাদেশের জনগণই নয়, সারা পৃথিবীর মানুষও বিস্ময়ে হতবাক হয়েছে। জনগণের কাছে উত্তর দিতে হবে কিভাবে, কোন আয় থেকে খালেদা জিয়া এ ধরনের বিলাসী জীবন-যাপন করতে পারেন? বেগম জিয়ার আয়ের উৎস জানতে চাওয়ায় দোষ কোথায়? আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সার্থকরূপে ধারণ করেই আয়ের উৎস জানতে চেয়েছেন। সৈয়দ আশরাফ খালেদা জিয়ার সম্পদের একটি দীর্ঘ তালিকা দেখিয়ে বলেন, বাড়িটিতে মোট ৪৫টি সুসজ্জিত কামরা, ১২টির বেশি বাথরুম ও ৪টি রান্নাঘর ছিল। এই বাড়ি থেকে ২৯টি বড় বড় কাভার্ডভ্যানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মালামাল তিনি স্থানান্তর করেছেন। বাড়িটিতে ৬৪টি এসি, ২০টি রঙিন টেলিভিশন ও এলসিডি, ১৭টি ফ্রিজ, ৭১টি সোফা সেট, ১০টি গিজার, দামি থাই অ্যালুমিনিয়াম গ্লাস, ব্যয়বহুল স্লাইডিং ডোর, দুর্লভ ডিজাইনের দরজা, কমোড, বেসিন, আয়না, ওয়ালমার্ক, বুকসেলফ, শাওয়ার বাঙ্ক, দামি বাথটাব, দুর্লভ মার্বেল সেট, মূল্যবান পাথরখচিত ঝাড়বাতি, বাথরুম ফিটিংসসহ অসংখ্য মহামূল্যবান জিনিসপত্র যা তিনি সবই নিয়ে গেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিনিধির স্বাক্ষরিত তালিকা থেকেই এই জিনিসপত্রের খতিয়ান পাওয়া যায়। উলিৱখিত এই তালিকাটি কি তারা অস্বীকার করতে পারবেন? এছাড়া লোকচক্ষুর অন্তরালে অগোচরে কি পরিমাণ মণি-মুক্তা-রত্ন ভাণ্ডার সরিয়ে নিয়েছেন তা হয়তো কোনদিনই কেউ জানতে পারবে না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, খালেদা জিয়া ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার কিছুদিন আগে বিশেষ বিমান যোগে ৩৫২টি স্যুটকেস ও লাগেজে যে ধন-সম্পদ সৌদি আরবে পাচার করেছিলেন এবং ঐ সময়ের পত্র-পত্রিকায় তা প্রচার হয়েছিল এর জবাব খালেদা জিয়া কি দেবেন?
বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়ির উৎস
এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, এটি বঙ্গবন্ধু জাদুঘর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন আকস্মিকভাবে সপরিবারে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়, তখন জাতির জনকের পরিবারের কি পরিমাণ সম্পদ ছিল সেই বাড়িতে, ব্যাংক একাউন্টে কত টাকা ছিল, তা নিশ্চয়ই তাদের জানার বাইরে নয়। ৩২ নম্বর ধানমণ্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন দেখতে চান? বাংলাদেশে একমাত্র শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পৈত্রিক সম্পত্তি দেশবাসীকে উৎসর্গ করে ট্রাস্ট বানিয়েছে। স্বীয় ভোগ দখলে রাখেনি। এ দৃষ্টান্ত আর কি কেউ দেখাতে পারবে! ৩২ নম্বর বাড়ি কিভাবে হলো? তিনি বলেন, এই প্রসঙ্গে বিএনপি নেতাদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতে চাই, তখন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান হিসেবে কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে বঙ্গবন্ধু পড়াশোনা করতেন। তার পিতা সরকারি চাকরি করতেন। যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন পেনশন পেয়েছেন। তদানীন্তন সময়ে খুবই সীমিত পরিবারের ছেলেকে কলকাতায় রেখে লেখাপড়া করাবার আর্থিক সংগতি ছিল। তিনি যে রাজনীতি করতেন সে অর্থও পিতা যোগান দিতেন। বঙ্গবন্ধুর পৈত্রিক ভিটা টুঙ্গীপাড়ার বাড়ি-ঘরে ১৯৭১ সালে পাক-হানাদার বাহিনী অগ্নিসংযোগ করে। তারপরও এখন পর্যন্ত ১৮৫৪ সালে নির্মিত বসতবাড়ি, দালানকোঠা বিদ্যমান রয়েছে। বঙ্গবন্ধু ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৫৬ সালেও তিনি মন্ত্রী হন। টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। আলফা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি ঢাকা শাখার প্রধান ছিলেন। তারপরের ইতিহাস সকলেরই জানা। তিনি যখন মন্ত্রী তখন অনেকে ঢাকা আসার সুযোগও পাননি।
বিএনপি জানে না বঙ্গবন্ধুর আমলে টিন নাম্বার ছিল কিনা!
