somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিজামীর ফাঁসির দাবি গলাকাটার পরও বেঁচে যাওয়া শাহজাহানের

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী ওরফে গলাকাটা শাহজাহান

মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন নিখিল পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি এবং বর্তমান জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর উপস্থিতিতে স্থানীয় রাজাকাররা গলাকাটার পরেও প্রাণে বেঁচে যান পাবনা সাঁথিয়ার
বনগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী ওরফে গলাকাটা শাহজাহান। রাজাকাররা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। সেদিন তিনি মরেননি, এখনো বেঁচে আছেন। তার দু’চোখে এখনো সেদিনের সেই বর্বরতার দৃশ্য জাজ্বল্যমান। আজ স্বাধীন দেশে সেই বর্বরদের মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াতে দেখলে তিনি ক্রোধে ফেটে পড়েন। দেশ স্বাধীন হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলে অনেক কিছুই বদলে গেছে। স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে। দিন বদলের এ সময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী ওরফে গলাকাটা শাহজাহান মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, যার নির্দেশে সেই দিন তার গলাকাটা হয়েছিলো সে আজ জেলে বন্দি। যুদ্ধাপরাধী নিজামীর ফাঁসি দেখে মরতে চান তিনি। তিনি বলেন, নিজামীর ফাঁসি দেখে মরতে পারলেই আমার সারা জীবনের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হবে।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শাহজাহান আলীর বয়স ছিল ২০ বছর। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। ৭ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। যুদ্ধের সময় বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের মায়া ত্যাগ করে একাত্তরের ১৪ জুন ভারতে যান যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে। শিলিগুড়ি পাটিঘাটি এলাকায় ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে শাহজাহান আলী মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধ করেন পাবনার শানিকদিয়ার চর, ভারতীয় সীমান্ত এলাকা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯নং সেক্টরে। ১৯৭১’র ২৭ নভেম্বর শাহজাহান আলীসহ ১১ জন মুক্তিযোদ্ধাকে পাকিস্থানি সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে স্থানীয় আলবদর-আলশামস, রাজাকারদের হাতে তুলে দেয়। রাজাকাররা তাদের নিয়ে যায় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়িতে (বর্তমান বধ্যভূমি)। ধুলাউড়ির বর্তমান সেই বধ্যভূমিতে মতিউর রহমান নিজামীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন মুক্তিযোদ্ধারা। সে সময় নিজামী সাঁথিয়া এলাকার রাজাকার কমান্ডার সাত্তার, আফতাব, সালামসহ অন্যান্য রাজাকারদের নির্দেশ দেয় মুক্তিযোদ্ধাদের খতম করতে।
শাহজাহান বলেন, নিজামী সেদিন দাঁড়িয়ে থেকে বলেছিলেন, ‘এই শালাদের গলা কাট’। শাহজাহান আলী জানান, তাকে প্রথমে বুকে এবং বাম কানের নিচে বেয়নেট দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে নির্যাতন চালানো হয়। তিনি তখনও মরেননি দেখে সাত্তার রাজাকার তখন পাকসেনাদের উর্দু ভাষায় চেঁচিয়ে বলে, ‘ইয়ে সালা জিন্দা হ্যায়, সালেকো কুরবানি কর’। এরপর মাটিতে ফেলে নিজামীর নির্দেশে তার গলায় ছুরি চালানো হয়। কোনো কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে, কাউকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে রাজাকাররা। এ সময় ভাগ্যক্রমে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান মাজেদ ও মোসলেম নামে দুই মুক্তিযোদ্ধা।
নিজামীর নির্দেশেই পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধূলাউড়ির বধ্যভূমিতে রাজাকাররা একে একে হত্যা করে রঘুনাথপুর গ্রামের চাঁদ আলী বিশ্বাস, পদ্মবিলা গ্রামের খবির উদ্দিন, দ্বারা মিয়া, সুজানগরের শাহজাহান আলী, মহসিন উদ্দিন, আকতার আলম, মোকছেদ মিয়াসহ ৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। রাজাকাররা গলাকাটা অবস্থায় শাহজাহানকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। স্বাধীনতার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা করানো হয়। কিছুদিন আগে শাহজাহান বারডেম হাসপাতালে গলার অপারেশন করিয়েছেন।
সম্প্রতি আর্ন্তজাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা পাবনায় তদন্তে এলে নিজামীর কুকীর্তি সম্পর্কে শাহজাহান অনেক তথ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যও দিয়েছেন মানবতাবিরোধী হত্যাযজ্ঞের।
