somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যের সারথি সাদেক
চিনিলাম আপনারেআঘাতে আঘাতেবেদনায় বেদনায়;সত্য যে কঠিন,কঠিনেরে ভালোবাসিলাম,সে কখনো করে না বঞ্চনা।

সিনেমা “ডুব” আর আমাদের বাক স্বাধীনতা

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ কিছুদিন ধরে “ডুব” সিনেমাটি নিয়ে মাঠ গরম হয়ে আছে। ভেবেছিলাম পক্ষে বিপক্ষে কোন ধরনের মন্তব্য করবো না। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ এটার প্রকাশের পক্ষে। আর আমি এটার প্রকাশের বিপক্ষে। সবার চিন্তাধারা এক হবে, সবার চিন্তার কোণ এক হবে তা আমি মানি না। তাদের যুক্তিটাও সঠিক!

বাক স্বাধীনতার জন্য সিনেমাটির মুক্তি হোক, কোন একজন ব্যক্তির জন্য সিনেমাটা থেমে থাকতে পারে না। বিশেষ করে যখন পরিচালক মশাই, ১৭ লক্ষ ডলার লগ্নি করেছেন। বাংলা সিনেমার বাজারে, এই সিনেমাটি ক্ষতির মুখে পড়লে, একই সাথে অনেকেই সিনেমা বানাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। তবে পরিচালক মশায়ের সিনেমা শুরুর আগেই, বুঝা উচিত ছিল, কতটা সামলে উঠিতে পারবেন তিনি?


তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে, যে কোন সিনেমা, যদি কোন বিশিষ্ট ব্যক্তির সাথে ৮০-৯০% মিলে যায়, তাহলে সাধারণ দর্শক কিন্তু ঐ ব্যক্তির কাহিনী হিসেবেই এটাকে মনে করবে। একজন ব্যক্তির জীবনী নিয়ে সিনেমা হতেই পারে। এবং বিখ্যাত ব্যক্তি হলে, সবার সেটা জানা বা দেখা উচিত। কিন্তু একজন ব্যক্তি জীবনীর মত করে সিনেমা বানিয়ে ভুল ইনফরমেশন গেলে, তাতে ব্যাক্তির পরবারের জন্য ক্ষতির কারন হতে পারে! শুধু তার পরিবার না, মানুষের কাছে চলে যাবে ভুল তথ্য। যেগুলো মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারে।
ব্যক্তি হুমায়ুন আহমেদকে আমি পছন্দ করি আর নাই করি, সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যপার। কিন্তু ব্যক্তি হুমায়ুন আহমেদ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। হুমায়ুন আহমেদ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক ছিলেন! তার জীবনীর থিমে কেউ গল্প লিখলে, সেটাকে তার জীবনীই বলবে সবাই। যতই না করা হোক না কেন? আবার এই ছবির একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিনেত্রী ‘রোকেয়া প্রাচী’ও বলেছেন, এটা হুমায়ুন এর জীবনী নিয়েই করা। পরিচালক যতই না করুক, না বলুক, সেটা কেউ বুঝবে না। বরং না করলেও মানুষ আরও বেশি ভাববে। কারন, ‘কেন একজন ব্যক্তিরই নাম বারবার আসতেছে, অন্য কারোর নাম না।’


