somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৎস-2

১৪ ই নভেম্বর, ২০০৬ ভোর ৪:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হঠাৎ.... তার বড় ভাই পিছন থেকে জোড়ে ডেকে উঠল । রিকার্ড তাকে পানিতে নামার জন্য অনুরোধ করে । এভিন পানিতে এক পা ডুবিয়েই, পানি ঠান্ডা বলে, নামতে অস্বীকৃতি জানায় । তো আর কি করা, রিকার্ড একা এখানে থাকতে রাজী নয়, তাই সেও উঠে আসতে চাইল । পরে দু'ভাই একসাথে বাড়ি ফিরে যায় । রাত্রে খাবারের টেবিলে বাবার সাথে রিকার্ড কথা বলার ফাকেঁ বায়না ধরে ঐ পুকুরে মাছ ধরার । সাথে তাদের ছিপ, নৌকা সবই সাথে এনেছে তাসমানিয়া থেকে, যদিও অনেক খরচা গেছে । মিলান এখানকার হাসপাতালের সাথে জড়িত । যদিও তার কাজ জীববিদ্যার উপরে, তবুও এখানকার হাসপাতালের প্রধান পরিচালিকা তার বাল্য বান্ধ্যবী । তাই প্রায়ই বিভিন্ন প্রয়োজনে তার বাল্যবান্ধবী এলিনা তাকে তলব করে ।
যথারীতি দুপুর বেলা রিকার্ড বহুউৎসাহে বাবাকে রাজী করিয়ে, সাথে রওনা দেয় । সাথে এভিনও যাওয়ার জন্য বায়না ধরে । ছোট ছেলেকে যখন সাথে নিচ্ছে সুতরাং বড় ছেলেকেও নিরাশ করতে পারে না । মিলান চিন্তা করল সবাই মিলে গেলে কেমন হয়, তখন সে রুয়ানাকে বলল তার মনের কথা । রুয়ানার সম্মতি পাওয়া গেল না, তাই কি করা... বেপ বেটা মিলেই রওনা দিল । গাড়িতে করে এদের ডিঙি নৌকাটা নিল । মাঝে বাধ সাধল রিকার্ড সে মোটর চালিত নৌকা নিতে চাইল, কিন্তু মিলান অনেক কষ্টে বুঝাল যে, এটি কোন বড় জলাশয় নয় ।কিন্তু রিকার্ড এর বায়না যে, সে বড় মাছ ধরবে । কে বুঝাবে, এরকম জলাশয়ে বড় মাছ থাকা ভাগ্যের ব্যাপর, যা কখনোই সম্ভব না । তখন না পেরে রিকার্ড বড় ছেলের উপর বুঝাবার দায়িত্ব অপর্ণ করল । এভিন আর কি করবে ! অনেকটা জোড় করেই রিকার্ডকে নিয়ে ডিঙি নৌকাটা সাথে নেওয়া হল ।সাথে দুপুরের খাবারও বাদ গেল না নিতে ।
বাপ বেটায় অনেকটা টানা হেচঁড়া করেই ডিঙিটাকে নামাল পানিতে । মিলান ভাল করে অসন্ধিৎসু চোখে পুকুরটাকে চোখ দিয়ে বুলাল । পুকুরের পাড় বলতে তেমন নেই । সরাসরি সৈকতের মত মিশেছে পাড়ের সাথে । আগাছা পূর্ণ চারদিকে এবং গভীরতাও তেমন নেই । তবে ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান এর কারণে এই রূপকে খুব সুন্দর লাগছে ।যথারীতি সময় নষ্ট না করে বসে পড়ল ডিঙি নৌকায় । এভিন আবার পাড়ে দাড়িয়ে মাছ ধরতে চাইল, সুতরাং যেমন মর্জি তেমনই কাজ ।
ঘন্টা পার হতে চলেছে একটা ক্ষুদ্র মাছও কপালে জুটল না, যার আগ্রহে আসা, সেই রিকার্ডের আগ্রহেও ভাটা পড়ছে । কিন্তু এভিন সেই যে দাড়িয়েঁ আছে তো আছেই, তার ভাবমর্ূতি দেখে বুঝা যাচ্ছে না, তার মনের অবস্থা । এদিকে ফাকেঁফাকেঁ মিলান ওয়াকিটকিতে তার বউ রুয়ানার সাথে প্রেমালাপ চালিয়ে যাচ্ছে ! রুয়ানার কিন্তু ভালও লাগে এত বছর পরেও তাদের প্রেম এখনও পূর্বের মত উত্তাল ঢেউ এর মত থাকায় । কপাল ভাল রিকার্ড এর, হঠাৎ করে ছিপে আটকে গেল একটি মাছ ।
তবে আস্তে আস্তে এটি উপরে ভেসে আসে ফেনাহীন ঢেউ এর তালে । কিন্তুপ্রবল গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছে তাদের ডিঙি নৌকার উলটা দিকে । ঘটনার আকস্মিকতায় এভিন বোকার মত তাকিয়েঁ আছে কিংবা ভয়ে । মিলান ছোট ছেলে সাথে বর্শিটি শক্তি দিয়ে চেপেঁধরে । মাছটির গতি ছলি অনেক সেই সাথে ফেনাহীন ঢেউ তুলে সোনালী বর্ণ ছটায় উলটা দিকে সাতঁরে কিংবা ভেসে যাচ্ছে । ঠিক বুঝা যাচ্ছে না, ঘটনাটা খুব দ্রুতই ঘটছে । এক সময় বর্শির সুতারঁ প্রবল টান পড়ে তখনই মিলান কোমড়ের ছুড়ি দিয়ে তা কেটে দেয় । তার আগেই তার সামলাতে না পেরে পুরো ডিঙি নৌকাটাই উলেট যায় । এভিন তখন পূর্বে যেমন ছিল, তেমনই আছে, নিজীর্ব এর মত দাড়িয়েঁ । ধীরে ধীরে সোনালী বর্ণছটা কমে আসে আর আস্তে আস্তে তা পানিতে গভীরে মিশে যায় । আর....


চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০০৬ ভোর ৫:২২
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×