দেবীহনন .....!
ছুটিকে আজ আমি ছুটি দিয়েই দেব। দেবই। আপনারা একটু দোয়া করবেন। কারণ ছৃুটি দেয়ার এই প্রসেসটা একটু ঝামেলাপুর্ণ এবং রিস্কি।
ও হ্যাঁ, ছুটির পরিচয়ই তো দেয়া হল না। দু’বছর হলো আমাদের সম্পর্কের আয়ু। ছুটি আমার বউ। আদর করে ওকে চাঁদবউ ডাকি। সোনাবউ ডাকি। মাঝে মাঝে দেবীও ডাকি। শুধু ডাকি বললে ভুল হবে, ওকে আমি দেবীর মত পূজাও করি। যেদিন সকালে আমার ঘুম ভাঙে আগে, আমি চুপিসারে উঠে বাগান থেকে দুটো ফুল তুলে আনি। একটা রাখি দেবীর পায়ের কাছে, আরেকটা মাথার কাছে। তখনই দেবীর ঘুম ভেঙে যায়। আর আমি আকুল নয়নে দেখি দেবীর চাঁদমুখখানি। মনে মনে বলি- দেবী, আমাকে ছেড়ে কোনোদিন তুমি চলে যেয়ো না।
আবার যেদিন ওর ঘুম ভাঙে আগে, সে তার শাড়ির আঁচল দিয়ে আমার মুখটা ডেকে দেয়। আমি তখন বুঝতে পারি, দেবী আমায় ডাকছে। মাঝে মাঝে ও আরেকটা কাজ করে। তা হলো, নিজে হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে হাতে কাঁচের চুড়ি পরে তারপর হাতদুটি আমার কানের কাছে এনে চুড়িতে রিনঝিন রিনঝিন ছন্দ তোলে। আর তখনি আমার দু’চোখ থেকে সাত রাজ্যের ঘুম ছুটে যায়। আমি চোখ মেলে দেখি আমার দেবীর হাসিমাখা মুখ!
কী সুন্দর চেহারা ওর! কী অপরূপ! যেন আফ্রোদিতি! যেন ভেনাস! দেবী আমাকে কত্তো ভালোবাসে, জানেন? চার মাস আগে বাইশ লাখ টাকা দিয়ে লাল রং-এর যে টয়োটা টা কিনলাম, ওটার ডাউন পেমেন্টের দশ লাখ টাকা তো ও-ই ম্যানেজ করেছিল ওর বাবার কাছ থেকে। অথচ, ওকে আমি তেমনটি কিছুই বলিনি। শুধু একরাতে বলেছিলাম- জান, আমাদের নিজেদের একটা গাড়ি হলে খুব দারুণ হত, তাই না? ডাউন পেমেন্টের টাকাটা যোগাড় হলে বাকি টাকা কিস্তিতে দিয়ে দিতে পারতাম।
ও বলল- তুমি পাশে থাকলে আমার গাড়ি-বাড়ি কিছুই প্রয়োজন নেই। ওসব বড়লোকি চিন্তভাবনা মাথায় ঢুকলে তুমি তখন আমায় ভুলে যাবে, আর টাকার নেশায় ব্যস্ত হয়ে পড়বে। এসবের কোনও প্রয়োজন নেই আমার। বেশ সুখেই তো আছি।
আমি আর কোনও কথাই বলিনি। অথচ, এর মাত্র তিন দিনের মাথায় অফিস থেকে আমাকে তুলে নিয়ে হাজির গাড়ির শো-রুমে। সাথে দশ লাখ টাকার একটি চেক।
গাড়ি কেনার পর হয়েছে আরেক জ্বালা। সকালে সে নিজ হাতে ড্রাইভ করে আমাকে অফিসে পৌঁছে দেবেই। কোন ছাড় নেই এতে। আবার অফিস থেকে ফেরার পথেও একই ঘটনা। মাঝে মাঝে অফিস শেষ হয় রাত ৮টা ৯টায়। ও ততণ পর্যন্ত অফিসের গেটে অপোয় থাকে ঠায়। তখন আমার ইচ্ছে করে বুকের পাঁজর হতে জানটাকে বের করে এনে অর্ঘ্য সাজিয়ে নিবেদন করি আমার দেবীর পায়ে! আচ্ছা, ও আমাকে এত ভালোবাসে কেন? আমি তো এর যোগ্য নই!
