somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টরন্টো চিড়িয়াখানায় একদিন

১৫ ই জুন, ২০১৫ দুপুর ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পশুপাখিদের প্রতি আমার ভালোবাসা সবসময়ই একটু বেশি। খুব ছোটবেলায় বাবা'র হাত ধরে প্রায়ই চলে যেতাম মিরপুর চিড়িয়াখানায়। খাঁচার ভেতর জীবজন্তু আর পশুপাখি দেখে সেই ছোট্ট আমি খুব অবাক হতাম। যতই বড় হতে থাকলাম, পশুপাখিদের প্রতি মায়া কমলোনা। কিন্তু তাদেরকে দেখার জন্যে আয়োজন করে আর চিড়িয়াখানায় যাওয়া হয়ে ওঠেনি কখনও। টরান্টো আসার পর এখানে কোনদিন চিড়িয়াখানায় যাবো, সেটাও চিন্তা করিনি। কিন্তু কিছুদিন আগে যখন টেলিভিশনে টরন্টো জু -এর অদ্ভুত সুন্দর আদুরে পান্ডাগুলোকে দেখছিলাম, তখন ভাবলাম একবার না হয় ওদেরকে সামনাসামনি দেখেই আসি।

লাল পান্ডা দেখেছিলাম দার্জিলিং চিড়িয়াখানায়। তাও বেশ ক'বছর আগে। সামনাসামনি 'জায়েন্ট পান্ডা' দেখার সৌভাগ্য হয়নি কখনো। টরন্টো জু' তে বছর দু'য়েক হলো দু'টি 'জায়েন্ট পান্ডা' এসেছে। অতএব এদেরকে দেখার উদ্দেশ্য নিয়েই রওনা হয়ে গেলাম টরন্টো জু' এর উদ্দেশ্যে।


কেনেডি সাবওয়ে স্টেশন থেকে বাসে চড়ে সোজা চিড়িয়াখানায় এসে নামলাম


চিড়িয়াখানার বাইরে


আগেই টিকিট কাটা ছিল। কাজেই দেরী না করে ওই সামনের গেইট দিয়ে এবার ঢুকে পড়বো

টরন্টো জু-তে নতুন নতুন প্রাণী নিয়ে আসা হয়। সেই নতুন প্রজাতির প্রাণীদের দেখতে মানুষের ঢল নামে। স্কুল-এর বাচ্চারা দল বেধে আসে চিড়িয়াখানার জীবজন্তু দেখতে। এখনকার সেনসেশন হলো দু'টি 'জায়েন্ট পান্ডা' view this link যেগুলো সরাসরি চীন থেকে নিয়ে আসা হয়েছে।
Er Shun (মেয়ে) এবং Da Mao (ছেলে) view this link নামের পান্ডা দু'টিকে ২০১৩ সালে টরন্টো জু তে নিয়ে আসা হয়। এই দম্পতি এখানে ২০১৮ সাল পর্যন্ত থাকবে। তারপর তারা ক্যালগেরি জু তে চলে যাবে। এই পান্ডা দম্পতি কিন্তু ভি.আই.পি! টরন্টো জু' তে তাদের থাকার আয়োজন রাজকীয়। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী হারপার সাহেব তাদেরকে এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করতে গিয়েছিলেন।


পান্ডা দেখতে চলেছি


Er Shun এবং Da Mao - দুই পান্ডা


জায়েন্ট পান্ডা দেখার আগে এই বিশাল হলঘরটির পান্ডা মিউজিয়াম-ও দেখার মতো


পান্ডা মিউজিয়াম


ওই দেখুন, কিভাবে বাঁশপাতা চিবুচ্ছে!


বাঁশপাতা চেবোনো ছাড়া এদের আর কোন কিছুতে মনে হয়না ইন্টারেস্ট আছে!


পান্ডা ও তার বাঁশপাতা


এক মনে বাঁশপাতা চিবিয়ে চলেছে


বাঁশপাতা এদের কাছে মনে হয় পোলাউ-কোর্মার মতো!


Er Shun এবং Da Mao -এর থাকার ঘর


Er Shun এবং Da Mao -এর থাকার ঘর


Er Shun এবং Da Mao -এর থাকার ঘর


Er Shun এবং Da Mao -এর থাকার ঘর


বাঁশপাতা খেতে খেতে ছবি তোলার পোজ দিয়েছে


দিনরাত শুধু বাঁশপাতা খাওয়া চাই!


এক মনে বাঁশপাতা খাচ্ছে


দেখুন, কত মানুষ পান্ডা দেখতে এসেছে!


এখানেই সবাই পান্ডা দেখছে


স্যুভেনির শপ


স্যুভেনির শপ যেখানে পান্ডা বিষয়ক নানা ধরনের গিফট আইটেম বিক্রি হচ্ছে

মিরপুর চিড়িয়াখানায় তো অনেক বাঘ-ভাল্লুক দেখলাম। এবার তাই ঠিক করেছি যেগুলো জীবজন্তু কখনো দেখার সুযোগ হয়নি, সেগুলো-ই শুধু দেখবো। পান্ডা দেখা শেষ করে এবার চলে গেলাম পোলার বেয়ার দেখতে।


পোলার বেয়ার দেখতে চলেছি


পুলের ঠাণ্ডা পানিতে মা পোলার বেয়ার সাঁতরে বেড়াচ্ছে


মা পোলার বেয়ারের চিত সাঁতার


পুলের ঠাণ্ডা পানিতে মা পোলার বেয়ার সাঁতার দেখতে মজাই লাগছে!


