somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুগল্প

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ ভোর ৬:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিথিলা জানে, নিজে দেখতে আহামরি সুন্দর না হলেও একেবারে খারাপও না। অন্তত সামনে বসে থাকা যেকোনো ছেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মত সুন্দর। অথচ মুখোমুখি বসে থাকা লোকটি ওকেতো দেখছেই না বরং ও যে লোকটিকে দেখছে সেটাও পাত্তা দিচ্ছে না।

সাধারণত অপরিচিত কোনো ছেলে কোনো মেয়ের দিকে তাকালে মেয়েটা কপট রাগ দেখায় বা অস্বস্তি বোধ করার অভিনয় করে এটা মিথিলা জানে কারন ও নিজেও এমন করে মাঝে মাঝে। মনে মনে অবশ্য সব মেয়েই চায় সামনে বসা ছেলেটি তাকে দেখুক। অন্যদিকে কোনো মেয়ে যদি একটি ছেলের দিকে লক্ষ্য করে তবে ছেলেটির ভাব বেড়ে যায়। ছেলেটি এমন একটা ভাব করে জেনো সে পূর্ণিমার চাঁদের মালিক।

কিন্তু এই লোকটি ওকেও দেখছে না আবার ভাব ও নিচ্ছে না। ট্রেনে ওঠার পর থেকেই দেখছে লোকটি জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। মিথিলা ভেতরে ভেতরে অস্থির বোধ করছে। এই ধরনের অস্থিরতা মানুষকে ধীরে ধীরে রাগিয়ে দেয়। ও অনেক চেষ্টা করেও নিজেকে বোঝাতে পারছে না যে এভাবে রেগে যাওয়াটা ঠিক না।

বিষয়টা ভুলে থাকার জন্য মিথিলা অন্য পাশের জানলা দিয়ে বাইতে তাকাতে যাবে এমন সময় সামনে বসা লোকটি পা ওর পায়ের সাথে সামান্য একটু ঘষা খেলো।

-সরি আপু...
-হুহ... সুন্দরি মেয়ে দেখে ইচ্ছে করেই পা লাগিয়েছেন। ভেবেছেন আমি কিছু বুঝি না?
-না না আপু। আপনি ভুল বুঝতেছেন। আমি ইচ্ছে করে এটা করি নি।
-থাক আর সাফাই গাইতে হবে না। আমি বুঝি আপনারদের মত মানুষ কোনটা ইচ্ছে করে করেন আর কোনটা করেন না।
-আমি যদি আপনাকে প্রমান করে দেই যে আমি ইচ্ছে করে এটা করি নি, তাহলে...
-এটা আবার প্রমান করবেন কিভাবে? আচ্ছা ঠিক আছে যদি প্রমান করতে পারেন তাহলে আমি আপনাকে সরি বলব।

লোকটি তার শার্টের বুকপকেট থেকে একটি কার্ড বের করে এগিয়ে দিলো। মিথিলা হাত বাড়িয়ে কার্ডটি নিয়ে পড়লো। পড়ে অবাক চোখে লোকটির দিকে তাকিয়ে বলল,

