অস্ট্রেলিয়ায় আমার 'মুখ/হাত ছাড়া আর সব ঢাকা' যেই পোশাক 'ঢিলা ঢালা' আর শালীনতার মানদন্ডে ভালভাবেই উতরে যায়, সেই পোশাক পড়ে জিয়া বিমানবন্দরে নেমে খুব খারাপ লাগছিল।
এতগুলো চোখের মাছের মত ড্যাব ড্যাবা দৃষ্টি দেখে খুব খারাপ লাগছিল, নিজেকে ভীষণ খোলামেলা মনে হচ্ছিল, ইচ্ছা হচ্ছিল কোথাও গিয়ে সত্যি 'বাংলাদেশী' বোরখা পড়ে আসি। আমি যত জন প্রবাসী 'হিজাবীর' সাথে কথা বলেছি, সবারই দেশে প্রথমবার ফিরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা এমনটা হয়েছে। সেই শেষ, এরপর থেকে সারাদিন বাসার ভিতর থাকব নিশ্চিত হওয়ার আগে পোশাক আশাকের ব্যপারে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতাম।
সে জন্যই বললাম, সংস্কৃতির সাথে সাথে হিজাবের একটু অদল বদল হয়ই। কিন্তু তাই বলে নূন্যতম সীমারেখাটুকু বদলায় না। অর্থ্যাত্ মুখ আর হাত ছাড়া সব ঢাকা।
এখন কথা হচ্ছে, কেউ যদি নিজেস্ব সমাজ, পরিবারের কনটেক্সটে 'পর্দা' করা শিখে নিজের জমকালো পোশাকের উপরে সাদামাটা কাপড়ের বোরখা পরে, হাতে পায়ে মোজা পরে, মুখ ঢেকে, তিন প্রস্থ কাপড় পরে, তাকে 'অদ্ভূত' বলার অধিকার আমাদের আছে তো?
কোথায় যেন এক ইউরোপীয়ানের কথা পড়ছিলাম। তিনি ভারতীয়দের শাড়ি পরা দেখে সেটাকে 'অদ্ভূত' বলেছেন। তিন গজ লম্বা কাপড়, তার নিচে আবার পেটিকোট আর ব্লাউজ নামের 'বাহুল্য'--এই ছিল ভদ্রমহিলার যুক্তি। স্বাভাবিক ভাবেই, আমার বেশ অফেন্ডেড লেগেছিল সেটা পড়ে--যত যাই হোক, অনেক গুলো মানুষের সংস্কৃতির অংশ কিছুকে নিয়ে কটাক্ষ করার অধিকার কি আছে? আমাদের বেড়ে ওঠা থেকে যত ভিন্ন ধর্মীই হোক? সেই সময়ে মনে হয়েছিল তিনি সংকীর্ণমনা, উদারতার সাথে দেখতে পাচ্ছেন না। 'কাপড়ের উপর কাপড়', বোরখার ব্যপারেও কেউ অমন কথা বললেও আমার একই ভাব ফিরে আসে।
আমি মুখ ঢেকে বোরখা পরি নি কখনও। কিন্তু আমার পরিচয় আছে মুখ ঢেকে, হাতে পায়ে মোজা পরে 'পর্দা' করা মেয়েদের সাথে। নিজেস্ব অধিকার সচেতন, খুব ভাল মানুষ মেয়েরা সব। মানুষগুলোকে আমার এক মুহূর্তের জন্যও অদ্ভূত মনে হয় নি। তাই, অমন মন্তব্য খারাপ লেগেছে সত্যি। একটু খেয়াল রাখা দরকার বোধ হয়, 'সহনশীলতা/উদারতা/মুক্তমনের' সংজ্ঞা যেন ক্ষেত্র বিশেষে বদলে না যায়!
(শেষ!)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



