somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সন্ধ্যাবাতি
জ্বেলে দাও সন্ধ্যাবাতি

আমার প্রার্থনা - ১

০৯ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একদম পিচ্চিকালে মাকে নামাজে দাঁড়াতে দেখলেই সাথে সাথে দাঁড়ায় যেতাম। নামাজ ছিল 'আল্লা করা'। কিচ্ছু তো পারতাম না ছাই, শুধু শুধুই মুখ নাড়াতাম। 'ভিসুভিসুভিসু' এই টাইপের শব্দ করতো মা, আমিও ওরকম করতাম। বেশ ভালো লাগত শব্দটা।

মাঝে মাঝে বাবা নামাজ পড়াতো। পিছনে মা, আমি, ভাইয়া দাঁড়িয়ে যেতাম। প্রত্যেকটা বাসার কিছু 'ফ্যামিলি থিং' থাকে। হঠাৎ হঠাৎ এক সাথে নামাজ পড়াটা আমাদের বাসার জন্য ওরকমই ছিল।

তবে শখ করে নামাজ পড়ার দিন বেশিদিন থাকে নি। আরেকটু বড় হওয়ার পরে, যখন গন্ডিটা বাবা মাকে ছাড়িয়ে আরও ব্যাপ্তি পেয়েছে, টিভি কমিকস সব একটু একটু করে ঢুকে পড়েছে, ঘুমে মজা পেয়ে গিয়েছি, তখন থেকে নামাজে রাজ্যের আলসেমি।

তার থেকে আরেকটু বড় হওয়ার পরে আমার ত্যাড়া রগটার জন্ম হলো। কোন কিছু ভাল না লাগলে তা করা বন্ধ করে দিলাম। বকা দিয়ে তো কিছুই করানো যাবে না। নামাজ কেন পড়ব? না হলে আল্লাহ গুণাহ দিবে? সত্যি বলতে কি ওই উত্তর আমার কাছে গুরুত্ব হারিয়েছিল। আমাকে পিটুনির ভয়ে কিচ্ছু করানো যায় নি কোন কালেই।

নামাজ প্রথম কবে ভাল লেগেছিল মনে নেই সত্যি। তবে ততদিনে আমি বেশ বড়, বোদ্ধা, মোটামোটি পাকা। চোদ্দ পনের হবে বয়স। রমজানে সবাই রোজা রাখে, সেই সময়ে মনটা একটু ঝুঁকেছিল বোধ করি আল্লাহর দিকে। তখন একটা বই হাতে এসেছিল যাতে নামাজের কোথায় কি বলা হয় সব একে একে বলা। আমি অবাক হয়ে পড়ছিলাম খুব মনে আছে। সব সময় মা বাবা বলতো, নামাজ হচ্ছে আল্লাহর সাথে কথা বলা। কথাটা যে শাব্দিক অর্থেই ঠিক কতটুকু সত্য এর আগে সত্যিই বুঝি নি। একদম প্রথমে 'ইন্নি ওয়াজ যাহতু...' ওটা তো ইবরাহীমের দোআ। কত হাজার বছর আগে চাঁদ, সূর্য্য সব কিছুকে স্রষ্টা বলে ভুল করে শেষ মেষ যখন আল্লাহকে চিনেছিলেন, তখন তাঁর বলা কথাগুলো। কথাগুলো প্রতিবার নামাজে কেউ পরিপূর্ণ উপলব্ধির সাথে পড়লে গায়ে শিহরণ লাগার কথা। চোখ, মন শুকনো থাকার কথা না। আর সব কিছুকে অস্বীকার করে আল্লাহকে একক স্বত্তা হিসেবে সাক্ষী দেয়া--এক রকম প্রতিজ্ঞা বটে। তারচেয়েও বেশি করে হওয়া উচিত উপলব্ধির উচ্চারণ, যা সেদিনের আগে কখনও হয় নি।

একে একে নামাজের কোথায় কি পড়া হয় সব কিছুর বাংলা অর্থ আগে মুখস্ত করলাম। যাই নামাজে পড়া হয় তার শাব্দিক অর্থ বলতে না পারলেও মোটামোটি অর্থ এখনও বেশ বলতে পারব। তারপরে আরবি ঝালাইয়ে নামলাম। ততদিনে নিয়ত থেকে শুরু করে অনেক কিছুই ভুলে গিয়েছি, অনিয়মিত নামাজ পড়া এবং নামাজে অনাগ্রহের কারণে। দোআ কুনুত দ্বিতীয়বার শিখছিলাম যখন তখনের কথা মনে পড়ে এখনও হাসি পায়।

কুরআনের একটা বাক্য আছে, 'তাঁর স্মরণের সাথে সাথে অন্তরে প্রশান্তি আসে', কথাটার পূর্ণ অর্থ টের পেলাম, যেদিন প্রথম সত্যিকার অর্থে নামাজ পড়লাম, আমার প্রার্থনা করলাম সব অর্থ বুঝে। প্রতিটা মুহূর্তে স্নায়ু টান করে সেই একক স্বত্তার ধ্যান করে।

সিজদায় নাকি আল্লাহর সবচেয়ে কাছে থাকা হয়। অজানা ভালোবাসার বদ্ধ দুয়ার খুলে গেলে বুক ভরে কেমন টল টল করতে থাকে যে, সেদিন ওমন লাগছিল খুব।

যারা জীবনে একবারের জন্য হলেও নামাজকে পরিপূর্ন উপলব্ধির সাথে পড়তে পেরেছেন, তাদের চোখে পুরা নামাজ ব্যাপারটাই এক যান্ত্রিক আনুষ্ঠানিকতা বা অর্থহীন উঠা বসার চেয়ে অনেক অন্য রকম হয়ে ধরা দেয়ার কথা, সত্যিই।

(চলতেও পারে)

--------------------------------------------
ছবি কৃতজ্ঞতা : ফ্লীকারস
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:২৮
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×