somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইচ্ছে ডানা

১৩ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৭:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

- দেখো শ্রাবণ এভাবে আর না। আমি তোমার সাথে থাকতে পারবো না।
- মুখ অনেককিছুই বলে, মন কিন্তু বলে না।
- পরিবারের চাপে পড়ে তোমাকে বিয়ে করেছিলাম। আর তাছাড়া তোমাকে তো সবকিছু খুলেই বলেছি আমি।
- রাফসানের সাথে কথা হয়েছে?
- হ্যাঁ।
- আমি উকিলের সাথে কথা বলেছি। চিন্তা করো না। কিছুদিনের মধ্যেই ডিভোর্স পেপার পেয়ে যাবে।
- জলদি করো। আমার আর এখানে এক মুহুর্তও থাকা সম্ভব না।
- কোথাও থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসি?
- না, লাগবে না।

শ্রুতি হনহন করে রুম থেকে বের হয়ে গেল। আম্মু প্রথম যেদিন মেয়েটার ফটো দেখিয়েছিল, সেদিনই তাকে মনের মধ্যে এঁকে ফেলেছিলাম। অবশ্য বিয়ের আগে তার সাথে অনেকবার কথাও হয়েছে। তখন সে তার প্রেমের ব্যাপারে আমাকে কিছু বলেনি। আমি রাফসানের সাথেও দেখা করেছি। ছেলেটা ভদ্র আছে। দেখতেও মন্দ না। সম্প্রতি একটা জবও পেয়েছে। এই জবটা যদি সে আগে পেত তবে আমার হয়ত এমন দিন দেখতে হতো না।

বিয়ের পর পাঁচটা মাস কেটে গিয়েছে। আজ পর্যন্তও শ্রুতি তাকে স্পর্শ করতে দেয়নি। একবার কী কারণে যেন তার হাতটা ধরেছিলাম। যার জন্য সে অনেক কথা বলেছিল আমাকে। আমি ইচ্ছে করে ধরিনি। পরিস্থিতি তখন ধরতে বাধ্য করেছিল।
উকিলের সাথে কথা হয়েছে। আগামীকাল পেপার পেয়ে যাব। মেয়েটাও মুক্ত হয়ে যাবে। উড়ে চলা পাখিকে খাঁচায় রাখা যায় না। রাখলে পাখি দম বন্ধ হয়ে মারা যায়।

আমার বাবা মা পাবনাতে থাকেন। চাকরির জন্যে বউকে নিয়ে আমি ঢাকাতে চলে আসি। বাড়িতে থাকলে হয়তো অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হতো শ্রুতিকে। কেননা তখন অনেক কিছু মেইনঠেইন করে চলতে হতো। এখানে তেমন নিয়মকানুন নেই। অভিনয়ও করতে হয় না তাকে। প্রথমে ভেবেছিলাম বাবা মাকে বিষয়টা জানাব। কিন্তু পরে মনে হলো জানানো ঠিক হবে না। তবে শ্রুতির বাবা মাকে জানিয়েছি। উনারা আর্দ্র চোখে আমার হাত ধরে ক্ষমা চেয়েছেন। আমি উনাদের দোষ দেব না। সাথে আমার ভাগ্যেরও না। শ্রুতির সাথে বিয়ের আগে যখন কথা হয়েছিল, তখন সে আমাকে তার রিলেশনের ব্যাপারে জানালেই পারতো।
.
অফিস থেকে একদিনের ছুটি নিয়েছি। কাল শ্রুতিকে রাফসানের কাছে দিয়ে আসতে হবে। বাসায় ফেরার পথে ডিভোর্স পেপারটাও নিয়ে এসেছি। শ্রুতি ঘুমাচ্ছে। চুলগুলো তার মুখের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ইচ্ছে করছে একটু ছুঁয়ে দেখি। পাগল মন বাঁধা মানলো না। তার চুলগুলো সরিয়ে দিতেই সে জেগে উঠলো। উঠেই সজোরে আঘাত করলো আমাকে। সাথে অনেককিছুই বললো। আমি তার টেবিলের উপর পেপারটা রেখে বললাম, তুমি মুক্ত। যখন ইচ্ছে উড়ে যেতে পারো। সে আমাকে আঘাত করার জন্য ক্ষমা চাইলো। আমি বললাম, আগামীকাল তৈরি থেকো। রাফসানের সাথেও কথা হয়েছে।

আমি আর এক মুহুর্তও ওর রুমে দাঁড়াইনি। চোখটা জলে ভিজে গিয়েছিল। আহা, মায়া গো! তুমি বড্ড নিষ্ঠুর গো মায়া। কারো মনে তুমি হুট করেই নিজেকে সঁপে দাও। আবার কারো মনে তুমি নিজেকে প্রবেশ করাতেই পারো না। তুমি এমন কেন গো মায়া? দেখো, শ্রুতি আগামীকালই অন্যের হয়ে যাবে গো। তুমি কি তাকে একটু বুঝাতে পারো না? এই মায়া, শুনছো না তুমি?

