somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৎস-4

১৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

grm-1, grm-2, grm-3
আর তখনই .... প্রচন্ড শব্দের সাথে মিলানের বাংলোটি কেপেঁ উঠে । হঠাৎ করে এই ঘটনা ঘটায় রুয়ানা মূর্ছা(জ্ঞান হারায়) যায় । এলিনা পেশায় ডাক্তার সে জানে তার কি করা উচিত ! তখন বাচ্চাদের কথা মনে পড়তেই, মিলান দৌড়ে বাচ্চাদের কক্ষে যায় । বাচ্চারাও অনেক ভয় পেয়েছে, তাদের চেহারা দেখে স্পষ্ট বুঝা যায় । এদিকে মিলান বাইরে এসে ব্যাপারটা বুঝার চেষ্টা করে । ব্যাপারটা অনেকটা ভয়ানক রূপই বলা যেতে পারে । একটি ছোট বিমান(সাধারণত সখের বসে যে বিমান চালানো হয়, সে ধরনের) তাদের বাড়ির সামনের রাস্তায় এসে আছড়েঁ পড়েছে । ব্যাপারটা লক্ষ্য করতেই মিলান প্লেনের আরোহীদেরকে খোজঁ করার চেষ্টা করে । না, তাদের কাউকেই সে পায়নি । আশেপাশের ঝোপ ঝাড়েও সে তন্ন তন্ন করে খুজেঁও নিরাশ হয়েছে । রুয়ানা ইতিমধ্যে জ্ঞান ফিরে পেয়েছে আর সাথে সাথে বাচ্চাদের খোজেঁ তাদের ডাকঁতে থাকে । এলিনা বুঝতে পেরেছে যে, জ্ঞান ফিরে পেলেও এখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে নি । মিলান ওয়াকিটকিতে এই দ্্বীপের শেরিফকে এই ঘটনা জানিয়ে দেয় । কিছুক্ষনের মধ্যেই শেরিফ তার গাড়ি নিয়ে হাজির হয় । তাছাড়া শেরিফ এই আশেপাশেই কোথাও টহল দিচ্ছিলেন, তাই আসতে বেশী দেরী হয় নি । শেরিফ এসেই বিমানের আরোহীদের খুজঁতে শুরু করেন । যদিও মিলান আগেই জানিয়ে দিয়েছে, এর উত্তর ! কিন্তু শেরিফ তার দায়িত্ব পূরণ করতে বধ্য পরিকর । এলিনা তার স্বামীকে এখানে উপস্থিত দেখে অবাক হয়নি । কারণ সে জানত যে, মিলান তাকে অবশ্যই ডাকবে, কারণ সে এই দ্্বীপের শেরিফ ।
হারভি(শেরিফ) সন্ধ্যা পর্যন্ত লোকবল নিয়ে আশপাশ তন্নতন্ন করে খুজেঁও কিছু পেল না । সন্ধ্যার দিকেই এলিনা মিলানকে বিদায় জানিয়ে চলে যায় । মিলান রাতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে ব্যাপারটা নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবে । কিন্তুকোন কূল কিনারা বের করতে না পারায় অনেকটা অন্ধকারের মধ্যে থেকে যায় সে । বিমানটা কোন কিছুর আঘাতেই হোক বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়েই হোক কিংবা ইঞ্জিনের গন্ডগোলের কারণেই হোক, পাইলট তো উধাও হয়ে যেতে পারে না । এমনও তো হতে পারে পাইলট আগেই বিমান থেকে নেমে গেছে, কিন্তু পাইলটের প্যারাসুট তো বিমানের ভিতরেই পোড়া(আগুনে পোড়া) অবস্থায় পাওয়া যায় । এমনকি পাইলট লাফিয়েও বিমান থেকে পড়ে যেতে পারে অথবা বিমানের ভিতরে আরোহীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির কারণেও হতে পারে । এমনই হাজারো কল্পনার রেখা মিলান বুনে যেতে লাগল । কখন যে ভোর হয়ে গেল সে টেরই পায় নি ।
আজ বাসার গবেষণাগারে তেমন মন বসাতে পারে নি । চোখে ঘুম ঘুম ভাব ! এলিনা মাঝে একবার ফোন করেছে । রুয়ানার অবস্থার উন্নতি হয়েছে । আজ মিলানের এক জায়গাল টারমিন আছে, দেখা করতে যেতে হবে । এর আগে সে এই ঘটনার ব্যাপারে একটা আর্টিকেল ছাপানোর চিন্তা করল এখানকার পত্রিকা অফিসে(উল্লেখ্য যে, এই দ্্বীপে তখনও পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি না পাওয়া কারণে সাপ্তাহিক পত্রিকা চালু ছিল) । কিন্তু যাওয়ার ইচ্ছা তার করছে না । এরপর মিলান ঐ পত্রিকা অফিসের সম্পাদকের কাছে ফোন করে, জানিয়ে দিল যে, সে আজ একটি সংবাদ ইমেইলে পাঠিয়ে দেওয়া দিবে এবং তা যেন আগামী সপ্তাহের পত্রিকায় ছাপানো হয় । লেখাটি শেষ করতে বেশীক্ষণ দেরী করল না ।
বারান্দায় আসার পর খেয়াল করল যে, তাদের বাংলোর প্রধান ফটকের এর একপাশ খোলা । সাধারণত এরকমটি হওয়ার কথা না । আজ রাতে বৃষ্টি হয়েছিল, তাই পথ-ঘাট ঘাট স্যাতঁস্যাতেঁ । এরই সুবাদে কিছু অস্পষ্ট ছাপ দেখতে পেল বাংলোর ফটক থেকে বাংলোর মূল অংশ বরাবর । ব্যাপারটা খেয়াল করার পরই মিলানের ভ্রু কুচঁকে আসে । পরমূহুর্তেই রুয়ানার কথা মনে আসে । যতটুকু দ্রুত পেরেছে দৌড়ে রুয়ানার ঘরে যায় । না, রিয়ানাকে নিয়ে তো রুয়ানা ঘুমিয়ে আছে, এই অবস্থায় রুয়ানাকে খুব সুন্দর লাগছে । কিন্তু পরমুহূর্তেই অদৃশ্য আগুন্তুক এর কথা মনে পড়তেই, দ্রুত পদে সদর দরজার সামনে গিয়ে দেখে যে, দরজা সম্পূর্ণ খোলা ! সাথে সাথে তার সারা ইন্দ্রিয় সবের্াচ্চ সর্তকে সর্তকিত হয় । তীক্ষণ নজর চারিদিকে, ....
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৫২
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজব পোশাক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬


এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×