মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী ওরফে গলাকাটা শাহজাহান
মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন নিখিল পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি এবং বর্তমান জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর উপস্থিতিতে স্থানীয় রাজাকাররা গলাকাটার পরেও প্রাণে বেঁচে যান পাবনা সাঁথিয়ার
বনগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী ওরফে গলাকাটা শাহজাহান। রাজাকাররা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। সেদিন তিনি মরেননি, এখনো বেঁচে আছেন। তার দু’চোখে এখনো সেদিনের সেই বর্বরতার দৃশ্য জাজ্বল্যমান। আজ স্বাধীন দেশে সেই বর্বরদের মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াতে দেখলে তিনি ক্রোধে ফেটে পড়েন। দেশ স্বাধীন হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলে অনেক কিছুই বদলে গেছে। স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে। দিন বদলের এ সময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী ওরফে গলাকাটা শাহজাহান মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, যার নির্দেশে সেই দিন তার গলাকাটা হয়েছিলো সে আজ জেলে বন্দি। যুদ্ধাপরাধী নিজামীর ফাঁসি দেখে মরতে চান তিনি। তিনি বলেন, নিজামীর ফাঁসি দেখে মরতে পারলেই আমার সারা জীবনের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হবে।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শাহজাহান আলীর বয়স ছিল ২০ বছর। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। ৭ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। যুদ্ধের সময় বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের মায়া ত্যাগ করে একাত্তরের ১৪ জুন ভারতে যান যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে। শিলিগুড়ি পাটিঘাটি এলাকায় ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে শাহজাহান আলী মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধ করেন পাবনার শানিকদিয়ার চর, ভারতীয় সীমান্ত এলাকা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯নং সেক্টরে। ১৯৭১’র ২৭ নভেম্বর শাহজাহান আলীসহ ১১ জন মুক্তিযোদ্ধাকে পাকিস্থানি সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে স্থানীয় আলবদর-আলশামস, রাজাকারদের হাতে তুলে দেয়। রাজাকাররা তাদের নিয়ে যায় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়িতে (বর্তমান বধ্যভূমি)। ধুলাউড়ির বর্তমান সেই বধ্যভূমিতে মতিউর রহমান নিজামীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন মুক্তিযোদ্ধারা। সে সময় নিজামী সাঁথিয়া এলাকার রাজাকার কমান্ডার সাত্তার, আফতাব, সালামসহ অন্যান্য রাজাকারদের নির্দেশ দেয় মুক্তিযোদ্ধাদের খতম করতে।
শাহজাহান বলেন, নিজামী সেদিন দাঁড়িয়ে থেকে বলেছিলেন, ‘এই শালাদের গলা কাট’। শাহজাহান আলী জানান, তাকে প্রথমে বুকে এবং বাম কানের নিচে বেয়নেট দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে নির্যাতন চালানো হয়। তিনি তখনও মরেননি দেখে সাত্তার রাজাকার তখন পাকসেনাদের উর্দু ভাষায় চেঁচিয়ে বলে, ‘ইয়ে সালা জিন্দা হ্যায়, সালেকো কুরবানি কর’। এরপর মাটিতে ফেলে নিজামীর নির্দেশে তার গলায় ছুরি চালানো হয়। কোনো কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে, কাউকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে রাজাকাররা। এ সময় ভাগ্যক্রমে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান মাজেদ ও মোসলেম নামে দুই মুক্তিযোদ্ধা।
নিজামীর নির্দেশেই পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধূলাউড়ির বধ্যভূমিতে রাজাকাররা একে একে হত্যা করে রঘুনাথপুর গ্রামের চাঁদ আলী বিশ্বাস, পদ্মবিলা গ্রামের খবির উদ্দিন, দ্বারা মিয়া, সুজানগরের শাহজাহান আলী, মহসিন উদ্দিন, আকতার আলম, মোকছেদ মিয়াসহ ৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। রাজাকাররা গলাকাটা অবস্থায় শাহজাহানকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। স্বাধীনতার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা করানো হয়। কিছুদিন আগে শাহজাহান বারডেম হাসপাতালে গলার অপারেশন করিয়েছেন।
সম্প্রতি আর্ন্তজাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা পাবনায় তদন্তে এলে নিজামীর কুকীর্তি সম্পর্কে শাহজাহান অনেক তথ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যও দিয়েছেন মানবতাবিরোধী হত্যাযজ্ঞের।
