somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শ্রাবণ আহমেদ
শ্রাবণ আহমেদ। ট্রেইনার অব "উই আর স্টুডেন্টস" ঢাকা।

গল্প- স্বার্থপর ১

১০ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দিন দিন হতাশা বাড়ছে। মানসিক শান্তি হারিয়ে যাচ্ছে। জোর করে হাসতে হাসতে শরীরটা বড্ড ক্লান্ত হয়ে উঠেছে। মানুষ প্রেম করে কেন? একটু মানসিক শান্তি, একটু যত্ন, একটু ভালোবাসা, এই তো! এছাড়া আর কি চায় মানুষ? ভালোবাসার মানুষটা শত ব্যস্ততার মাঝে একটু খোঁজ নিক, নিয়ম করে দুপুর বেলা একটা ছোট্ট টেক্সট করে বলুক, "সারাদিন অফিসের কাজ করলে হবে? পেটের দিকে তাকাতে হবে না? তুমি না হয় ক্লান্ত না হতে পারো। তোমার পেটটা তো ক্লান্ত হয়। তাকে অন্তত কষ্ট দিও না, সময় করে একটু দানা পানি দিও।"
এটুকু বললে কি আহামরি ক্ষতি হয়ে যায়? ভালোবাসার মানুষের অবহেলা বড্ড পোড়ায় গো, বড্ড পোড়ায়। আর কতদিন এভাবে চলবি? এবার তো একটা সমাধানে আয়। নয়তো দিন দিন যে তুই নরকের যন্ত্রণায় ভুগতে ভুগতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবি।

উপশহরের সামনে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে শ্রাবণ। আর আনমনে এসব ভেবে চলেছে। বেশ কয়েক সপ্তাহ যাবৎ মেঘার সাথে তার দেখা হয় না। ফোন কলে নিয়মিত পাওয়া যায় না। মেসেজ করলে দু-তিন দিন পর ফিরতি মেসেজে একরাশ ব্যস্ততা নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে লেখে- অনেক ব্যস্ত ছিলাম গো, কিছু মনে করো না। আমি ফ্রী হয়ে তোমাকে নক দেবো।
এভাবেই চলছে দিন। কিন্তু শ্রাবণ আজ এসবের একটা শেষ দেখে ছাড়বে। যদি মেঘা রিলেশন কন্টিনিউ করতে না চায়, তবে তাই হবে। আর রিলেশন কন্টিনিউ করতে চাইলে একটা দস্তখত করতে হবে। সেখানে আর কিছু উল্লেখ না থাকলেও এটুকু উল্লেখ থাকবে, মেঘা নিয়ম করে প্রতিদিন শ্রাবণের সাথে একবার হলেও দেখা করবে।
.
হঠাৎ মেঘার কল। শ্রাবণ কল রিসিভ করতেই মেঘা বলে উঠলো, আজ আসতে পারবো না গো। কাল দেখা করি?
শ্রাবণ আজ পণ করেই এসেছে। দেখা সে করবেই। সে বললো, কাল কাল করে তো মাস চলে গেল। আজ তোমাকে আসতেই হবে। রিলেশন রাখতে চাও না, সেটা আজ সরাসরি নিজের মুখে বলে যাবে।
- কে বলেছে রিলেশন রাখতে চাই না?
- কল রাখো। আসো দ্রুত।
.
মিনিট দশেক পর মেঘা এলো। কি উৎফুল্ল দেখাচ্ছে তাকে! জগতের যত হাসিরা আছে, সব বোধ হয় তার ঠোঁট জুড়ে লেপ্টে রয়েছে। চেহারায় উজ্জলতা খেলা করছে। আর এদিকে শ্রাবণের চেহারায় যেন ভর করেছে আকাশের ঘনকালো মেঘেরা।
মেঘা কোনো কথা না বলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।
- কথা বলবে না?
মেঘা শুধু তাকিয়েই আছে। কোনো কথা বলছে না।
- মেঘা। এই, শুনছো? অমন করে তাকিয়ে আছো কেন? কথা বলবে না?