আরও কিছু পাগলামি আছে ওর, শুনবেন? আমি যখন ওকে বলিÑ একটু জল হবে ম্যাডাম? বড়ই তৃষ্ণা বুকে! অধিকাংশ সময়ই ও গ্লাসে ভরে পানি আনে না, পানি নিয়ে আসে অঞ্জলী ভরে। আর বেশ ভঙ্গি করে বলে, নিন জাঁহাপনা।
ওর এসব কান্ড দেখে আমার চোখ ভিজে ওঠে। ওকে তখন বুকে টেনে নেই, আর তৃষ্ণা মেটাই ওর নরম অধরে। একদিন দেবী করেছে কি জানেন? এক ঝুড়ি ফুল নিয়ে সোজা আমার অফিসে হাজির! টেবিলের সামনে এসে ‘দিস ইজ ফর ইউ স্যার, হ্যাভ এ নাইস ডে’ বলে ঝুড়িটা রেখে শান্ত ভঙ্গিতে বেরিয়ে গেল। ওর এমন আচরণের অর্থ খুঁজতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম, সেটা ছিল আমার জন্মদিন।
আরেকটা ঘটনা শুনুন। এই তো, মাস ছয়েক আগে প্রফেশনাল ট্রেনিং এ যোগ দিতে ঢাকা যাচ্ছি। পনেরো দিনের ট্রেনিং। কিন্তু ও আমাকে যেতে দেবে না। রওয়ানা দিতে যাব এমন সময় আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিল! সে কী কান্না! অতি আদুরে বালিকারা যেমন আপনজন কারও কাছ থেকে বকা খেলে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে, ঠিক সে রকম। ওর কান্না দেখে যে কেউ ভাববে যেন ঢাকা যাচ্ছি না, যাচ্ছি কোন্ না ভিন দেশে! অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে শান্ত করলাম ওকে। ওয়াদা করলাম প্রতিদিন কমপে পাঁচবার করে কল দেবো। তাতেও সে সন্তুষ্ট নয়। ওর দাবী হলো, প্রতিদিন একটা করে চিঠিও লিখতে হবে। চিঠির একটা শব্দ নাকি ফোনের হাজার শব্দের চেয়ে শক্তিশালী আর আবেগময়। তর্কে না গিয়ে রাজি হয়ে গেলাম ওর দাবিতে। সোফায় কিছুণ চুপচাপ বসে থেকে বললাম- একটু জল হবে, ম্যাডাম?
ও হেসে দিল এক ফালি। জল নিয়ে এল অঞ্জলী ভরে। আর হাত দুটি আমার দিকে এগিয়ে দিল। আমি অঞ্জলী হতে জল পান করে বিদায় নিলাম। সারাটা পথ গাড়িতে বসে বসে কাঁদলাম। এত কষ্ট হচ্ছিল আমার, যেন কেউ কলজেটাকে চিপে পানি করে দিচ্ছে! যেন আমার হৃদয়তন্ত্রী ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছে কেউ!
যেন নিঃসীম শূন্যতায় ডুবে যাচ্ছি আমি! সেদিন সত্যিকারার্থে বুঝতে পারলাম, দেবী আমার কত আপন। ঢাকা এসে ফ্রেশ হয়ে হাত-মুখ মুছতে গিয়ে দেখি ব্যাগের ভেতর তোয়ালের পাশে একটি রুমাল। নিপুণ হাতে সুঁইয়ের ফোঁড়ে দেবী লিখছে- শুনেছি ভালোবাসার মানুষকে রুমাল দিতে নেই। রুমাল হারিয়ে গেলে নাকি ভালোবাসাও হারিয়ে যায়। রুমালটি তুমি হারিয়ো না।
না থাক, আর বেশি বলা যাবে না আপনারদেরকে। কারণ তাতে আবার আমি দুর্বল হয়ে পড়তে পারি ওর প্রতি। তাতে প্ল্যানটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে আজও। শুধু বলিÑ দেবীর দেয়া রুমালটি আজ হারিয়ে গেছে। সে যাক। রুমাল হারিয়েছে, হারাক। আমার কী যায় আসে? আমি ব্যস্ত আমার প্লান নিয়ে। আমার আজকের এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না কিছুতেই। বোমাটিতে টাইম সেট করা হয়ে গেছে। সবকিছু ঠিকঠাক মতই লাগানো হয়েছে। একেবারে নিখুঁত প্রসেসিং। কোথাও কোনও ত্র“টি নেই। সব কিছু প্ল্যানওয়াইজ চলছে। আর বেশি দেরি নেই।
এই তো, মাত্র কয়েক মিনিট...!
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই
আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।
তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।