somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডুব: অনু গল্প

১৯ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মরিয়ম শুইয়া রইসে মেঝেতে। ঠিক বুঝতে পারে না সে কোই শুইয়া আছে। শরীরে ঠিক সাড়া দেয় না। তয় বুঝবার পারে যে সে শুইয়া রইছে। চোখের সামনে উজ্জ্বল আলো। উজ্জ্বল আর সাদা। এইটারে কি বেহেস্তি নূর কওন যায়? কে জানে?...যেখানে সে কখনও যায় নাই সে বিষয়ে সে কি ভাবে নিশ্চিত হইবো? মাঝে মাঝে কিছু ছায়া আইসা চোখের সাদা আলোটারে ঢাইকা দিতাছে। ছায়াটা কিসের সে বুঝবার পারে না। তয় চোখের খুব কাছে আইলে বুঝতে পারে যে ওইটা একটা মানুষের মুখের আকার। খুব ঘষা কাঁচের ভিতর দিয়া তাকাইলে যেরম লাগে ঠিক সেরম। কানে অন্য কোন শব্দ শুনতে পায়না না সে। শুধু কেমন যেন শোঁ শোঁ আওয়াজ। মরিয়মের মনে হয় সে কেমন জানি গভীর পানিতে তলায় যাইতাছে।

সে মনে করতে পারে...বাচ্চা কালে...যখন বয়স পাঁচ কি ছয়...তখন...ওদের গ্রামের পাশ দিয়া ছাপায় চলা যে গাং, তাতে সাঁতার দিবার কালে একবার ডুবতে ধরছিল। শরাফত চাচার পোলা নান্দু...তার থেকে আট/নয় বছরের বড়, ঝাপ দিয়া তারে তুইলা নিয়া আসছিল। ডুবনের মুহূর্তে যেমন মনে হইতেছিল...এখন সেরমই লাগতেছে।

নান্দু যখন তারে লইয়া উঠায় নিয়া আসে তখন মরিয়মের ঞ্জান নাই। পরে যখন ঞ্জান আইলো...হায়রে বাপের গাইল...মা সেদিন আড়াল না দিলে মনে হয় গাইল খাইয়াই মইরা যাইত। এর পর থেই ক্যা নান্দুর সামনে যাইতে মরিয়মের লজ্জা লাগতো। এক সময় মরিয়ম বড় হইলো। বড় হইলে সে বুঝলো মানুষটারে তার মনে ধরছে সেই বাচ্চা কালেই। আহ্‌...হায়রে স্বপন। মরিয়ম আবার ডুবতে থাকে।

মরিয়মের চোখের সাদা আলোটা উজ্জ্বলতা হারাইতেছে প্রতি মুহূর্তে। মরিয়ম কিছু চিন্তা করবার পারে না। তার পায়ে কেউ যেন চল্লিশ মইন্যা কলসি বাইন্ধ্যা দিছে। মরিয়ম যেন ডুইবা যাইতাছে...

মরিয়ম চোখের কাছে ছায়া টের পায়। কিন্তু মাইনসের চেহারা তো মনে হয় না! কুত্তা নাকি? মরিয়মের চউখের পাতা কাইপা উঠে। শেষ পর্যন্ত কুত্তা আইসা মুখ সুক্‌তাসে! এক কুত্তারে তো এই জীবনে সামাল দিতে পারলো না...

“এ্যাই যাহ্‌...যাহ্‌...কুত্তার বাচ্চা...কুত্তা...” একটা আধলা ইট তুইল্যা কুত্তার দিকে ছুঁইরা মারে মরিয়মের বাপ। মরিয়মের মা একটা ওয়ার্ডের দরজার পাশে আঁচলে মুখ ঢাইকা কাইপা কাইপা নিঃশব্দে কাইন্দা উঠে।

“বিষ খাইসে কখন?” হাসপাতালের এক চ্যাংড়া ডাক্তার প্রশ্ন করে মরিয়মের বাপকে।
“আইজ ভোরে, ছার”
“ভোরে!?! মিয়া, ভোরে বিষ খাইসে আর তুমি এরে লইয়া আইসো এখন... দুপুর দেড়টার সময়?...যত্তসব... বিষ খাইসে ক্যান?”
ময়নার বাপ ডুকরাইয়া কাইন্দা উঠে... “ওর বিয়ার সময় পঞ্চাশ হাজার ট্যাকা দিবার কথা ছিল জামাই হারামজাদারে...পারিনাই গো ছার...পারি নাই...মাইয়্যা আইজ আমারে সমাধান দিছে...আহ্‌হা রে খোদা...”
“সময় গেলে বুঝ হইয়া লাভ আছে?...যাগ্‌গে...এইটা তো পুলিশ কেস...এতো দেরিতে নিয়া আসছ...মুখ দিয়া তো ফেনা ভাঙতাসে...বাঁচাইতে পারবো কিনা জানিনা...চেষ্টা করতেছি...দেখি...”

মরিয়মের মাথা কিছুটা পরিষ্কার হইসে। সে বুঝে কোন কারণে কুত্তা টা তার কাছ থেই ক্যা পালাইসে। তার চোখের আলোটা আবারো ছায়ায় ঢাইকা যায়। কাছে আসলে বুঝে এইটা একটা বাচ্চা। হামাগুড়ি দিয়া তার মুখের কাছে আইসে। মরিয়মের পোলা। আট মাস বয়স। মরিয়মের দিকে চাইয়া মিট মিটাইয়া হাসি দেয়। পোলাটার এই এক অভ্যাস...ক্ষণে ক্ষণে হাসি দেয়। মরিয়ম পোলারে চিনবার পারে। পোলাটার জন্য মন মায়ায় ভইরা যায়। মরিয়ম পোলাটারে ছুঁইতে চায় কিন্তু হাতখান নড়াইতেই পারে না। কষ্টে মরিয়মের চোখ বাইযা পানি গড়ায় পড়ে। এই পোলাটারে ফেলাইয়া সে কেমনে ডুব দিব? পোলাটার হাসি দেইখাই তো সে সারা জীবন পার কইরা দিতে পারবো। মরিয়ম অসহায় হইয়া পড়ে। সে চউখ দুইখান জোর কইরা খুইলা রাখে। বেহেস্তি নূর তার চউখে জ্বালায় রাখতেই হইব। সে ডুব দিবো না। মইরা গেলেও না।

মরিয়মের পোলা হাসে। পোলাটার এই এক অভ্যাস...ক্ষণে ক্ষণে হাসি দেয়।


আগের কিছু লেখা...
ফেরাঃ অণু গল্প
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ২:০৩
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×