somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শ্রাবণ আহমেদ
নাম: শ্রাবণ আহমেদ নিরব (মোঃ রাব্বি হোসেন)nবাসা: ঢাকাnপড়ালেখা: অনার্স (মার্কেটিং)nবিশ্ববিদ্যালয়: জাতীয়nআমার সব লেখাই "শ্রাবণ আহমেদ" নামে পোস্ট করা হয়। তবে কিছু কিছু লেখা "গোলাম রাব্বি ও কবিসাপ" নামেও পোস্ট হয়েছে।

নিরুপমা

১৬ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিরু
লেখক: Srabon Ahmed (অদৃশ্য ছায়া)
.
- কিরে শ্রাবণ, এতদিন কোথায় ছিলি? কী হয়েছে তোর? শরীরের এ কী হাল হয়েছে! কলেজে আসিসনি কেন এতদিন? কিরে কথা বলিস না কেন?

ক্যাম্পাসে পা রাখতেই নিরু হন্ত-দন্ত হয়ে ছুটে এলো আমার দিকে। তারপর একটানা উপরের কথাগুলো বলে চুপ করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। আমি কোনো উত্তর দিলাম না। সে আমাকে চুপ থাকতে দেখে আবারো বললো, কিরে কথা বলিস না কেন? কী হয়েছে তোর? আর তোর ফোন বন্ধ কেন?
- বাড়ি গিয়েছিলাম।
- একবার বলে গিয়েছিস?
- প্রয়োজন মনে করিনি।
- আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বল। তারপর বল যে, প্রয়োজন মনে করিনি।

আমি মাথা নিচু করেই দাঁড়িয়ে রইলাম। আমি পারবো না নিরুর চোখে চোখ রেখে কথা বলতে। কেননা তার চোখে চোখ রাখলে আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারি না।

- কিরে? আমার চোখের দিকে তাকাতে বললাম না?

সে তার হাত দিয়ে আমার মাথাটা ধরে তার চোখের দিকে করে নিয়ে বললো, এবার বল প্রয়োজন মনে করিনি।
- হু।
- হু কী?
- প্রয়োজন মনে করিনি।
- আবার বল।
- হু।
- হু না, বল প্রয়োজন মনে করিনি।

আমি আর কিছু না বলে ক্লাসের দিকে হাঁটা ধরতেই নিরু আমার হাত চেপে ধরলো। সে বললো, কথা এখনো শেষ হয়নি। আর কথা অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়াটা আমার একদম পছন্দ না। এটা তুই জানিস।

কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে বললো, দেখ শ্রাবণ আমি সোজাসাপটা কথা বলতে পছন্দ করি। মুখের মধ্যে কিংবা মনের মধ্যে কোনো কথা চেপে রাখি না। এখন সাফ সাফ বল, কোথায় ছিলি এতদিন? আর এত শুকিয়ে গিয়েছিস কেন?
- বাড়ি গিয়েছিলাম।
- আচ্ছা, আমাকে বলে যাসনি। সেটা বাদ দিলাম। এখন বল, শরীরের এই অবস্থা কেন?
- খেতে পারিনি কিছু।
- মানে?
- জ্বর এসেছিল।
- কি?

সে আমার কপালে হাত দিয়ে বললো, এখন তো জ্বর নেই।
আমি বললাম, হ্যাঁ।
- শ্রাবণ শোন।
- হু।
- আগের থেকে পাল্টে গিয়েছিস মনে হচ্ছে।
- হু।
- কিন্তু কেন?
- এমনিই।
- এমনিই কেন?
- এমনিই।
- দেখ, এরকম ভাসা ভাসা উত্তর কিন্তু আমার একদম পছন্দ না। কানের নিচ বরাবর কষে একটা লাগিয়ে দেবো।
- হু।
- আবার হু বলে!

আমি আর কিছু না বলে চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম। মেয়েটাকে ভালবাসি আমি, বড্ড ভালবাসি। প্রথম যেদিন ক্যাস্পাসে পা রাখি। সেদিন আমার চোখ দু'টো প্রথমে তাকেই দেখেছিলো। তারপর ক্লাসরুমে তাকে দেখলাম। সময়ের পরিক্রমায় কেমন করে যেন একটা ভাল ফ্রেণ্ডশীপও তৈরি হয়ে গেল। মেয়েটা ভীষণ রাগি এবং ভীষণ রূপবতী। ওর পেছনে হাজারটা ছেলে ঘুরে। তবে সে পাত্তা দেয় না কাউকে। আবার মাঝে মাঝে দেখি ক্যান্টিনে বসে অনেকে মিলে আড্ডা দিচ্ছে। অবশ্য ঐ আড্ডাতে আমাকেও ডাকে। কিন্তু আমি যাই না। স্বচ্ছ আকাশে এক টুকরো মেঘ যেমন, তাদের সাথে বসে আড্ডা দিলে আমিও তেমন।

- শ্রাবণ....