(শীর্ষ নিউজ) সময় তৎকালীন নিখিল পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি এবং বর্তমান জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর উপস্থিতিতে স্থানীয় রাজাকাররা গলাকাটার পরেও প্রাণে বেঁচে যান পাবনা সাঁথিয়ার
বনগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী ওরফে গলাকাটা শাহজাহান। রাজাকাররা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। সেদিন তিনি মরেননি, এখনো বেঁচে আছেন। তার দু’চোখে এখনো সেদিনের সেই বর্বরতার দৃশ্য জাজ্বল্যমান। আজ স্বাধীন দেশে সেই বর্বরদের মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াতে দেখলে তিনি ক্রোধে ফেটে পড়েন। দেশ স্বাধীন হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলে অনেক কিছুই বদলে গেছে। স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে। দিন বদলের এ সময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী ওরফে গলাকাটা শাহজাহান মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, যার নির্দেশে সেই দিন তার গলাকাটা হয়েছিলো সে আজ জেলে বন্দি। যুদ্ধাপরাধী নিজামীর ফাঁসি দেখে মরতে চান তিনি। তিনি বলেন, নিজামীর ফাঁসি দেখে মরতে পারলেই আমার সারা জীবনের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হবে।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শাহজাহান আলীর বয়স ছিল ২০ বছর। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। ৭ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। যুদ্ধের সময় বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের মায়া ত্যাগ করে একাত্তরের ১৪ জুন ভারতে যান যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে। শিলিগুড়ি পাটিঘাটি এলাকায় ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে শাহজাহান আলী মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধ করেন পাবনার শানিকদিয়ার চর, ভারতীয় সীমান্ত এলাকা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯নং সেক্টরে। ১৯৭১’র ২৭ নভেম্বর শাহজাহান আলীসহ ১১ জন মুক্তিযোদ্ধাকে পাকিস্থানি সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে স্থানীয় আলবদর-আলশামস, রাজাকারদের হাতে তুলে দেয়। রাজাকাররা তাদের নিয়ে যায় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়িতে (বর্তমান বধ্যভূমি)। ধুলাউড়ির বর্তমান সেই বধ্যভূমিতে মতিউর রহমান নিজামীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন মুক্তিযোদ্ধারা। সে সময় নিজামী সাঁথিয়া এলাকার রাজাকার কমান্ডার সাত্তার, আফতাব, সালামসহ অন্যান্য রাজাকারদের নির্দেশ দেয় মুক্তিযোদ্ধাদের খতম করতে।
শাহজাহান বলেন, নিজামী সেদিন দাঁড়িয়ে থেকে বলেছিলেন, ‘এই শালাদের গলা কাট’। শাহজাহান আলী জানান, তাকে প্রথমে বুকে এবং বাম কানের নিচে বেয়নেট দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে নির্যাতন চালানো হয়। তিনি তখনও মরেননি দেখে সাত্তার রাজাকার তখন পাকসেনাদের উর্দু ভাষায় চেঁচিয়ে বলে, ‘ইয়ে সালা জিন্দা হ্যায়, সালেকো কুরবানি কর’। এরপর মাটিতে ফেলে নিজামীর নির্দেশে তার গলায় ছুরি চালানো হয়। কোনো কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে, কাউকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে রাজাকাররা। এ সময় ভাগ্যক্রমে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান মাজেদ ও মোসলেম নামে দুই মুক্তিযোদ্ধা।
নিজামীর নির্দেশেই পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধূলাউড়ির বধ্যভূমিতে রাজাকাররা একে একে হত্যা করে রঘুনাথপুর গ্রামের চাঁদ আলী বিশ্বাস, পদ্মবিলা গ্রামের খবির উদ্দিন, দ্বারা মিয়া, সুজানগরের শাহজাহান আলী, মহসিন উদ্দিন, আকতার আলম, মোকছেদ মিয়াসহ ৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। রাজাকাররা গলাকাটা অবস্থায় শাহজাহানকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। স্বাধীনতার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা করানো হয়। কিছুদিন আগে শাহজাহান বারডেম হাসপাতালে গলার অপারেশন করিয়েছেন।
সম্প্রতি আর্ন্তজাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা পাবনায় তদন্তে এলে নিজামীর কুকীর্তি সম্পর্কে শাহজাহান অনেক তথ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যও দিয়েছেন মানবতাবিরোধী হত্যাযজ্ঞের।
(শীর্ষ নিউজ)
View this link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


