somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হঠাৎ বৃষ্টি .......!!

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রেম দিওয়ানালাইসিস রোগে আক্রান্ত আমার তাল বেতাল কর্মকান্ড আন্দাজ করতে পেরে প্রেম-বিশেষ-অজ্ঞ বন্ধুরা সবাই মিলে বসল জারুল তলায়। উদ্দেশ্য আমার গোষ্ঠি উদ্ধার। ইসমাইলের বক্তব্য দিয়ে শুরু হল। দেখ দোস্ত, হাড় কিপটেদের জন্য প্রেম নয়। প্রেম হল টাকার সরোবরে ভাসমান পদ্ম ... ও আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল। সুজাত মোহাম্মদ ভাই বলে খ্যাত আনোয়ার উল্লাহ ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল, প্রেম যদি করতেই চাস, মানি ব্যাগের স্বাস্থ্যটা আগে ভাল কর। খরচা পাতি করার অভ্যাস গড়ে তোল। পরবর্তী কথা হল, চেহারার যা অবস্থা তা আর বলতে চাইনা। তবে তোরে দেখলে মনে হয় ডারউইন বোধ হয় সত্যি কথাটাই বলেছিলেন। সুতরাং প্রেমের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হিসাবে গালে চড়-থাপ্পড় কিংবা হাই-হীলের বাড়ি এসব সহ্য করার অসীম মতা থাকতে হবে, দোস্ত। তানিম বলে উঠল, ও শালা তো মেয়েদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনা। তার আবার প্রেমের শখ! এ ব্যাপারে ইসমাইলের সুপরামর্শ হল মেয়েদের কসমেটিক্সের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে মাস ছ’য়েক কাজ করা। ওতে নাকি সাহস বাড়ে। মেয়েদের সাথে কথা বলতে আর হাঁটুতে কাঁপন ধরে না। বাকি কথাটা বলল রাসেল। ওর বক্তব্য হল, চেহারা থেকে গাধা গাধা ভাবটা যে ভাবেই হোক দূর করতে হবে। এ ব্যাপারে ওর বুদ্ধি হল, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাসি প্র্যাকটিস করা। মুখে যেন সবসময় রহস্যময় প্লাস আকর্ষণীয় একটা হাসি হাসি ভাব লেগে থাকে। আর গায়ের রঙটার ব্যাপারে সাইফুল-ইমরানের যৌথ বক্তব্য হল- দুধের সর, ছানা, কাঁচা হলুদ, ডাবের পানি হতে শুরু করে আলু-মরিচ, পিয়াজ, রসুন, যা যা পারিস লাগাতে থাক। পরিবর্তন একটা আসবেই। অতঃপর প্রেমের ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা শুরু করা যাবে। ধৈর্য্যরে চরম পরীক্ষা দিয়ে শুনলাম ওদের পরামর্শগুলো। কারণ প্রেম যে আমাকে করতেই হবে। সামিয়াকে দেখলেই যে আমার কোথায় যেন কেমন কেমন করে। প্রেমে পড়া রোগের ঘোরে আমি যে ওকে নিয়ে নানান রঙের স্বপ্ন বুনি। স্বপ্ন উড়াই নীল আকাশ জুড়ে।

সেদিন ওরা পকেটের শ’দুয়েক উদ্ধার করে তবেই ছাড়ল। এদিকে আমার সাধনা ও শুরু হল পুরোদমে। বিঘত পরিমান আয়নার সামনে দাঁড়ালে ওতে বাঁদর জাতীয় কিছু চোখে পড়ে বিধায় বড় আয়না কিনলাম। তাতে শুরু হল হাসি চর্চা। মুখে হলুদ চন্দন মাখা ও আরম্ভ করে দিলাম। এ খাতে বুয়ার বেতন ও বর্ধিত হল। সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো কসমেটিক্স এর দোকানে চাকরি। টিউশনীর সিডিউলের সাথে মিল রেখে ওটা মেলানো যাচ্ছিলনা কিছুতেই। কী আর করা! ইসমাইলের নতুন বুদ্ধিমত বুয়ার সাথেই ইনিয়ে বিনিয়ে নানা কথা বলা শুরু হল। জাস্ট প্র্যাকটিস। এখানে ও সমস্যা। বুয়া যেন কেমন কেমন দৃষ্টিতে তাকায়। মুখ টিপে হাসে। তবু সাধনা চলতে থাকল অবিরাম। প্রেমের পথে শত বাধা থাকবেই। সাহসের সাথে ডিঙ্গাতে হবে সে সব।

এক পর্যায়ে আবিষ্কার করলাম সামিয়া নয়, বরং বুয়াই আমার প্রেমে পড়তে যাচ্ছে। আমাকে দেখলে সে এখন নানান ভঙ্গিতে হাসে। টকটকে লাল লিপস্টিক মেখে মেসে রাঁধতে আসে আজকাল। বিনা দরকারে ও কথা বলার চেষ্টা করে। সে সব কথার ভঙ্গি ও ধরন আলাদা।

