somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাভ-ক্ষতি-পুঁজির প্রচলিত ও অপ্রচলিত ধারণা

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এসবের প্রচলিত ধারণা স্বভাবতঃই পুঁজিবাদ নির্ভর, এসব যে কোন নৈতিকতা নির্ভর ধারণা বা আদর্শের বিপরীতে অবস্থান করে।
সরাসরি প্রথমে “ইসলামি আদর্শের বিপরীত, নীতিবিরোধী” বললে আমাদের মনে ভেসে উঠবে 'মৌলবাদী', 'কট্টরপন্থী', 'গোড়া' ইত্যাদি নেতিবাচক সব বিশেষণ। তাই অন্যভাবে বলতে হল।
কারণ আমাদের গোড়ায় গলদ ('বিসমিল্লায় গলদ' বলব না)।
গোড়ায় গলদ কিভাবে?
লাভ ক্ষতি আর পুজির ব্যাপারে উক্ত ধারণা মনে এসেছে যখন পঞ্চম শ্রেণীর Elementary Mathematics বইয়ে নজর বুলাচ্ছিলাম। কেউ দ্বিধা করবে না, পঞ্চম শ্রেণীকে আমাদের পাঠগ্রহণের গোড়া বলতে। সেই গোড়াতেই পুঁজিবাদী ধারণা আমাদের মন-মগজে ঢেলে দেয়া হচ্ছে। গলদ এখানেই। গলদ আমাদের শৈশব জীবনের পাঠপরিক্রমায়। [[[যেগুলো আমরা নিরেট সাদা তুলতুলে মন নিয়ে, ভক্তি সহকারে গ্রহণ করি। এ সময়ে নতশিরে সব মেনে নেওয়া বৈ কোন চিন্তা মনে জাগে না। এসময়ে কাদামাটিকে নির্দিষ্ট একটি ছাচে ফেলে দিতে হয়, না হয় পরবর্তীতে বিরাট ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়, তাছাড়া পরবর্তীতে কাদা শুকিয়ে কঠোর হয়ে যায় বিধায় আকৃতি পরিবর্তন সম্ভব হয় না।]]] আর গোড়ায় গলদ বলেই এসবের বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দ করলেও তাকে বিনাবিচারে পাগল, বেআকল বলে ফেলি। এভাবে আমরাও হয়ে যাই মৌলবাদী, কট্টরপন্থী ও গোড়া পুঁজিবাদী।

লাভ-ক্ষতি-পুঁজি ইত্যাদির প্রচলিত ধারণা কিভাবে নৈতিক আদর্শের বিরুদ্ধে যায়?
পুজিবাদ একেশ্বরবাদী! এ মহান ঈশ্বরের বিভিন্ন রূপ ও নাম আছে। সবার কাছে পরম পূজনীয়। যে নামেই ডাকা হোক, যে রূপেই থাকুক, তার বৈশিষ্ট্য এক এবং অতুলনীয়। তার কোন সমকক্ষ নেই। এ ঈশ্বর যার, দুনিয়া তার হয়ে যায়!
পুজিবাদ নামক ধর্মে একমাত্র সর্বশক্তিমান ঈশ্বর হল অর্থ! আমরা তাহাকে 'টাকা' নামেই চিনি।

আমরা কিন্তু এও পড়েছি “অর্থই সকল অনর্থের মূল।” কি এক ব্লাসফেমাস কথা!! ((এখন হয়ত এমন ধর্ম-অবমাননাকর ভাব সম্প্রসারণ করা নিষেধ।বইতে আর নেই।))
এক 'ঘন্টা'য় অর্থের বহুমুখী পুজা শিখিয়াছি, পরের 'ঘন্টা'য় অর্থের অবমাননা সম্প্রসারিত করিয়া শিখিয়াছি। এরচে' বড় গলদ আর হতে পারে না।
পুঁজিবাদের কোন এক দেবতা আমাকে বারবার বিপথে ঠেলে দিচ্ছেন, যেন তাদের অবমাননা করতে না পারি অথবা যেন তাদের বান্দাদিগকে পথভ্রষ্ট বা ধর্মান্তরিত করতে না পারি।
আবার বিপথে যাবার পূর্বে মূলকথা সেরে ফেলতে চাই।
আমরা লাভ-ক্ষতি ইত্যাদির বিচার করি অর্থ দিয়ে। টাকা বেশি পেলেই আমার লাভ। টাকা কম পেলে আমার ক্ষতি। অন্য কোন মাপকাঠি ব্যবহার করলে তা টাকার সাথে “শিরক” হয়ে যাবে।
আমরা কখনো তার বিপরীত পথে চলার একটু দুঃসাহস দেখাইনা। গোটা দুনিয়া চুলায় গেলেও আমার টাকা বেশি পাওয়া চাই।
পঞ্চম শ্রেণীর গণিত বইয়ে শিখানো হচ্ছে- তুমি একটা সেবা বা বস্তু ক্রয় বিক্রয়ে যদি বেশি পেয়ে থাক তবেই তুমি লাভবান আর কম পেয়ে থাকলে তুমি ক্ষতিবান! তুমি টাকা জমালে তার উপর সুদ পাবা আর বিনিয়োগ করলে বিপদে পরতে পার। অর্থাৎ অপরের ক্ষতি হলেও তোমাকে লাভ করতে হবে, টাকা জমিয়ে রাখতে হবে।
এতে এটা শিখানো হয় না যে, যদি তোমার দ্বারা কোন মানুষ উপকৃত হয়, লেনদেনে যদিও তুমি কম টাকা পাও তবুও তুমি লাভবান । আর তোমার লেনদেন দ্বারা যদি কেউ ক্ষতির শিকার হয় তাহলে তুমি টাকা বেশি পেলেও ক্ষতিবান হলে।
ইসলাম বা যে কোন নৈতিক আদর্শে ------
যেখানেই উপকারিতা ও উত্তমতা সেখানেই লাভ, হোক তা বস্তুবাদী দৃষ্টিতে ক্ষতিজনক। আর যেখানেই খারাপ জিনিস সেখানেই ক্ষতি, হোক তা বস্তুবাদী দৃষ্টিতে লাভজনক।
অর্থ জমা থাকলে তা পুজি বা মূলধন নয়, বরংতা অন্যায়, এবং অর্থের অপব্যবহার। অর্থ জমা রাখলে ইসলাম কোন 'সুদ'জাতীয় পুরষ্কার দেয় না, বরং করারোপ করে। অন্যদিকে, ইসলাম উপার্জনের উপর করারোপ করে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:০৩
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×