সে বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আবারো ডাক দিলো। আমি বললাম, বল।
- আমার দিকে তাকা।

আমি তাকালাম। অতঃপর সে বললো, ভালোবাসি তোকে।
- মজা করছিস নিরু?
- কখনো দেখেছিস আমাকে তোর সাথে মজা করতে? হ্যাঁ দেখেছিস, মজার সময় মজা করেছি। আর তুই এটাও জানিস, প্রেম ভালবাসা নিয়ে মজা করার মেয়ে আমি না।
- এটা সম্ভব না নিরু।
- আমার চোখ দিকে তাকিয়ে কথা বলবি। যা বলবি সব আমার চোখের দিকে তাকিয়ে। ওকে?
- হু।
- শ্রাবণ
- হু
- ভালবাসি তোকে।
- বুঝিনি।
- ভালবাসি তোকে।
- কেমন ভালবাসিস?
- যে ভালবাসা বাহির থেকে দেখা যায় না।
- তোর পিছে তো অনেক ছেলেই ঘুরে।
- ওদের ভালবাসা বাহির থেকে দেখা যায়।
- বাড়ি যাওয়ার আগে দেখলাম, রিহানের সাথে বেশ দারুণ সম্পর্ক হয়েছে তোর।
- সে আমার কাজিন।
- আমি তো দেখতে সুন্দর নই।

কথাটি বলতেই সে সজোরে আমার গালে একটা চড় বসিয়ে দিল। তারপর জড়িয়ে ধরে সিক্ত কণ্ঠে বললো, এই তিনটা বছরে আমাকে এই চিনেছিস তুই?

আমি কোনো কথা বলছি না। কেমন যেন অস্বস্তি লাগছে আমার। এই প্রথম কোনো মেয়ের সংস্পর্শে এলাম। তাও আবার ভরা ক্যাম্পাসে। আমি তার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলে সে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। আর বললো, দেখ আমি জানি তুইও আমাকে ভালবাসিস। সো ফিরিয়ে দিস না আমাকে। প্লিজ শ্রাবণ।
- তোর এই মোহ কিছুদিন পর ফুরিয়ে যাবে নিরু। তখন আমি কষ্ট ছাড়া কিছুই পাবো না।
- ফুরাবে না শ্রাবণ। যদি এমনটাই মনে হয়, তবে বিয়ে করবি চল।
- এই না না, এখন না।
- তাহলে?
- কিছু না।
- জড়িয়ে ধর তাহলে।
- লজ্জা লাগে।
- আরেকটা থাপ্পড় খাবি? নাকি জড়িয়ে ধরবি।
- না না, ধরছি। জড়িয়ে ধরছি।
- ভালবাসি তোকে।
- আমিও।
- আমিও কী?
- ভালবাসি তোকে।

পুরো ক্যাম্পাসের সকল স্টুডেন্ট আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুটা লজ্জাও লাগছে আমার। তবে তার থেকে বেশি ভাল লাগছে নিরুকে জড়িয়ে ধরে থাকতে।
.
সম্পূর্ণ কাল্পনিক গল্প। এর সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:৪০
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডাকাতদর্শন

লিখেছেন মৃত্তিকামানব, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৩০


আমাদের ছোটবেলায় প্রতিদিন নিয়ম কইরা দিনের বেলায় চুরি হইত আর রাতের বেলায় ডাকাতি।ডাকাতরা বেবাক কিসিমের মুখোশ পইরা, অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া আইসা স্বর্ণালংকার, টাকাকড়ি থেকে শুরু কইরা শ্বশুরবাড়ি থেকে আসা পিঠাপুলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার উপদেশ বা অনুরোধ

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:০৩



একটা গল্প দিয়ে লেখাটা শুরু করি-
একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ভদ্রলোক তরমুজ বিক্রি করছেন। তরমুজের মূল্যতালিকা এমন: একটা কিনলে ৩ টাকা, তিনটা ১০ টাকা।
একজন তরুণ দোকানে এসে একটা তরমুজের দাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ

লিখেছেন শাহ আজিজ, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:০৪






সকালে তৎপর মিডিয়া দেখাচ্ছিল বাবার মোটর বাইকে চড়ে মিন্নি কোর্টে এসেছে মাস্ক পরে । এই তিনটার সময় বাবা মিন্নি ছাড়াই বাইক নিয়ে ফিরে গেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

তিস্তায় চীনাদের যোগ করার কোন প্রয়োজন নেই, বাংগালীদের পারতে হবে।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৫৯



ভারতের সাথে তিস্তার পানি বন্টন ও বন্যা কন্ট্রোল কোনভাবে হয়ে উঠছে না; ভারতের পানির দরকার, এতে সমস্যা নেই; ওদের প্রয়োজন আছে, বাংলাদেশেরও প্রয়োজন আছে, এই সহজ ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মবিল

লিখেছেন সাদা মনের মানুষ, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৪৮


ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে আখাউড়া উপজেলার ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী মিনারকোট পদ্মবিল। টিভির খবরটা দেখেই কয়েকজন বন্ধু নিয়ে ছুটে গিয়েছিলাম পদ্মবিল দেখতে। প্রত্যন্ত অঞ্চল হলেও ওখানটায় গাড়ি নিয়ে যাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×