উৎসর্গ : হোসেন খাঁ পাড়া
ক.
বালক বয়সে কলাবাগানের ভেতর দিয়ে ছুটে আসতাম
থেমে থাকা রেলগাড়িতে উঠবো বলে
পা দানীতে ঝুলতে ঝুলতে উঠে পরতাম মেঝেতে
তার পর জানালার ধারে পাতা টানতে টানতে
শক্ত কাঠের ব্রেঞ্চিতে বসতাম পৃথিবীর সমস্ত সুখ পকেটে করে;
চালকের বস্তা পচা কথা হাতের মুঠোয় ভরে
ইঞ্জিনের সামনে দাঁড়াই হুইসেলের দড়ি টানার মোহে
যেখানটায় ঝুলতে শুরু করতাম সেখানটায় একজন কাটা পড়লো
কাচা রক্ত রেল লাইন গড়িয়ে কাঠে, কাঠ গড়িয়ে ঘাসে
শেষতক ঘাস গড়াতে গড়াতে মাটি স্নান করলো
এখন মনে পড়ে মাথাটা ঘাড়ে ছিল না, একটা পা অন্য কোথাও
কলা বাগানের কচি পাতায় ঢাকা ছিল শান্ত দেহটি।
খ.
সোনালু হলুদ হয়ে যখন আকাশটা রঙিন করতো
পাঁপড়ি কুড়িয়ে গহণা বানাতাম
ততদিনে ঝিক ঝিক ঝিক ইঞ্জিনের শব্দ মিলিয়ে গেছে
কুয়াশার সাদা ভিড়ে, দৃশ্যমান কলাবাগানের সীমানা
ঘাস মাটির গভীরে সাদা হতে হতে হাওয়া
শিকার হয়ে গেছে কর্দমাক্ত পায়ে উৎসব করে মৎস শিকার
সিগন্যালবাতি বসতকারী চড়ুই নতুন ফ্ল্যাটে উঠেছে
ঠিকাদারের কপালে চুমু আঁকার অপরাধে
কালো কালো ধুলোবালিমাখা পবিত্র নোঙরা হাত-পা’র সামনে
সজনে ফুলের অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়
গ.
কর্পোরেট ধোঁয়ার প্রলেপ মাখানো বাড়ির উঠোনে
ইদুর বেড়াল চা পান করে আয়েসে
নান্দনিক পানশালায় শিশুটির অবাধ যাতায়াত
আন্দোলিত করে পাড়ার উঠতি শরীরগুলো
মোহনার পাড়ে আজও ফজল-তছর-দছি’রা
লাঠি ভর করে হাঁটে পুরোনো কাঁদামাখা পায়ে
তবে কি আমার শব যাত্রা এ সড়কেই..

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


