somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৎস-3

১৫ ই নভেম্বর, ২০০৬ ভোর ৫:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

grm, grm-2
আর... যত দ্রুত পেরেছে মিলান নিজেকে সামলে নিয়েছে । এভিন সম্ভবত ঘটনার আকস্মিকতায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, তাই তাকে এত উদভ্রান্ত দেখাচ্ছে । না, আজ আর তাদের মৎস শিকার ভাল জমল না । না না, চিন্তায় ডুবে যেতে লাগল সবার মন । কোনভাবে বাড়ি পৌছতে পারলেই হয় । বাড়িতে আসার পর মিলান এই ব্যাপার দ্্বিতীয় বার কোন কথা বলল না, কারউ সাথে । সবার এই অবস্থা থেকে রুয়ানা কিছুই বুঝতে পারল না । সবাই যার যার রাতের খাবার শেষে বিছানায় শুয়ে পড়ল । রুয়ানা তার স্বামীর এই অবস্থার কারণ জানার জন্য বিছানায় শুয়ে তার দিকে মুখ ফিরে তাকাতেই দেখল, সম্পূর্ণ ঘুমে অচেতন । কিন্তু বাস্তবিক অর্থে মিলান তার স্ত্রীর প্রশ্নবান থেকে বাচাঁর জন্য ঘুমের ভান করছে । অনেক পুরনো পদ্ধতি যখনই তাদের কোন প্রকার ঝগড়া হত মিলান তাই করত ! তবে, হয়ত আজকের ব্যাপারটা অনেকটা ভিন্ন । তবু এই ব্যাপারে সে একা ভাবতেই আগ্রহী ।এদিকে রিকার্ড এর মাঝে অনেক ভাবনাই ঘুরপাক খাচ্ছে । স্কুল থেকে যা পড়ছে, জানছে তা থেকেই বিভিন্ন প্রশ্নের উৎপাত করছে । এভিন এর অবস্থা তো মারাত্নক আকার ধারণ করেছে । রুয়ানা সারারাত ছেলের পাশে বসে ছিল, কারণ রাতে এভিনের খুব জ্বর হয় । জ্বর এর পরিমাপ 103-104 ডিগ্রীর মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে । ভোরে জ্বরের পরিমাপ কমে আসলে মিলান আর রুয়ানা দুই জনেই সস্তির নিশ্বাস ফেলে । রুয়ানা এখন অনেকটা রেগেমেগই ঘটনার বিবরণ জানতে চায় । অনেকটা নিরুপায় হয়েই মিলান সব পুংখানুপুংখরূপে বর্ণনা করে । মিলান চায়নি এই ঘটনা নিয়ে তার স্ত্রী চিন্তা করুক । এই চিন্তা পড়ে দুশ্চিন্তায় রূপান্তরের আশংকাই ছিল তার মনে ।
আজ সকালে এলিনা(হাসপাতালের প্রধান পরিচালক ও মিলান এর বাল্য বান্ধবী) ঘরে ফোন করেছে । সে আজ তার বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে ঘুরতে আসতে পারে । মিলান এলিনাকে পছন্দ করলেও রুয়ানেকে নিয়ে ভয় হয়, কারণ রুয়ানা মনে হয় এলিনাকে সহ্য করতে পারে না । যদিও এলিনাকে রুয়ানা কোন দিনও কথা তুলে নি । রুয়ানার কথা বার্তায় কোন সময়ই এলিনার প্রতি বিদ্্বেষী মনোভাব কখনোই প্রকাশিত হয়নি তবুও মিলানের সন্দেহ দূর হয় না । এতো গেল স্বামী স্ত্রী কথা কিন্তু তাদের বড় ছেলে এভিন কোন সময়ই বাবার বান্ধবী এলিনাকে দু'চক্ষুতে দেখতে পারে না, এর ব্যাপারে কারোরই ধারণা নেই । কারণ ছোটকালে এভিন এলিনাকে তার বাবার সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে দেখেছিল । কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক তা ছিল না, তাদের বন্ধুত্ব ছিল, সাধারণ বন্ধুত্বের মত, এতে কোন পরকীয়া প্রেমের অস্তিত্ব ছিল না । কিন্তু এভিন তা সহজে গ্রহণ করতে না পারায়, তার মনের মধ্যে এলিনা বিদ্্বেষী মনোভাব বেড়ে উঠেছে ।