সারারাত জেগে ছিলাম। ভোরবেলা ঘুমিয়েছি। হঠাৎই রুমে কেউ নক করলো। আমি দরজা খুলতেই দেখি শ্রুতি দাঁড়িয়ে আছে। ব্যাগপত্র সব গোছানো। আমি বললাম, একটু অপেক্ষা করো।
চোখটা লাল হয়ে আছে আমার। দ্রুত ফ্রেশ হয়ে এসে তাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। রাফসান অপেক্ষা করছে।

রাফসানের সাথে দেখা হতেই শ্রুতি রাফসানকে জড়িয়ে ধরলো। আমার ভেতরটা মোচর দিয়ে উঠলো। আপনজন হারানোর ব্যথা আমি জানি না। তবে হয়তো ব্যথাটা এমনই। শ্রুতি চলে গেল। যাবার আগে শুধু বলে গেল, পেপারে সাইন করে দিও।
.
.
আজ অফিসে কাজ ছিল না। সেজন্য আজ একটু দ্রুতই অফিস থেকে বের হলাম। ইচ্ছে'র জন্য কিছু রঙবেরঙের কাঁচের চুড়ি কিনলাম। মেয়েটা কাঁচের চুড়ি খুব পছন্দ করে। আমি প্রায়ই তাকে কাঁচের চুড়ি কিনে দেই। বিনিময়ে সে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে লম্বা একটা চুমু দেয়।

শ্রুতি চলে যাওয়ার বছর দু'য়েক পর ইচ্ছে'র সাথে আমার সম্পর্ক হয়। মেয়েটাকে অনেকবার আমার অতীত সম্বন্ধে বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে শুনতে চায়নি। আমিও আর বলিনি। কিন্তু কখনো যদি সে আমার অতীত সম্বন্ধে জানতে পারে, তখন কী হবে ঠিক জানি না। তবে এবার আর কষ্ট পাব না।

শ্রুতি চলে যাওয়ার পর বছর ঘুরতেই একদিন একটা চিঠি এলো। এই মোবাইল, ইন্টারনেটের যুগে চিঠি আসাতে খুব অবাক হলাম। প্রেরকের নাম জানা যায়নি। চিঠিতে শ্রুতির ক্রন্দন উল্লেখ ছিল। রাফসান তাকে ছেড়ে দিয়েছে।
চিঠিটা শ্রুতি ছাড়া অন্যকেউ লেখেনি। চিঠি পড়া শেষে আমি খামসমেত ময়লার ঝুড়ির মধ্যে সেটা ফেলে দিয়েছিলাম।

বাসায় ফিরে কলিংবেলে চাপ দিতেই দরজা খুলে গেল। ইচ্ছে যেন দরজার ওপাশেই দাঁড়িয়ে ছিল, যেন আমার জন্যই অপেক্ষা করছিল। মেয়েটা প্রতিদিন আমার টাই খুলে দেই। আজ টাই খুলার সময় দেখলাম মেয়েটা অল্প অল্প সাজুগুজু করেছে। কী সুন্দরটাই না লাগছে তাকে। আমি জড়িয়ে ধরতে গেলাম। কিন্তু সে দিলো না। বললো, না না মশাই আগে ফ্রেশ হয়ে নেন।
আমি তার জন্য আনা কাঁচের চুড়িগুলো তার হাতে দিলাম। খুশিতে মেয়েটার চোখ দুু'টো ছলছল করে উঠলো।

আমি ডাইনিং পেরিয়ে রুমে ঢুকতেই দেখি বিছানাটা ঠিক বাসররাতের মতো করে সাজানো হয়েছে। আমি ইচ্ছেকে জিজ্ঞেস করলাম, বিছানা ফুল দিয়ে সাজানো কেন?
সে বললো, আগে ফ্রেশ হয়ে আসুন মশাই।
আমি ফ্রেশ আসতেই সে দরজা বন্ধ করে দিলো। একটানে আমাকে বিছানায় নিয়ে গেল। অতঃপর....। অতঃপর যা হবার তাই হলো। আমি তাকে "এত আয়োজন করে ভালোবাসার কারণ" জিজ্ঞেস করলে সে আমার হাতে একটা ডায়েরি ধরিয়ে দিলো। ডায়েরিটা আমারই। শ্রুতি চলে যাওয়ার পর ডায়েরি লেখা বাদ দিয়েছি।
ইচ্ছে চোখ রাঙিয়ে বললো, আমি ছাড়া যদি অন্যকোনো মেয়ের দিকে তাকাস না, তবে একদম খুন করে ফেলব। তুই শুধু আমার। একমাত্র আমাকেই ভালোবাসবি। সবসময় আমাকে ছুঁবি। যখন ইচ্ছে হবে জড়িয়ে ধরবি। বুঝছিস?

ও প্রেম, ও প্রেম গো,
তুমি খরাতে শুকায়ে যাও
সাগরে ভাসাও গো নাও।
কারো কিছে ধরা দিয়ে
কী সুখ বলো পাও?
ও প্রেম, ও প্রেম গো!
.
ইচ্ছে ডানা
লেখক: Srabon Ahmed (অদৃশ্য ছায়া)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৭:২৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×