somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বে আরো একটি সম্পদে পরিপূর্ণ অথচ গরীব দেশের জন্ম ঘটলো।

১০ ই জুলাই, ২০১১ রাত ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



উত্তর এবং দক্ষিণ সুদানের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত ১৯৫৫ সাল থেকেই৷ তখনই দক্ষিণ সুদানের মানুষের ভেতর স্বাধীনতার বীজ বুনতে থাকে৷ আজ রাতে বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটবে৷ দক্ষিণ হবে স্বাধীন, সার্বভৌম একটি দেশ৷

দক্ষিণ সুদানের মানুষরা কখনোই সচ্ছল ভাবে বসাবাসের সুযোগ পায়নি৷ এবং এর জন্য সবসময়ই তারা উত্তর সুদানকে দায়ী করতো৷ রাজধানী ছিল খার্তুম, তাই অর্থনৈতিক দিক থেকে খার্তুমেই সব পয়সা ঢালা হয়েছে৷ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও এবিষয়ে ছিল সন্তোষ৷ উত্তর সুদানের ওপর মিশর এবং ব্রিটেনের প্রভাব ছিল৷ আর এসব কারণেই সুদানের মানুষের মধ্যেই বিরাজ করছিল টান টান উত্তেজনা৷

আজ রাত বারোটায় আফ্রিকা তথা পৃথিবীর মানচিত্রে দুটি দেশ স্থান পাবে৷ উত্তর সুদান – যার রাজধানী খার্তুম এবং দক্ষিণ সুদান – রাজধানী জুবা৷ দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জন গারাং৷ কোন অবস্থাতেই আর আরবি ভাষীদের অধিনস্থ হয়ে কাজ করবেন না – এই মনোবলে এগিয়ে যান তিনি৷ ১৯৭২ সালে তিনি গড়ে তোলেন একটি আন্দোলনকারী দল, নাম আনইয়া-নিয়া৷ ১৯৭২ সালে উত্তর সুদান দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায়৷ সেই চুক্তি অনুসারে দক্ষিণ সুদানের স্বায়ত্ত্বশাসনের ক্ষমতা থাকবে, নিজেদের একটি সংসদও থাকবে৷ তবে সেই চুক্তি দশ বছর অতিক্রম করার আগেই ভেঙে পড়ে৷ উত্তর সুদান সেনাবাহিনী নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দক্ষিণ সুদানের ওপর৷

১৯৮৩ সালে জুবার সংসদকে পুরোপুরি ভেঙে দেয়া হয়৷ বলা হয়, ইসলামি আইন-কানুন অনুযায়ী দক্ষিণ সুদান শাসিত হবে৷ আবারো বিদ্রোহের দানা বাঁধতে থাকে দক্ষিণ সুদানের মানুষের ভেতর৷ গঠিত হয় আরেকটি দল, নাম সুদান পিপিল্স লিবারেশন আর্মি সংক্ষেপে এসপিএলএ৷ স্লোগান হয় ‘আমরা একটি নতুন সুদানের জন্য যুদ্ধ করি'৷ নেতৃত্ব দেন জন গারাং৷ এরপর সত্যি সত্যিই শুরু হয় সংঘর্ষ৷ বিমান হামলা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ওপর প্রতিনিয়ত হামলা করতো উত্তর সুদানের সেনাবাহিনী৷

জন গারাং বিশ্বাস করতেন, নতুন সুদান এমন একটি দেশ হবে যেখানে কৃষ্ণাঙ্গ এবং আরবরা একসঙ্গে বসবাস করতে পারবে৷ মানুষে-মানুষে কোন ভেদাভেদ থাকবে না৷ ধর্ম, ভাষা, জাতি নিয়ে কোন সংঘর্ষ হবে না৷ কিন্তু এসপিএলএ-র অনেকেই এই ভাবধারায় বিশ্বাসী ছিল না আর উত্তর সুদান তো হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিল এই ধরণের আদর্শকে৷ তবে ১৯৭২ সালের শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করায় দক্ষিণ সুদানের মানুষ সবসময়ই ক্ষিপ্ত ছিল উত্তর সুদান তথা খার্তুমের ওপর৷ মনে মনে সবাই প্রস্তুত ছিল স্বাধীনতার জন্য৷

২০০৫ সালে আফ্রিকার অন্যান্য দেশের মধ্যস্থতায় আরেকটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়৷ এবার তা হয় কেনিয়ায়৷ চুক্তি অনুসারে সুদানের প্রাকৃতিক সম্পদ গোটা দেশের মানুষের মধ্যে ভাগাভাগি করার কথা বলা হয়, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অঙ্গীকার করা হয় এবং জন গারাং-কে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়৷ চুক্তিতে উল্লেখ ছিল যে, চুক্তিটি ছয় বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং এরপর একটি গণভোটের আয়োজন করা হবে৷ জানা হবে, মানুষ কি একটি সুদানেই থাকতে চায় নাকি সুদান দুভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি পৃথক স্বাধীন দেশে পরিণত করতে চায়৷ ছয় বছর পার হয়েছে , এসেছে ২০১১৷ ভোটাভুটিও হয়ে গেছে ফেব্রুয়ারিতে৷ আর কয়েক ঘণ্টা পরেই আসছে দক্ষিণ সুদান৷

২০০৫ সালের শান্তি চুক্তির কিছুদিন পরেই জন গারাং একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান৷ তার পদে আসীন হন সালভা কির৷ তিনি পুরোদমে কাজ করতে থাকেন দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার জন্য৷ দক্ষিণ সুদানের মানুষের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই নিরক্ষর৷ তারা কেউ লিখতে বা পড়তে পারে না৷ এই অবস্থার পরিবর্তন করতে চান তিনি৷ তিনি বেশ জোর দিয়েই বলেন, ২০০৫ সালের চুক্তি অনুসারে কাজ করা হচ্ছে না৷ চুক্তি ভঙ্গ করা হয়েছে৷

দক্ষিণ সুদানের অনেক মানুষই বিশ্বাস করেন, তাদের দেশ এগিয়ে যাবে, তাদের অবস্থার উন্নতি ঘটবে৷ এবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গণভোটের মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, ৯ই জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণ সুদানকে স্বাধীন ঘোষণা করা হবে৷ সেই গণভোটে স্বাধীন সুদানের পক্ষে ভোট পড়েছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ৷ ৫০ বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে দক্ষিণ সুদানের মানুষদের৷ কাঙ্খিত স্বাধীনতাকে সত্যিকার অর্থে স্পর্শ করতে৷

তথ্যসূত্রঃ এখানে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×