somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শরীফ বিন ঈসমাইল
পৃথিবীটা আজ বড়ই অদ্ভূত মনে হয়, ভাতের অভাবে যখন মৃত্যুময় জীবন, চাঁদের আলোয় তবু বেঁচে থাকা! ব্যার্থ প্রেমে জীবননাশ যেখানে, আবার সিগারেটের ধোঁয়ায় জীবনের ছবি আঁকা ।

ব্রহ্মাণ্ড জেনে যাক “তুমিই আমার এক জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি”

২২ শে মে, ২০১৯ রাত ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




সেই ছেলেবেলা থেকেই আমি একটা নদী কিনতে চেয়েছিলাম,
ছোট্ট, ছিমছাম আর ধনুকের মত আঁকাবাঁকা একটা নদী।
যার বাঁকে বসে আমি অনায়াসেই গল্প বলে যাব।

সেই ভাবনায় আমি, একটা মাটির ব্যাংক কিনে নিলাম।
ঈদ কিংবা উৎসবে কড়কড়ে নতুন নোট ব্যাংকে পুরে রাখার সময় মনে মনে ভাবতাম-
“এটা আমার নদী কেনার সঞ্চয়”

আরো একটু বড় হয়ে মনে হলো-
আমার নদী নয়, একটা আকাশ চাই।
একটা নিঃসঙ্গ আকাশ চাই আমার, যেখানে গল্প বলার মন থাকবে না।
যার নীলে চোখ রেখে চুপচাপ নিঃসঙ্গ কাটিয়ে দেওয়া যাবে একটা জীবন!

আমার কিন্তু তখনো মাটির ব্যাংক টা ছিল।
ছিল কিছু একটা কিনে নেবার আকাঙ্খা,
শুধু পুরে রাখা নোটের অপর পিঠে ভাবনারা বদল হয়েছে।
তখন ভাবতাম-
'এটা আমার আকাশ কেনার সঞ্চয়।'

তার আরো বছর পাঁচেক পর-
হঠাৎ একদিন পাহাড় দেখে মনে হলো; আমার বোধহয় একটা পাহাড়-ই চাই।
ততদিনে আকাশ দেখে দেখে আমাতেও বসে গেছে কিছুটা আকাশের রং।
পাহাড়ের অমন ভাবলেশহীন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা দেখে,
আমার আকাশের বুকে ইচ্ছে হলো, পাহাড় কেনার।

ঠিক করলাম, নদী কিংবা আকাশ নয়,
আমি বরং একটা পাহাড়-ই কিনব।
কথা বলে জানলাম;
এক জীবনের ব্যাথার সঞ্চয়ই নাকি আস্ত একটা পাহাড়!

কি ভাবছেন!
পাহাড়টা আমি কিনে নিয়েছিলাম!
নাহ, সেদিন পাহাড় কিনে আমি ঠকে যাইনি জীবনের হাঁটে।
হাতছাড়া হয়ে যায়নি নদী আর আকাশ-টাও।

তারপর হঠাৎ এক শরতে
মাধরী লতাকে দেখেই মুলত আমি জেনেছিলাম-
একটা মানুষ কেমন করে নিজের ভেতর ধারন করে পুরো একটি নদী,
আস্ত একটা আকাশ আর পাহাড়।

আমি সেদিন আমার বুকের ভিতর জমানো মাটির ব্যাংকের
সবটুকু সঞ্চয়ের বিনিময়ে জিতে নিয়েছিলাম মাধবী নামক আস্ত একটা পৃথিবী,
যার সমার্থক শব্দ- 'লতা' নামক ব্যক্তিগত একটা নদী,
একটা পাহাড়, আর পুরো একটা আকাশ।

হাজারো মন কষাকষির হিসেব শেষে এই সিদ্ধান্তে পৌছলাম যে,

“লতা আমার এক জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি,
লতা আমার মাথা উঁচাবার পাহাড়চূড়া,
লতা আমার গল্প বলা আকাবাকা নদী,
লতা আমার নির্ভরতার বিশাল এক আকাশ,
লতা আমার ধূসর চোখে নীলচে সাদা,
আর স্বপ্ন আঁকার মিঠে অবকাশ”


সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০১৯ রাত ২:২০
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরম শ্রদ্ধায় ও স্মরণে ড. সলিম আলি !

লিখেছেন নেক্সাস, ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৪

ছোটবেলা থেকে আমি পাখি প্রেমিক। তখন অবুঝ মনের এই পাখি প্রেম ছিল অনেকটাই পাখির প্রতি অমানবিক এবং ক্ষতিকর। কারণ তখন আমরা গ্রামের দস্যি ছেলেরা মিলে পাখির বাসা খুঁজতাম, পাখির বাচ্চা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মাদ্রাসা জীবন-০৪

লিখেছেন হাবিব স্যার, ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৬



আমার মাদ্রাসা জীবন-০৩

ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শ্রেণিতে উঠলাম। ক্লাসের মধ্যে প্রথম হওয়া কেউ ঠেকাতে পারলো না। শুধু নিজের ক্লাশ নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত মেধা তালিকাতেও প্রথম হওয়ার সুবাদে সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার চাদগাজী ,আপনি ভাল আছেন নিশ্চই ?

লিখেছেন নতুন বাঙ্গাল, ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৮



আমি চাদগাজী সাহেবকে চিনি বিগত ৭ বছরের বেশি সময় ধরে। পরিচয়টা 'আমার ব্লগে' যেখানে উনি 'ফারমার' নিকে লিখতেন। আমি উনার লিখা নিয়মিত পরতাম কারন উনার চিন্তাধারায় একটা ভিন্নতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিয়াজ কথন

লিখেছেন জুন, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:১৫

.

একটু আগে কর্তা মশাই বাজার থেকে ফোন করলো "শোনো পিয়াজের কেজি দুইশ টাকা, দেশী পিয়াজ আধা কেজি আনবো কি"?
'না না না কোন দরকার নাই বাসায় এখনো বড় বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝলমলে সোভিয়েত শৈশব: বিপদ তারণ পাঁচন

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০৪



শুভ অপরাহ্ন। এই দুপুরে ঘুমঘুম চোখে খুব সহজেই কিন্তু শৈশবে ফিরে যাওয়া যায়। আমার দিব্যি মনে আছে দুপুরের খাওয়ার পর রাশিয়ান বই পড়তে পড়তেই ঘুমিয়ে যেতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×