খুব হইচই এর মধ্য দিয়ে এলিনা তার বাচ্চাদের নিয়ে মিলানের বাসায় উপস্থিত হয় । মিলান ও রুয়ানা তাদের অতিথিদেরকে সাদঁর সম্ভাষণ জানায় । এলিনা বিবাহের আগে থেকেই মিলানের বাসায় যখন আসত, তখনই কোন না কোন ধরনের উপহার ঘরের সবার জন্য নিয়ে আসত । এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি । রিকার্ড তো তার এলিনা আন্টি(রিকার্ড ছোট কাল থেকেই এলিনাকে এলিনা আন্টি বলে ডাকে) থেকে একটি নেভিগেশন মেশিন ও সাথে সফটওয়্যার পেয়ে দারুণ খুশী । এলিন জানে যে, রিকার্ড সব সময় যন্ত্রপাতি ও কম্পিউটার সম্পকির্ত ব্যাপার-স্যাপার এর উপর আগ্রহ আছে । এভিনের জন্য একটি দামী শার্ট ও কিছু গানের সিডি আনে । এভিন তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি না জানালেও, খুব তাচ্ছিল্যএবং ঘৃণার সাথে তা হাতে নেয় । মিলান, রুয়ানা এবং তাদের কোলের শিশু রিয়ানা পর্যন্ত উপহার থেকে বাদ যায় নি । উল্লেখ্য যে, তাদের শিশু 'রিয়ানা'র নামটি এলিনাই দিয়েছে । মধ্যহ্নভোজনের পর এলিনা , রুয়ানা এবং মিলান খোশ গল্পে মেতে উঠল । এলিনার স্বামী মিলানেরই দু:সম্পর্কের ভাই হারভি এবং এই দ্্বীপের শেরিফ । কথার ফাকেঁ হঠাৎ রুয়ানাই মুখ ফস্কে ঐ জলাশয়ের কথা তুলে ফেলে । মিলান নিজেও চেয়েছিল ব্যাপারটা নিয়ে এলিনার সাথে কথা বলে কিন্তু এত তাড়াতাড়ি সে চায় নি আর রুয়ানাও চায়নি কথাটা কাউকে জানানোর জন্য তবে কেন জানি মুখ থেকে বেড়িয়ে গেল ! তখন মিলান ব্যাপারটা এড়িয়া যাবার চেষ্টা করলেও এলিনা জোকেঁর মত চেপে বসল, পুরো ঘটনার বিবরণের জন্য । শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই মিলান সব কথা উগলে দেয় । তখন এলিনা এই ব্যাপারে তার স্বামীকে জানানোর কথা ব্যক্ত করে । মিলান এই ব্যাপারে অসম্মতি জানায় । এলিনা অনিচ্ছা সত্ত্বে মিলানের কথায় সায় দেয় । মিলান চায় এই ব্যাপারে তারা দুইজনে পর্যবেক্ষণ করবে । কিন্তু ঘটনাটা অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পরও রুয়ানা ঘটনাটাকে নিছক ভ্রান্ত ঘটনা বলে উড়িয়ে দিতে চায় । যদিও রুয়ানা সত্যিকারে ভিতরে ভিতরে চিন্তায় মগ্ন কিন্তু এই ব্যাপারে তার স্বামীকে জড়িত হতে দিতে চায় না, ভবিষ্যতের অজানা আশংকায় ! রুয়ানার বিরোধীতা তাদের আগ্রহকে দমিয়ে রাখতে পারবে না, রুয়ানা তা ভাল করেই জানে । আর তখনই ....।


চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০০৬ ভোর ৫:৪৯
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার প্রিয় ২৬টি পোস্ট; যেগুলো আপনারও ভালো লাগতে পারে

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৭

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth- তবে কি আমরা মহাবিশ্বের ভৃত্য?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

Humans are not from Earth: A Scientific Evaluation of the Evidence বইটির লেখক ডক্টর এলিস সিলভার (Dr. Ellis Silver)-এর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক জীবন নিয়ে মূলধারার তথ্যমাধ্যমে এক ধরনের রহস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০১


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/30393976|প্রথম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০৩



আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

২০১০, এক-এগারোর পর থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত- যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, যারা গুম, নির্যাতন, কারাবাস, মামলা, চাকরি হারানো, পরিবার ভেঙে যাওয়া- সবকিছুর মূল্য দিয়েছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×