সেদিন আকাশে শ্রাবণের মেঘ। ছাতাটা ভাঁজ করতে করতে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে তৈরী হচিছলাম। বুয়া এসে বলল, আফনের লাইগ্যা আচার বানাইয়্যা আনছি। খাইবেন? সে সাথে বত্রিশ দন্ত প্রদর্শন। মনে মনে কপালের ফরটিন জেনারেশান উদ্ধার করতে করতে বের হলাম। শাটল ট্রেনে তিল ধারনের জায়গা নেই। কষ্টে শিষ্টে দাঁড়িয়ে আছি কোনমতে। হঠাৎ নজরে এল সামিয়া। বুকে ধড়াম ধড়াম শুরু হয়ে গেলো দুর্বার গতিতে। চরম তৃষ্ণা পেতে লাগল বুকের সাহারায়। হাঁটুর কাঁপুনিতে মনে হচ্ছিল যেন পুরো ট্রেনটা সহই উল্টে পড়ে যাব। তবু মনকে সাহস দিলাম। এমন হলে তো চলবে না! আমি না পুরুষ? বীরপুরষ! প্রেম আমাকে করতেই হবে। সফল হতেই হবে আমাকে। মুখে প্র্যাকটিস করা হাসি হাসি ভাবটা আনার চেষ্টাকালে ওর নজরে পড়ে গেলাম। সমস্ত সাহস সঞ্চার করে কাছে গেলাম ওর।
: কেমন আছ সামিয়া?
: ভাল। কিন্তু তোমার হয়েছেটা কি? অমন ক্যাবলাকান্তের মত হাসছো কেন? চেহারাটাও কেমন যেন ‘নন্দ দুলাল’ ‘নন্দ দুলাল’ হয়ে যাচ্ছে ইদানিং। ব্যাপারটা কী অয়ন?
আমার মুখ থেকে উত্তর দক্ষিন কিছুই বের হচ্ছিলনা। মনে হচ্ছিল এরকম আর দু’একটা কথা শুনলে হয়তো প্যান্টটা ভিজিয়েই ফেলব। ছোট কালে ভয় পেলে যা হত ইদানিং নাভার্স হলেই তা হয়ে যায়। আমার হয়ে ইসমাইল বলল- দেখ সামিয়া, আমরা সবাই ফ্রেন্ড। কিন্তু অয়ন একটু লাজুক বলে ওর সাথে এভাবে কথা বলাটা কী ঠিক হচ্ছে? সামিয়া বলল- সরি, তবে আমিতো খারাপ কিছু বলিনি ওকে। ওর খোঁজ খবর নিচ্ছিলাম মাত্র। এবার আমি বললাম- থাক ইসমাইল, ও তো ঠিকই বলেছে। সাথে সাথে চারপাশে হাসির রব উঠলো। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। আমিও হাসিতে যোগ দিলাম ওদের সাথে।

সেদিন আবার সবাই একত্রিত হল সোস্যাল সায়েন্স ফ্যাকাল্টির সম্মুখ ভাগের টাইটানিক প্লেসের কোনায়। শুরু হলো ঠাট্টা-মশকারি আর অপমান মিশ্রিত কটু মন্তব্য ছোঁড়া ছুঁড়ির প্রতিযোগিতা। কটু মন্তব্যগুলো হল যেন খেলার মাঠের ফুটবল, ওরা খেলোয়াড়। আর আমি গোলবার। এই যখন অবস্থা, তখন কি আর করা! আমি কেবল চুপ করে আমাকে উদ্দেশ্য করে ছোড়া মন্তব্যগুলো শুনছিলাম। যার সর্বনিম্নটা হল, আমাকে হাফলেডিস বলাটাও ভুল। আমি নাকি তার চেয়েও অধম। রেজা বললÑ দোস্ত, মাইন্ড করিসনা। তোকে বুয়ার সাথেই মানাবে ভাল। ওখানেই চালিয়ে যা। টিটকারী শুনতে শুনতে জেদ চেপে গেল মাথায়। এদিকে মেঘলা আকাশ ও ক্রোধে ফেটে পড়তে চাচ্ছে যেন। হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি। সবার এদিক সেদিক ছোটাছুটি। এমন সময় সামিয়াকে দেখতেই মাথায় বুদ্ধিটা এসে গেল বিদ্যুৎ গতিতে। সে সাথে আবারো সাহসী হয়ে উঠলাম। দৌড়ে গিয়ে ছাতাটা মেলে ধরলাম ওর মাথায়। সামিয়া বলল, থ্যাংকস অয়ন। এমনই তো চাই।

হ্যাঁ। এখন আমরা একই ছাতার নীচে হাঁটি। এখন আমি অনেক স্মার্ট। ক্যাবলাকান্তের মত হাসিও না। আমাকে নন্দ দুলালের মত ও মনে হয় না আজকাল।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×