সৈয়দ আশরাফ বলেন, বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় পুত্র শেখ জামাল ইংল্যান্ড-এর মিলিটারি একাডেমি স্যান্টহাস্টে পড়তে যান। নিজের খরচ চালাতে দোকানে সেলসম্যানের চাকুরি করেন। জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর পুত্র হয়েও নিজে চাকুরি করে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
বঙ্গবন্ধুর আয়করের টিন নাম্বার জানতে চেয়ে বিএনপি একদিকে দেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানানোর ব্যর্থ অপচেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে তারা চরম অজ্ঞতা ও মূর্খতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের জানা থাকা উচিত আয়করের টিন নাম্বারের প্রচলন নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু হয়েছে। সৈয়দ আশরাফ বলেন, বিএনপি নেতৃবৃন্দের মিথ্যাচার ও উর্বর মস্তিষ্কের কল্পনা এমনই এক স্তরে পৌঁছেছে যে, তারা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা সম্পর্কেও বিকৃত মিথ্যাচার করতে পিছপা হননি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা ১৯৭৬ সাল থেকে লন্ডনে চাকুরি করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তাঁর সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয় ও সংসার নির্বাহ করছেন।
এম এ ওয়াজেদ মিয়ার বাড়ির তথ্য আয়কর ফাইলে রয়েছে
সৈয়দ আশরাফ বলেন, বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিশ্বখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী মরহুম ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ও তার বাড়ি সুধাসদনকে নিয়ে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেছেন। তিনি একজন পরমাণু বিজ্ঞানী ছিলেন। আন্তর্জাতিক এটমিক এনার্জি কমিশনের কাজে ভারত, পাকিস্তান, ইতালি, ইংল্যান্ড, ভিয়েনা, জার্মানিসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষকতা করেছেন। এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও পদে আসীন থেকে বৈধভাবে যে অর্থ উপার্জন করেছেন তার দ্বারা দেশে বিদেশে একাধিক বাড়ি নির্মাণ করা ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু তিনি তা না করে সৎ পথের উপার্জিত অর্থ, পারিবারিক আয়, গৃহ নির্মাণ সংস্থা ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি সুধাসদন নির্মাণ করেছিলেন। সুধাসদন নির্মিত হবার পর বাড়ি ভাড়া দিয়ে হাউজ বিল্ডিং ও ব্যাংকের লোন পরিশোধ করা হয়েছে। যার সমস্ত তথ্য তার আয়কর ফাইলে প্রদর্শন করা হয়েছে।
সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কেও কুৎসিত মন্তব্য বিএনপির
সৈয়দ আশরাফ এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় ভাতা নিয়েও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র বিশিষ্ট কম্পিউটার বিজ্ঞানী সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কেও অসত্য ও বানোয়াট মিথ্যাচার করতে ছাড়েনি। সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত একজন মেধাবী কম্পিউটার বিজ্ঞানী। বিশ্ববিখ্যাত হার্বার্ড বিশ্ববিদ্যালয় যা সারা পৃথিবীর মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে স্বপ্নের বিদ্যাপিঠ-সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সজীব ওয়াজেদ জয় উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেছেন। তাকে জড়িয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দের বক্তব্য নিতান্তই হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুর্ভাগ্যজনক। শিক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতা নিয়েও যে নেত্রীর সন্তানরা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার দরজা পর্যন্ত পার হতে পারেনি, তারাই পাশ্চাত্য শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষিত একজন প্রথিতযশা কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও হার্বার্ড গবেষক সম্পর্কে এ ধরনের কুৎসিত মন্তব্য করতে পারেন না।
View this link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


