somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘনচিনি: ক্যান্সার: সচেতনতা: বাংলাদেশ (২য় পর্ব)

১৩ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"ফানি ফেসের ১টা পোস্টার" ১৯৬৬ সালে প্রথমে ধরা পরে সোডিয়াম সাইক্লামেটের ক্ষতিকারক প্রভাব আছে। পরবর্তিতে আরো গবেষনার ফলে ১৯৬৯ সালে দেখা যায় সাইক্লামেট ইদুরের ব্লাডার ক্যান্সার বাড়িয়ে দিতে প্রভাবক হিসাবে কাজ করে, এমনকি এটি নিজেও কান্সার কোষ হতে সহায়তা করে। একটি গবেষনায় দেখা গেছে স্যাকারিন এবং সাইক্লামেটের মিশ্রন ইদুরে শরিরে প্রবেশ করালে ২৪০টি ইদুরের ৮টি টিউমার কোষ দেখা যায়।ক্যান্সারে ঘনচিনির ভূমিকা সম্পর্কে আরোও বেশি জানতেআরোও জানতে ক্লিক করুন।

এই ফলাফলের ভিত্তিতে ১৯৬৯ সালেই অক্টোবরের ১৮ তারিখে এফ.ডি.এ আমেরিকার বাজারে সাইক্লামেটের বাজারজাত নিষিদ্ধ ঘোষনা করে এবং তার পরের বছরে যুক্তরাজ্যের বাজারে। Abbott Laboratories তাদের পন্যের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ১৯৭৩, ১৯৮০ এবং পরিশেষে ১৯৮২ সালে আমেরিকার একটি প্রভাবশালি লবিং এজেন্টদের সাথে নিয়ে এফ.ডি.এ -কে চাপ দিলেও এফ.ডি.এ তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। এফ.ডি.এ সাইক্লামেট নিয়ে গবেষনার ফলাফল রিভিও করার পরেও দেখে এটি আসলেই ক্যান্সার হতে সহয়তা করে, তখন তাদের সাইক্লামেটের উপর জারি কৃত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। কিন্তু তার পরেও সাইক্লামেট ৫৫টিরোও বেশি দেশে বাজারজাত হচ্ছে খাবারের উপাদান হিসাবে। এমনকি যুক্তরাজ্যও তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। তাহলে দেখা যাচ্ছে শুধুমাত্র আমেরিকা ছাড়া মোটামুটি বিশ্বের সব দেশেই ঘনচিনির বাজারজাত হচ্ছে এবং সাবি গিলছে (কেও জেনে আর কেউ না জেনে)।

যেখানে তাদের গবেষনায় উল্ল্যেখ করেছে সাইক্লামেটে ক্যান্সারের উপাদান আছে এবং এটি পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, তার পরেও এই ক্ষতিকারক রাসায়নিক বস্তুটি বিনা বাধাই বাজারে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। অসচেতন ক্রেতারা কিনছে, ভোগ করছে, আর তারা তাদের অজান্তেই জড়িয়ে পরছে অজানা কত রোগে। দিনকে দিন বাড়ছে ক্যান্সারের রোগী, দিনকে দিন কমছে মানুষের প্রজনন ক্ষমতা। এর জন্য দ্বায়ী কে/কারা?

এর পরেও সাইক্লামেট নিয়ে আরো বেশ কিছু গবেষনা হয়েছে তার সবগুলোতেই দেখা গেছে সাইক্লামেট ক্যান্সার হতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে আর কোন পুরুষ মানুষ এটি নিয়মিত খেতে থাকলে তার প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পাবে ব্যাপক হারে। আমেরিকার আরো একটি গবেষনায় তারা উল্ল্যেখ করে যে সাইক্লামেট ক্যান্সার হতে সহায়তা, পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসের পাশাপশি মূত্যনালীর ক্যান্সার হতে খুব বেশি ভূমিকা রাখে। এ সম্পর্কে আরোও বেশি জানতে ১৯৭০সালের ফেব্রুয়ারিতে সাইন্সে প্রকাশিত আর্টিকেলটি দেখুন


ইউরোপ আমেরিকার ব্যাপার-স্যাপার আলাদা। তাদের মতি-গতি বোঝা দ্বায়। কিন্তু আমরা গরীব মানুষ নুন আনতে পান্তা ফুরানোর যোগার এখন। জ্বর-সর্দি-কাশির ঔষুধ কিনতেও হিমশিম খেতে হয়। আমরা শুধু শুধু কেন
এতটা বিপদজনক জেনেও এই বিষ শেবন করছি? বাংলাদেশে সোডিয়াম সাইক্লামেট আমদানি, বাজারজাত, কোন ধরনের খাবের ব্যাবহার করা নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয় ১৯৮২ সালে। মজার ব্যাপার হচ্ছে সরকার নিষিদ্ধ ঘোষনা করেই খালাস, উনাদের আর কোন দায়িত্ব আছে বলে মনে হয় না। যে পদার্থটি বাংলাদেশে উৎপাদন হয় না, আমদানি নিষেধ তার পরেও সেই পদার্থ দেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কি করে? আবার কিছু দিন থেকে নাকি টিভিতেও এর ব্যবহারকে উৎসাহ প্রদানের জন্য কোন একটা আমদানি কারক কোম্পানি বিজ্ঞাপন দিচ্ছে!!!! লোকজনকে জানানো হচ্ছে, এটি চিনির চেয়ে ৩০-৫০গুন বেশি মিষ্টি, তুলনা মূলক কম খরচেই বাসার চিনির চাহিদা মেটাতে পারবেন। সুতরাং চিনি না কিনে ঘনচিনি কিনুন টাকা সেইভ করুন। ফলে হচ্ছেটা কি?
সমাজের একটি বিশাল সংখ্যক জনগন দিনে দিনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, অনেকেই হারাচ্ছে বাবা হবার সামর্থ। লাভবান হচ্ছে কে/কারা? এই বিশাল সংখ্যক জনগোস্ঠীর দ্বায়ভার কার? তাদেরকে এই বিষ সম্পর্কে জানানোর দায়িত্ব কাদের?

পরের পর্বে থাকছে:

*বাংলাদেশের জনগন কেন ঘনচিনি খাচ্ছে?
* ঘনচিনির বিকল্প কি?
* বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা?
* বাংলাদেশের মিডিয়ার ভূমিকা?
*আমাদের করনীয়?আগের
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×