somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভর্তি পরীক্ষার নতুন সিন্ধান্ত এবং কিছু বাস্তব চিত্র.........

২১ শে অক্টোবর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আচ্ছা সব ধরনের নতুন নিয়ম কি একটা ব্যাচ দিয়েই শুরু করতে হবে। হ্যাঁ, আমি এইচ.এস.সি ১৪ ব্যাচের কথাই বলছি। হইতো অনেকের চোখে এই ব্যাচটা নিন্দিত কারণ এই ব্যাচের বেশি ভাগ স্টুডেন্টই প্রশ্ন পেয়ে A+ পেয়েছে। তবে এই দায় কি তাদের? নাকি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার? এই প্রশ্ন ফাঁসের ফলে আদৌ কি একজন মেধাবী স্টুডেন্ট উপকৃত হয়েছে? বরং তার প্রতিদ্বন্দ্বী আরও বেড়ে গেছে যারা আদৌ তার প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার যোগ্য না। এমন অনেক সমস্যার সন্মুক্ষীণ তাদের হতে হইছে যেগুলো অন্য কোন ব্যাচের হতে হয় নি। আমার চোখে পরা সেরকমই কিছু সমস্যা নিচে উল্লেখ করলাম......
১. যারা আদৌ পাস করার যোগ্য কিনা তারা এখন এ+ পেয়ে বসে আছে। ফলে যারা সত্যিকারের এ+ পাওয়ার যোগ্য আর যারা যোগ্য না তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকলো না। আবার কোন খারাপ স্টুডেন্ট ভর্তি পরীক্ষাই গোল্ডেন এ+ পাওয়ার ফলে বুয়েট এ পরীক্ষা দিতে পারছে। অথচ একজন সত্যিকারের মেধাবী স্টুডেন্ট যে হয়তো বাংলা তে এ+ মিসের জন্য বুয়েট এর ফরমই তুলতে পারছে না।
২. ঢা.বি. ভর্তি পরীক্ষাই দুর্নীতি হয় বলে তারা পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটার ব্যবহার করা বন্ধ করে দিল। তাই বলে কি দুর্নীতি বন্ধ করতে পেরেছে? দুর্নীতি কিন্তু ঠিকই ঘড়ি,মোবইল ফোনের মাধ্যমে হয়েছে। অথচ স্টুডেন্ট যারা এতদিন ধরে ক্যালকুলেটার ব্যবহার করে গণিত প্রাকটিস করলো তাদের পরীক্ষার আগে মুখস্থ নির্ভর পড়ার উপর নির্ভরশীল হতে হল। ভর্তি পরীক্ষার জালিয়াতি দূর করার দায়িত্ব ঢা.বি প্রশাসনের। সেজন্য ক্যালকুলেটার ব্যবহার না করতে দিয়ে স্টুডেন্টের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা আদৌ কি যৌক্তিক?
৩. ঢা.বি. প্রশাসন এবার নিয়ম করলো যে আগামী বছর থেকে কেউ ২য় বার ঢা.বি ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এরকম একটা বড় সিন্ধান্ত কেন তারা ভর্তি পরীক্ষার আগে নিলো না। তাহলে অন্ততঃ যারা এবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে তারা বুঝতে পারতো যে এটাই তাদের শেষ সুযোগ। অনেকে ভর্তি পরীক্ষায় চান্স না পায়ে আশায় ছিল হইতো আগামী বার ভালোভাবে পরীক্ষা দিয়ে চান্স পাবে,এইবার হইতো কম সময়ের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয় নি। কিন্তু দুঃখের বিষয় তাদের সুযোগ তারা জানার আগেই শেষ হয়ে গেছে।
৪. এবার ঢা.বি ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ৫০% স্টুডেন্ট চান্স পেয়েছে যারা এবার ২য় বার ভর্তি পরীক্ষা দিলো। তার মানে ক ইউনিটে প্রায় ১৬০০ সিট থাকলেও এবার যারা পরীক্ষা দিছে তাদের জন্য সিট ছিল সত্যিকার অর্থে ৮০০। আর যেহেতু তারা ২য় বার পরীক্ষা দিতে পারছে না তার মানে তাদের এখন পাবলিক বিশ্ববিদালয়ের ভর্তির স্বপ্ন বাদ দিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখতে হচ্ছে। অনেকে হয়তো আর্থিক সমস্যার কারণে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়তে পারবে না। তার মানে সব দিক থেকেই এই এইচ.এস.সি ১৪ ব্যাচের এক বিরাট ক্ষতি হলো।
৫. এইবার যারা এইচ.এস.সি পরীক্ষা দিসে তারাই ছিল ১ম ব্যাচ যারা সবগুলো বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা দিসে। সেজন্য গত বছরের প্রশ্ন বাদ দিয়ে পড়ার সুবিধা তারা পায়নি। সেই সাথে সৃজনশীল সিস্টেম থাকার ফলে তাদের পুরো বই পড়তে হতো। ফলে যারা সত্যিকার অর্থেই ভালো স্টুডেন্ট তাদের আসলেই অনেক পরিশ্রম করতে হয়ছে। কিন্তু সেই কষ্টের মূল্য কি তারা পেল? প্রশ্ন ফাঁসের ফলে সব চেষ্টাই বৃথা হয়ে গেলো। এইবার এইচ.এস.সি পরীক্ষার কিছু প্রশ্ন দেখেছিলাম। প্রশ্ন দেখার পর আমার একটা জিনিসই মনে হয়ছিল যে এই প্রশ্ন যদি ফাঁস না হতো তাহলে ৫০% স্টুডেন্টই ফেল করতো।
আমি সবসময় এই ব্যাচ কে সাপোর্ট দিবো কারণ আমার বোনও এই ব্যাচের স্টুডেন্ট। আর এজন্যই আমি এই ব্যাচের সমস্যাগুলো অনেক কাছ থেকে দেখতে পেরেছি। পরীক্ষার আগে প্রশ্ন পেয়েও আমি ওদের মাঝে যে টেনশন দেখেছি যেমন আদৌ এই প্রশ্ন কমন পরবে কিনা, প্রশ্ন যদি পরিবর্তন করে ফেলে (কিছু পরীক্ষায় প্রশ্ন পরিবর্তনও হয়েছিলো। সেসব পরীক্ষায় যথারীতি সবার ডাব্বা মারা ছাড়া কিছু করার ছিল না),পুরো বই পড়বে নাকি শুধু প্রশ্নটাই সমাধান করে যাবে ইত্যাদি নানা টেনশন। সত্যিকার অর্থে আমি নিজে প্রশ্ন না পেয়ে এইচ.এস.সি পরীক্ষা দেওয়ার সময় এতটা টেনশন করি নি যতটা না এই ব্যাচের স্টুডেন্টের প্রশ্ন পেয়ে করতে হইছে।
পরিশেষে তোমাদের জন্য একটা কথাই বলবো…”God help thoseselves who help themselves.” So don’t be tensed. Just say ALL IS WELL..
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×