somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিকভ্রান্ত মানবতা

২৪ শে মে, ২০১৪ রাত ৩:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৯৮ বন্যায় ভেসে গেল সব। অসহায় বাঙালির সেকি কষ্ট! চারিদিক দুর্ভিক্ষ। গ্রাম ছেড়ে অনেকের আশ্রয়স্থল ঢাকা। প্রবাদ প্রচলিত বলে কথা। "ঢাকায় টাকা উড়ে।" এ আশায় ঢাকায় এলো বহু মানুষ, তবে ঘটল বিপরিত। ঢাকার অবস্থাও ভালো নয়। রাস্তাগুলো ডুবে গেছে, ড্রেনের ময়লা পানি আর বন্যার পানি মিলে একাকার। সে এক করুণ ইতিহাস বৈকি! নৌকো দিয়েও চলা ফেরা করতে হয়েছে ঢাকাবাসীদের! তবে একে অন্যের সহায়তা করেনি তা কিন্তু নয়।
"খালাম্মা তিনদিন ধইরা ঢাহায় আইসি কিছুই খাই নাইগো, পোলাডা আমার হুগায়া কাঠ। পেডে পিডে মিশ্যা গেছে।" কুলের ছোট বাচ্চাটাকে দেখে মায়া হলো। মা খেতে দিলো, কিন্তু আশ্চর্য! খাচ্ছে না। পলিতে ভরে নিয়ে যাচ্ছে। মা জিগ্যেস করলেন, 'খাচ্ছেন না কেন? "মাগো ঘরে আমার স্বামীডা বড্ড অসুস্থ। পা দুইডা ফুইল্যা গেছে, ডাক্তর বেডায় কইল অনেক টাহা লাগব সারাইতে; ছুডো আরেকটা মাইয়্যার ডাইরিয়া হইছেগো, অরাতো উপোস! আমার পেডে কেমনে ভাত ঢুকব কওগো মা!" ঢাহায় আইছি কিছু করুম, বন্যা বইলা তাও কপালে জুটলো না। বেবাগতে মানা করে, গিন করে, কাজ দেয় না। ডুঁকরে কেঁদে উঠল মায়ের মন। তাকে আরো কিছু খাবার দিলেন।
এমন নিত্যদিন হরেক মানুষের দেখা মিলতো।
অসহায় মানবতা! বিপন্ন সব। বিভিন্ন এনজিওরা সেবার নামে যা নিয়ে এলো তা অভিষাপ! পার্বত্য এলাকাগুলোতে দলে দলে খৃস্টান হতে লাগল। আহা! আমরা কতইনা বেচারা! সুদের ব্যবসা করে কেউবা রক্ত চুষে নিল। "ঠিক মত টাকা দিতে না পারায়, নির্যাতনে নিস্পেষিত হয়ে আত্মহুতির পথ বেছে নেয়ার ঘটনা অহরহ চোখে পড়ত সে সময়।
ঢাকার মধ্যবৃত্তরা রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে। না পারে অন্যের কাছে হাত পাততে, না ভালোভাবে দু'মুঠো ভাত খেতে। খয়রাতি দেখলেই তাদের ভয়, না জানি কি চেয়ে বসে। মানুষগুলো অতি সরল ছিল। কেউ কিছু চাইলে না দিয়ে পারতো না। আবার অভাবও পিছু ছাড় ছিলো না।
সেই বন্যায় দিকভ্রান্ত এক ৬ বছরের ছেলে শাহ আলম হারিয়ে গেল। বাবা মাকে না খুঁজে পেয়ে উদ্ভ্রান্তের ন্যায় মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ফিরতে লাগল। আহা! কতইনা কষ্ট তার।
নামাজ পড়ে মনছুর চাচা বাড়ি ফিরছে। এই শুনো! বেটা তুমি কেনো কাঁদছো? "মা-বাবা কৈ জানি না, অনেক খিদা লাগছে।" ধুর বোকা! কাঁদে না। মেয়েছেলেরা কাঁদে, তুমি তো পুরুষ। "আমি বাচ্চামানুষ বড় না, পুরুষ তো অয় বড়রা।" মনছুর চাচা হেসে পারে না। ছেলেটিকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন।
সে সময় হাত ধরে সঙ্গ দিয়েছে, আজ ছেলেটির বয়স ২২ বছর। মনছুর চাচার আর কোন সন্তান নেই। এতো মমতা, এতো ভালোবাসা দিয়ে মানুষ করেছে কুড়িয়ে পাওয়া এই ছেলেটিকে। অন্য কেউ হলে কি এরূপ করত?
আদর্শ পিতা আজ নেই, আছে তার স্মৃতি।
বাবার রেখে যাওয়া বাড়িটি আজ "মনছুর প্রাথমিক বিদ্যালয়" নামে পরিচিত।
পুনশ্চ: ছেলেটি পারত মনুছুর চাচার টাকাগুলো আত্মসাত করতে। নিজে বাড়িতে অবস্থান করতে।
মনছুর চাচাও পারতেন কুড়িয়ে না আনতে। কিন্তু সবই সম্ভব হয়েছে। ইচ্ছে থাকলে আজও হবে! চাই কেবল মানবতা। মানবতা তুমি বড়ই দু:খিনি। নারায়নগঞ্জে বাস তোমার।
হতে পারে সবই বানোয়াট, কল্পিত। তবুও মানবতা নামে একটি শব্দ ছিল। যা আজ অনুপুস্থিত। গুম হত্যা এতো স্বপ্নেও ভাবা যেত না। আজ স্বপ্নেও দৌড়াতে হয়।
আমরা বাঙালি একটু শান্তির আশায়, আজ সেই হারিয়ে যাওয়া দিকভ্রান্ত শিশু। আছে কোন মনছুর চাচা!? আমাদের উত্তোলন করবে?
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুভি রিভিউ - ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা : দেশ ভাগের ট্র্যাজেডি আর হারিয়ে ফেলা প্রেমের অসাধারণ এক মেলবন্ধন 

লিখেছেন আলভী রহমান শোভন, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



একটা সময় হিন্দি মুভির বেশ ভক্ত ছিলাম। ভালো কোন হিন্দি মুভি রিলিজ পেলেই দেখে ফেলার চেষ্টা করতাম। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে হিন্দি মুভি তেমন দেখা হয়ে ওঠে না। বছরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়াঘর: কেস ফাইল #১৯৯৬ (দ্য লাস্ট রিল)

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২২


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ৯০-এর দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে দীর্ঘদিনের স্মৃতি, নস্টালজিয়া ও আলোচনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ইনভেস্টিগেটিভ থ্রিলার । গল্পে উল্লেখিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারখানা বাঁচাতে পারিনি, তাই মানুষকে অটো চালাতে হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪


বাংলাদেশে এখন এমন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকট চলছে, যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় বিদ্যুৎ না পেয়ে চাকরি হারিয়ে অটো রিকশা চালাচ্ছেন। সেই অটো আবার চার্জ দিতে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। যে বিদ্যুৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

খারাপটা কোথায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪


বিশ্বখাতায় নাম লিখিলাম পাগল
কবিতারা হেসেই মাঠে হয়ে যায় ছাগল;
ঘাস খাওয়া আনন্দটা অন্যরকম
তবু পাগল বলে কথা, পূর্ণিমায় যুগল;
আজ কাল হাঁটবাজারে হিংসাটা
কম মূ্ল্যেই বিক্রয় হচ্ছে! যোগোপযোগি
সময়টা পাগল ছাড়া চলেই না
লেখার খাতার দামটাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×