(শীর্ষ নিউজ) সময় তৎকালীন নিখিল পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি এবং বর্তমান জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর উপস্থিতিতে স্থানীয় রাজাকাররা গলাকাটার পরেও প্রাণে বেঁচে যান পাবনা সাঁথিয়ার
বনগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী ওরফে গলাকাটা শাহজাহান। রাজাকাররা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। সেদিন তিনি মরেননি, এখনো বেঁচে আছেন। তার দু’চোখে এখনো সেদিনের সেই বর্বরতার দৃশ্য জাজ্বল্যমান। আজ স্বাধীন দেশে সেই বর্বরদের মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াতে দেখলে তিনি ক্রোধে ফেটে পড়েন। দেশ স্বাধীন হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলে অনেক কিছুই বদলে গেছে। স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে। দিন বদলের এ সময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী ওরফে গলাকাটা শাহজাহান মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, যার নির্দেশে সেই দিন তার গলাকাটা হয়েছিলো সে আজ জেলে বন্দি। যুদ্ধাপরাধী নিজামীর ফাঁসি দেখে মরতে চান তিনি। তিনি বলেন, নিজামীর ফাঁসি দেখে মরতে পারলেই আমার সারা জীবনের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হবে।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শাহজাহান আলীর বয়স ছিল ২০ বছর। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। ৭ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। যুদ্ধের সময় বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের মায়া ত্যাগ করে একাত্তরের ১৪ জুন ভারতে যান যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে। শিলিগুড়ি পাটিঘাটি এলাকায় ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে শাহজাহান আলী মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধ করেন পাবনার শানিকদিয়ার চর, ভারতীয় সীমান্ত এলাকা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯নং সেক্টরে। ১৯৭১’র ২৭ নভেম্বর শাহজাহান আলীসহ ১১ জন মুক্তিযোদ্ধাকে পাকিস্থানি সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে স্থানীয় আলবদর-আলশামস, রাজাকারদের হাতে তুলে দেয়। রাজাকাররা তাদের নিয়ে যায় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়িতে (বর্তমান বধ্যভূমি)। ধুলাউড়ির বর্তমান সেই বধ্যভূমিতে মতিউর রহমান নিজামীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন মুক্তিযোদ্ধারা। সে সময় নিজামী সাঁথিয়া এলাকার রাজাকার কমান্ডার সাত্তার, আফতাব, সালামসহ অন্যান্য রাজাকারদের নির্দেশ দেয় মুক্তিযোদ্ধাদের খতম করতে।
শাহজাহান বলেন, নিজামী সেদিন দাঁড়িয়ে থেকে বলেছিলেন, ‘এই শালাদের গলা কাট’। শাহজাহান আলী জানান, তাকে প্রথমে বুকে এবং বাম কানের নিচে বেয়নেট দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে নির্যাতন চালানো হয়। তিনি তখনও মরেননি দেখে সাত্তার রাজাকার তখন পাকসেনাদের উর্দু ভাষায় চেঁচিয়ে বলে, ‘ইয়ে সালা জিন্দা হ্যায়, সালেকো কুরবানি কর’। এরপর মাটিতে ফেলে নিজামীর নির্দেশে তার গলায় ছুরি চালানো হয়। কোনো কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে, কাউকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে রাজাকাররা। এ সময় ভাগ্যক্রমে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান মাজেদ ও মোসলেম নামে দুই মুক্তিযোদ্ধা।
নিজামীর নির্দেশেই পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধূলাউড়ির বধ্যভূমিতে রাজাকাররা একে একে হত্যা করে রঘুনাথপুর গ্রামের চাঁদ আলী বিশ্বাস, পদ্মবিলা গ্রামের খবির উদ্দিন, দ্বারা মিয়া, সুজানগরের শাহজাহান আলী, মহসিন উদ্দিন, আকতার আলম, মোকছেদ মিয়াসহ ৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। রাজাকাররা গলাকাটা অবস্থায় শাহজাহানকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। স্বাধীনতার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা করানো হয়। কিছুদিন আগে শাহজাহান বারডেম হাসপাতালে গলার অপারেশন করিয়েছেন।
সম্প্রতি আর্ন্তজাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা পাবনায় তদন্তে এলে নিজামীর কুকীর্তি সম্পর্কে শাহজাহান অনেক তথ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যও দিয়েছেন মানবতাবিরোধী হত্যাযজ্ঞের।
(শীর্ষ নিউজ)
View this link
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×