-আপনি অন্ধ?
-জী...
-সত্যি আপনি আমাকে দেখছেন না?
-আপনার কাছে কি আমার আইডি কার্ডটি মিথ্যে মনে হচ্ছে?
-না তা না। তাহলে আমি যখন প্রথম এসে আপনার সামনে বসলাম তখন আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন। আবার পরে বললেন "সরি আপু"। কিভাবে বুঝলেন আপনার সামনে একটি মেয়ে বসে আছে?
-আপনি যখন এসেছেন, তখন খুব মিষ্টি একটা স্মেল আমি পেয়েছি। এমন স্মেলের পারফিউম সাধারণত টিপটাপ ছিমছাম মেয়েরাই বেশি পছন্দ করে।
-বাহ... আপনার ঘ্রান শক্তি তো যথেষ্ট ভালো!!
-আসলে ঈশ্বর যাকে অন্ধ করে দেন, তাকে তিনি অন্য অনুভূতিগুলো বাড়িয়ে দেন। লাইক ঘ্রান শক্তি, শ্রবণ শক্তি।
-আর কি বলতে পারবেন আপনি আমার সম্পর্কে?
-আপনি যখন এসে বসেছেন তখন একধরনের খসখস শব্দ হচ্ছিলো যা প্রমান করে আপনি একটা স্ত্রি করা মার দেয়া কাপড় পড়ে আছেন। কিন্তু আপনার কাপড় থেকে আসা হালকা পুরোনো একটা গন্ধ বলছে এই কাপড়টা আপনি অনেকদিন যত্ন করে রেখে দিয়েছিলেন। সম্ভবত কাপড়টি আপনার মায়ের। আপনি আপনার মা কে দেখতে যাচ্ছেন। তাই মায়ের দেওয়া কাপড়টি পরেছেন এবং আপনার মন খুব ভালো আজ। কারন যাদের মন খারাপ থাকে তারা অনেক ছোট ছোট বিষয় এড়িয়ে যায়। আপনার পায়ে আমার পা লাগাটা আপনি ইগ্নোর করতেন যদি আপনার মন খারাপ থাকতো।

এসময় ট্রেনটি একটি স্টেশনে এসে থামল। অন্য একটি ছেলে এসে লোকটিকে ধরে ধরে নিয়ে নিয়ে গেলো। যাবার আগে লোকটি বলল,

-আপনি অনেক সুন্দর। ভালো থাকবেন...

ট্রেন আবার চলা শুরু করলো। মিথিলা জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে আর মিনহাজ নামের অন্ধ লোকটির কথা ভাবছে। ভাবছে অন্ধরা শুধু বাহ্যিক ভাবে অন্ধ। মনের দিক থেকে অন্ধ নয়... অন্য দিকে চোখ ভালো এমন অনেক মানুষ মুখ দেখেও বুঝতে পারে না সামনে থাকা মানুষটির মানসিক অবস্থা কেমন...
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ ভোর ৬:৫৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পূর্বপুরুষের অপরাধের দায় বর্তমান জেনারেশনকে দেওয়া অন্যায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

"দোস্ত, ওরা আমাকে এক পাকিস্তানীর সাথে বন্ধুত্ব করতে বলছে যে কিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উলাটা-পাল্টা কথা বলেছে। আমি সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে রুম থেকে বের হয়ে এসেছি।" রাতেরবেলা দেখা হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ও আত্মহত্যা (তথ্য এআই দ্বারা যাচাইকৃত)

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:১৯

গত ১ বছরে বাংলাদেশে আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০ জনের মতো। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪০–৪১ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি।

বাংলাদেশে আত্মহত্যার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (২০২৫–২০২৬):
**মোট আত্মহত্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যত স্বপ্ন।

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭

পাঁচ বছর আগে এই গানটা লিখেছিলাম। আজ গানে 'পরিবর্তন' করলাম।
ঝগড়া করতে চাওয়া সব মানুষদের উৎসর্গ করছি। ;)



ভবিষ্যত সম্পূর্ণ একটা স্বপ্ন
যেখানে তুমি আমি বাধাহীন
আজকের দিনটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনে কিছু করা বলতে আসলে "প্রচুরস" টাকা কামানো বলে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৩ রা জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৯

স্কুলে যখন ছিলাম, তখন "প্রচুরস" শব্দটা আমরাই তৈরী করি। প্রচুর দিয়েও যখন যথেষ্ট বোঝানো যায় না, তখন "প্রচুরস" ব্যবহার করা হয়, প্রচুরের প্লুরাল আর কি।



আমার আব্বার বইয়ের দোকান ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পতনের অপেক্ষায়...

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০


(ছবিটার পুওর কোয়ালিটির জন্য দুঃখিত। নিজের তোলা এর চেয়ে ভালো কোন ছবি পেলে পরে এটা রিপ্লেস করে দিব)

আমরা এখন...
পাকাফল হয়ে হয়ে ঝুলে আছি,
ভূমিপানে নতমুখে,
পতনের অপেক্ষায়....... ...বাকিটুকু পড়ুন

×