somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাহে রমজান : জেগে উঠুক আমাদের ঘুমন্ত বিবেক

২৭ শে মে, ২০১৭ দুপুর ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সাঁইত্রিশ ডিগ্রি তাপমাত্রায় জীবন ওষ্ঠাগত প্রায়। মুন্না সাহেব রোজা রেখে ক্লান্ত শরীরে বাস থেকে ঘেমে নেয়ে নামলো মাত্র। ফুটপাত ধরে বাসার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। পাশেই পর্দা দিয়ে ঘেরা একটি রেস্টুরেন্ট থেকে সিগারেটের এক খোবলা ধোঁয়া মুখের ভেতরে প্রবেশ করলো। এমনিতেই রোজার দিন ছাড়া অন্যান্য সময়েই এমনিভাবে হেঁটে চলার পথে কত না সিগারেটের ধোঁয়া তার চোখে মুখে প্রবেশ করেছে তার শেষ নেই, এখন তো রোজার দিন। অসহ্য লাগলো তার। এছাড়াও ঐ রেস্টুরেন্ট থেকে পোলাও এর গন্ধও নাকে এলো। পর্দা সরিয়ে ক্যাশে থাকা লোকটিকে বলল- পর্দা তো দিলেন, গন্ধ কিভাবে রোধ করবেন? খুববেশি কাস্টমার কি খেতে আসে এ সময়? অন্তত এই রোজায় মাগরিবের পর থেকে ফজর পর্যন্ত খোলা রাখার ব্যবস্থা করা যায় না? রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার বলে উঠলো- দ্যাখেন আপনাকে জ্ঞান দিতে হবে না। ওয়েল ইউর ওন মেশিন। মুন্না সাহেব দেখলেন প্রায় ইফতারের সময় হয়ে গেছে, তাই কথা বাড়ালেন না। পরাজিতের মতো স্বভঙ্গিতে নিজ গৃহের দিকে পা বাড়ালেন।

সরকারি অফিসগুলোতে ৯টা থেকে ৩.৩০টা পর্যন্ত অফিস সময় ধার্য্য করা হলেও বেসরকারি অফিসে তার কোন বালাই নেই। যার যেমন ইচ্ছে অফিস সময় ধার্য্য করছে। মালিক বা জোর করে কমিটিতে থাকা প্রধানদের ইচ্ছে অনিচ্ছের কারণে রমজানেও কর্মীদেরকে কিছুটা সময় আগে ছেড়ে দিতে যেন কুন্ঠিত বড় তারা। কোন যুক্তিই তাদের কাছে যুক্তি নয়। মানুষকে দাস বানাতে পারলেই যেন তারা খুশি হন। এমন কিছু অফিস আছে যেখানে আর্থিক লাভের কোন বিষয়ই নেই অথচ মানবিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে যেয়ে খুব কাছে থাকা এই কর্মীদের জন্য একটু ছাড় দিলে যেন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। চোখ কান নাক বন্ধ করে এক মনে কাজ করে যাচ্ছেন মুজিব সাহেব। দুপুরের নামাজ পড়তে একটু জায়গা খুঁজছিলেন। চোখ তুলে তাকাতেই দেখলেন পাশের টেবিলে খাবার নিয়ে বেজায় তৃপ্তির সাথে খাচ্ছেন সহকর্মী মিজবাহ সাহেব। সামনে এগুতেই আরেক নারী সহকর্মী খাবার খেয়ে প্লেট হাতে বেসিনের দিকে যাচ্ছেন। যাবার সময় বললেন- কি রবিন ভাই, দুর্বল লাগছে নাকি? পরাজিতের মতো মুখবুঁজে নিরুত্তর রইলেন মুজিব সাহেব।

ভাল করে খেয়াল করে দেখলেন, পুরো রমজানে অফিসের দু’তিনজন ছাড়া বাকি সবাই বেশ খানাদানার মধ্যেই মজা মাস্তিতে সময় কাটিয়েছেন। মুজিব সাহেব একদিন মিটিং এ বলেছিলেন- রমজান মাসে সবাই রোজা রাখবো এবং এই রমজানের সময়টা ছোয়াব হাসিলের জন্য চেষ্টা করবো। এ কথা শুনে অসাম্প্রদায়িক হবার পরামর্শ দিয়েছিলেন অফিসের প্রধানসহ অন্যান্যরা। যে অফিসে আইনস্টাইন, শেক্সপিয়্যার, হেমলেট, গৌতম, কৃষ্ণ, রবীন্দ্রনাথদের বাণী দেয়ালে ঝুলতে বাধা নেই অথচ কোরআন ও হাদিসের বাণীকে সচেতনভাবে সরিয়ে রাখা হয়, তারা তো সত্যি অসাম্প্রদায়িক ও নিরপেক্ষ বটে।

পারিবারিক অনুষ্ঠান। আছরের পরে কোরআন শরীফ পড়ছিলেন রমিজ সাহেব। নিচুস্বরে আরবি পড়ার পাশাপাশি বাংলা অনুবাদও পড়ছিলেন। “হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমনভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো। রমজান মাস, এতে নাজিল হয়েছে আল-কোরআন, যা মানুষের দিশারী, স্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।” সূরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৩ থেকে ১৮৪। কোরআন পড়ার পর মুসলিম শরীফ বইটি খুলে পড়লেন- “যখন রমজান মাসের আগমন ঘটে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে আবদ্ধ করা হয়। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে- শয়তানকে শিকল পরানো হয়।” মুগ্ধ হয়ে এমনভাবে পড়ছিলেন কখন যে ইফতারের সময় হয়ে গেছে বুঝতেই পারেননি। ইফতারের আসনে বসতে যেয়ে কোন আসনই পাচ্ছিলেন না। সারাদিন রোজা না করা, অথবা রোজা রাখা যাদের তাদের ধর্মীয় রীতিতে নেই -এমন মানুষগুলো দিব্যি হৈ হুল্লুড় করে ইফতারের আসনগুলো দখল করে নিয়েছেন। একজন তো রমিজ সাহেবের অসহায়ত্ব দেখে বলে উঠলেন- ভাইজান বুঝি রোজা রাখেননি আজকে?

পবিত্র রমজান আসছে আর মাত্র একটি দিন পরেই। বিজ্ঞ পাঠক, উপরোক্ত ঘটনাগুলো নিছক কাল্পনিক কোন বর্ণনার সমাহার নয় -প্রতিটি মানুষের জীবনের কোন না কোন বাঁকে ঘটে যাওয়া বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। আসুন পবিত্র এই মাসের মর্মার্থ বুঝে আমল করি এবং রমজানের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করি। তিরমিজি শরীফের হাদিসে এসেছে- “ঐ ব্যক্তির নাক ধুলায় ধূসরিত হোক, অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে- তার মতো হতভাগ্য আর কে হতে পারে যার কাছে রমজান মাস এসে চলে গেল অথচ তার পাপগুলো ক্ষমা করাতে পারলো না।”
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০১৭ দুপুর ১:২১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×