মেঘা কাঁপা কাঁপা গলায় বললো, হ্যাঁ... হ্যাঁ।
- তুমি ঠিক আছো?
- হ্যাঁ।
- তুমি কি চুল কেটে ছোট করেছো?
- কই না তো?
- তাহলে চুলগুলো এত ছোট হয়ে গেল কিভাবে? তোমাকে না বলেছিলাম, বড় চুল আমার ভীষণ পছন্দের!
- আসলে আমি কাটতে চাইনি। মেঘকে তো চিনো, কি দুষ্টু। আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। সে দুষ্টুমি করতে করতে কাঁচি দিয়ে চুল কেটে ফেলেছে।
- মেঘকে নিয়ে আসতে পারতে। ওকেও অনেকদিন দেখি না৷
- ও একটু নানুর বাসায় ঘুরতে গেছে।
- তুমিও কি ঘুরতে গিয়েছিলে?
- না।
- তাহলে এতদিন দেখা করোনি কেন? কোথায় ছিলে?
- আসলে...
- তুমি জানো মেঘা, তোমাকে দেখতে না পেয়ে আমি দিন দিন পাগল হয়ে যাচ্ছি? আমার দিকে খেয়াল করেছো তুমি? তোমাকে ফোনে পাওয়া যায় না, তোমার সাথে দেখা করা যায় না, তোমার কোনো খোঁজই পাওয়া যায় না।
- আসলে আমি...
- আমাকে ভালো লাগে না আর? নাকি আমার প্রতি তোমার আগ্রহ ফুরিয়ে গেছে। বলো মেঘা। মেঘা আমি তোমাকে আমার জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসি গো, আমি তো সেই কবেই এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করতাম। তুমিই তো বাঁচিয়েছিলে আমাকে। তবে আজ কেন আমাকে তুমি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছো? যদি আমাকে এভাবেই মারবে, তাহলে এত আশা দেখিয়েছিলে কেন? এত ভালোবেসেছিলে কেন? আমি যে এখন বেঁচে থেকে মরা রে মেঘা। আমার অসুখ বেড়েছে। তোরে দেখার অসুখ, তোর সাথে কথা বলার অসুখ। এর কোনো প্রতিষেধক আছে? বল না রে মেঘা, এর কোনো প্রতিষেধক আছে?

মেঘা অন্যপাশ ফিরে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। শ্রাবণ উন্মাদের মতো বলেই চলেছে, আমি তোকে বড্ড বেশি ভালোবাসিরে। আমাকে একটু ভালোবাস্ না মেঘা। তোর ভালোবাসা পেলে আমি সুস্থ হয়ে যাবোরে। মেঘা কথা বলিস না কেন, কথা বল।

মেঘা কোনো কথা বলছে না। মেঘার চোখে জল। শ্রাবণ তার হাত ধরতেই মেঘা যেন কেঁপে উঠলো।
- মেঘা তুই কাঁদছিস? কি হয়েছে তোর? মেঘা। তোর চোখে জল কেন?

তড়িঘড়ি করে চোখের জল আড়াল করে মেঘা বললো, আজ আমি আসি।
বলেই মেঘা হন্তদন্ত হয়ে হাঁটা ধরলো। শ্রাবণ কিছু বলার সুযোগই পেল না। কত কথা জমে ছিল তার হৃদয়ে। কিছুই বলা হলো না। মেঘা চলে গেল।
.
শ্রাবণের পা দু'টো যেন অসার হয়ে আসছে। হাঁটার শক্তিটুকুও নেই। সে একবার ভাবছে মেঘার বাসায় যাবে কিনা। মেঘার বাবা প্রচন্ড ভালো মানুষ। শ্রাবণকে তিনি অনেক ভালো ছেলে হিসেবেই জানেন। কিন্তু আজকে এই অবস্থায় তাদের বাসায় গেলে মেঘার বাবা কি ভাববেন সেই চিন্তা করে সে আর পা বাড়ালো না। নাবিলকে কল করে বললো তাকে উপশহরের সামনে থেকে নিয়ে যেতে।
নাবিল তার রুমমেট ছোট ভাই। তারা দু'জন একসাথেই থাকে।

কিছুক্ষণ পর নাবিল এসে শ্রাবণকে নিয়ে যায়। শ্রাবণের শরীরের অবস্থা বেশ খারাপ।
.
স্বার্থপর
পর্ব-১
লেখক: Srabon Ahmed (অদৃশ্য ছায়া)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১:৫৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট : পর্ব- ১

ভুমিকা
১.১ গবেষণার পটভূমি
একবিংশ শতাব্দীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রিয় ২৬টি পোস্ট; যেগুলো আপনারও ভালো লাগতে পারে

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৭

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth- তবে কি আমরা মহাবিশ্বের ভৃত্য?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

Humans are not from Earth: A Scientific Evaluation of the Evidence বইটির লেখক ডক্টর এলিস সিলভার (Dr. Ellis Silver)-এর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক জীবন নিয়ে মূলধারার তথ্যমাধ্যমে এক ধরনের রহস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×