ছবি যদি করতেই হয়, তবে সেক্ষেত্রে ১০০% মিল রেখেই করা উচিত ছিল। আমি মনে করি, যেকোন বিখ্যাত লোকজনদের কাহিনী নিয়ে সিনেমা হতেই পারে। কিন্তু সেটা যেন সত্যিকারে জীবনী নিয়েই হয়। তথ্য কম থাকুক, কিন্তু যেন ভুল তথ্য না থাকে! আর তাছাড়া অনেক বিষয়ে তার দুই পরিবারের আপত্তি থাকতেও পারে। সেটা যেকোন বিষয়েই। যেমন ধরুন, আমি মদ খাওয়াকে কোন বিষয় মনে করি না। এটা স্বাভাবিক ব্যপার। কিন্তু এই দেশের বেশিরভাগ মানুষের কাছে মদ খাওয়া মানেই অনেক বাজে ব্যপার। এখানে পরিচালক যদি সেটা দেখায়, তাহলে পরিবারের আপত্তি থাকাটাই স্বাভাবিক। একই সাথে লেখকের ইমেজ অন্য দিকে মোড় দিতে পারে। কিন্তু দেখা গেল বাস্তবতার সাথে কোন মিলই নেই। শুধু থিমটা ছাড়া। তাহলে সেটা কি সঠিক হবে? তাছাড়া স্পর্শকাতর কোন কিছু মনে হতেই পারে পরিবারের কাছে, যেটা সেই পরিবারের (যে কোন একটি) ভবিষ্যৎ এ চলার জন্য সমস্যা হতে পারে।
ধরুন, হুমায়ুন আহমেদ না, তসলিমা নাসরিন কিম্বা হুমায়ুন আজাদের, কিম্বা বঙ্গবন্ধুর জীবনীর কাহিনী দিয়ে কেউ সিনেমা বানালো। ব্যক্তির নাম আলাদা, কিন্তু মূল থিম এক। তবে ভিতরে অনেক ভুল তথ্য। তাহলে কি কেউ সহজ ভাবে মেনে নিবে? তাহলে হুমায়ুন আহমেদ এর জীবনী নিয়ে “ডুব” সিনেমাটা কেন মেনে নিবেন?
বাক স্বাধীনতা মানেই না,
‘বিশেষ কোন ব্যক্তির জীবনী পাল্টে দেওয়া!’
‘কোন পরিবারের অনুমতি বিহীন তাদের পরিবারের বিশেষ ব্যক্তিকে নিয়ে ছবি করা!’
অনেকেই বলেছেন, সিনেমার কাহিনী তো কোন না কোন মানুষের, পরিবারের কাহিনী নিয়ে করা। কিন্তু “হাজার বছর ধরে” মন্টু মিয়ার কাহিনী কিম্বা ব্যক্তি তাহসিবের কাহিনী আর হুমায়ুর আহমেদের কাহিনী এক না। মন্টু মিয়া ঘরে ঘরে আছে।
বিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে অনেক সিনেমা হয়েছে, হতেই পারে। কিন্তু সেটা অনুমতি নিয়েই হয়েছে। অথবা বহু আগে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে। তারপরও ‘হাছন রাজা’র জীবনী নিয়ে বানানো সিনেমা নিয়েও আপত্তি হয়েছিল তার পরিবার থেকে। যদিও তার আসল পরিবার বেঁচে নেই। কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়েও অনেকেই কিছু করতে গেলে খিলখিল কাজীর অনুমতি নিয়ে নেয়।
আরেকটি বিষয়, একজন লেখক মারা যাবার পর প্রায় ৫০ বা ১০০ বছর (বছরে সংখ্যাটা মনে আসছে না, ৫০বা ১০০ নাও হতে পারে। তবে সংখ্যা নেহাত কমও না) তার লেখক স্বত্ব থাকে। তার জীবনীও সেই স্বত্বের মাঝেই পরে। সেক্ষেত্রেও শাওন বাধা দিতে পারেন। একজনের লেখায় দেখলাম, শাওন নাকি ‘হুমায়ুন আহমেদ’কে বেচে (বিক্রি করে) চলেন। কথা সত্য হলেও সেই ক্ষমতা কিন্তু আমি আপনি দেই নাই। লেখক হুমায়ুন আহমেদ স্বয়ং দিয়ে গেছেন, তাহলে আমি আপনি কে? আমিও তো বাপের কেনা জমি বিক্রি করে খাই, আর উনি লেখা বিক্রি করে খান। পার্থক্য তো রইল না! আমার বাবা বা অন্য কেউ যদি লেখক হতেন, তাহলে কি আমিও তাই করতাম না? এটা কি আমার অধিকার হত না?
ফারুকীর ঢেঁড়স চাষ,আর আমার বাক স্বাধীনতা নিয়ে কোন বক্তব্য নেই। রবং তিনি আলোচিত হবার জন্যই এসব করেন। যত জনপ্রিয় হবেন, ততই তার ব্যবসায়িক লাভ। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ মুক্তমনাদের না জেনেই খারাপ চোখে দেখে, সেটা তিনি জানেন। তাই এই সুযোগ সম্ভবত তিনি নিয়েছেন। আর সিনেমার ক্ষেত্রেও তিনি সম্ভবত, সমলোচনা আলোচনা যতই হবে, ততই সুযোগ গ্রহণ করে নিবেন। তিনি জানেন, তাতে সিনেমার হিট বাড়বে বই কমবে না। সবাই যেহেতু এই নিয়ে লিখছেন, ফেসবুকেও অনেক আলোচনা হচ্ছে। তাই আমিও লিখলাম। আমি তাহসিব লেখায়, সিনেমাটির হিটে কোন প্রভাব পরবে না, বরং যা হবার তা হয়েই গেছে। আমি জানি, আজ অথবা কাল এই সিনেমা মুক্তি পাবেই। এবং ব্যপক হিটও হবে এই ছবি। যেটাই ফারুকী চেয়েছিলেন !!!


(লেখকঃ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক , জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, পুরোনো ঢাকা)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:২৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছ- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×