পোলার বেয়ার এর একমাত্র বাচ্চাটা, কিছুদিন আগেও পিচ্চি ছিল, এখন বড় হয়ে গিয়েছে

টরন্টো জু এর গরিলা পরিবার আসলেই দেখার মতো। এখানে আছে দাদা-দাদি, বাবা-মা, এক ভাই আর তাদের নতুন এক পিচ্চি বোন।


বাবা গরিলা


গরিলাদের থাকার জায়গা


মা গরিলা


গরিলাদের থাকার জায়গা


বড় ভাই তার বোনকে কোলে নিয়ে খেলছে


গরিলা পরিবারের ছবিসহ বায়োগ্রাফি


ওই যে দূরে দাদা-দাদি গরিলা


এইটা বাবা গরিলা


গরিলার খাঁচার সামনে আমরা মানুষরা হাঁ করে তাকিয়ে ওদের কর্মকাণ্ড দেখছি

এবার অন্যান্য পশুপাখির কিছু ছবি:


কোথা থেকে যেন একটা ময়ূর খাঁচা থেকে ছুটে গিয়েছিল। বাচ্চারা ওটার পিছু নিয়েছে


ওই যে, ময়ূরটা!


জু এর ভেতরে পায়ে হাঁটা পথ


সারস পাখি


বাচ্চা হিপোপোটোমাস


টরন্টো জু -তে কেয়ারটেকাররা প্রাণীদেরকে যখন খাওয়া দেন, তখন ছোট একটা মাইকে ওই প্রাণীটির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ণনা করেন। জিরাফের সামনে এরকমই একজন কেয়ারটেকার বর্ণনারত অবস্থায়


জিরাফের এখন খাবার টাইম


এই পাখিগুলোর নাম কিছুতেই মনে করতে পারছিনা। মনে হয় 'ধনূষ'। আপনারা কেউ বলতে পারবেন কি এগুলোর নাম কি?


জু এর ভেতরে পায়ে হাঁটা পথ


দূর থেকে দেখা জেব্রা


বিগ সাইজ হিপোপটোমাস


কেয়ারটেকার হিপো-কে খাওয়া দিচ্ছে


হিপোভাই পানিতে নামছেন


হিপো ভাই পানিতে ডুবে হাঁ করে আছে কেয়ারটেকারের থেকে খাবার পাবার আশায়


বিষাক্ত সাপ - নাম জানিনা


এটা মনে হয় গিরগিটি


ওই রেলগাড়িতে করে পুরো জু চক্কর দেওয়া যায়


উভচর প্রাণীদের প্রজনন কার্য গবেষণা করার ল্যাব


জু এর ভেতরে পায়ে হাঁটা পথ


এই পাখির নাম জানিনা


পেঙ্গুইন দেখতে যাচ্ছি


আফ্রিকান পেঙ্গুইনেরা এখানে মহাসুখেই আছে


এইখানে আফ্রিকান পেঙ্গুইন দেখেছিলাম


ওইগুলো কি হরিণ? নাকি বন্য মহিষ? মনে নেই ঠিক


তিমি মাছের কঙ্কাল


তিমি মাছের কঙ্কাল


বিষধর Rattle Snake এর তথ্য লেখা আছে ওখানটায়


বিষধর Rattle Snake এর খাঁচার সামনে


Rattle Snake


গিরগিটি! কি ভয়ঙ্কর দেখতে!


গ্লাসের ওপাশে সিংহেরা ঘোরাঘুরি করছে


এই প্রাণিটির নাম মনে নেই


স্যুভেনির শপ


এখানেই রয়েছে আর্কটিক উল্ফ


জু এর ভেতরে অ্যারোপ্লেন


জু এর ভেতরে বাচ্চাদের খেলার জন্যে ওয়াটার স্প্ল্যাশ


জু এর ভেতরে বাচ্চাদের খেলার জন্যে ওয়াটার স্প্ল্যাশ
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০১৫ রাত ৯:৫৯
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন ইকারুস: বালির নীল গোলকধাঁধা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১২



কুয়ালালামপুর অপারেশনের ঠিক সাতদিন পর। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের ‘নগুরা রাই’ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন একটি প্রাইভেট চার্টার্ড বিমান ল্যান্ড করল, তখন বালির আকাশ জুড়ে গোধূলির রক্তিম আলো।

বিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

লিখেছেন অপলক , ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি কার জন্য বাঁচো? কীভাবে এ-আই দিয়ে কভার সং তৈরি করি?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩

প্রথমত, এ-আই দিয়ে গান তৈরি করা অনেক সহজ। আপনি নিজে কোনো লিরিক না লিখে, কোনো সুর তৈরি না করেও এ-আই-তে প্রম্পট দিয়েই গান তৈরি করে ফেলতে পারেন। তবে সেটা আপনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশবাড়ীর মূর্তি বিতর্ক, ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে কি অন্য কোনো নীলনকশা?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:১৪

সাম্প্রতিক ভূরাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সমীকরণে হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারবা অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ফাটল ও অননুমোদিত কাঠামোর মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালো লাগে

লিখেছেন আরমান আরজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৮
×