somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাশফুলের কন্যা

২৮ শে মে, ২০১০ সকাল ৯:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেয়েটির পরেছিল সবুজ শাড়ি৷ বাতাসে ফুরফুর করে উড়ছিল শাড়ির আঁচল, মাথার চুল...

আকাশের দিকে তাকিয়ে কি হাটা যায়? ব্রক্ষ্ণপূত্র নদের পাড়ে সেইভাবেই হাটার চেষ্টা করছিল নীল৷ ওর নামটি শুনে অনেকেই জিজ্ঞাস করে কেন ওর নাম নীল? প্রশ্নের উত্তর দেয় প্রশ্ন দিয়েই... কারও নাম যদি লাল হয়, আপনি কি জিজ্ঞাস করেন কেন তার নাম লাল? এ কথা শুনে অনেকেই চিমসে যায়, কেউ কেউ মুখ বাঁকা করে, ভাবে কি উদ্ধত ছেলেটা!
নীল এমনি৷ ও জানে ওর নামের রহস্য৷ মা বলেছে৷
নীলেরা থাকে ময়মনসিংহে৷ শহরের পাশ দিয়ে যে নদী গেছে তারই নাম ব্রক্ষ্ণপূত্র৷ নদী পুরুষ না নারী, নদ না নদী এই প্রশ্ন কুঁড়ে খায় নীল কে৷ ভালো লাগে না৷ নদী তো নদী৷ রিভারকে -কে মেয়ে বানাবে, কে বানাবে পুরুষ? এই নদীতে এক সময় গভীর পানি ছিল৷ আকাশের রঙ সাদা না কালো , না ধূসর... যাই থাকুক না কেন সেই নদী থাকতো নীল রঙে৷ নীলচে কঁচের গ্লাসের মতো সেই পানির রঙ৷ এখন নেই সেই রঙ ৷ কোথায় যেন হারিয়ে গেছে৷ যে নদীতে পানি থাকে না, তার আবার রঙ!
সেই হাটুজলের নদীতে এখনো কাশফুল জন্মায়৷ বাতাস বয়ে যায়। দূরে শম্ভুগঞ্জ মিলের সাইরেন এখনো বাজে৷ সেই কাশফুলের চরেই মাঝে মাঝে হাটতে যায় নীল৷ নীল কাশফুল ভালোবাসে৷
আজ এমনি একদিন৷ সুন্দর হালকা গোলাপী রঙের টি শার্ট পড়ে হেটে বেড়াচ্ছে নীল৷ খালি পা৷ হাটতে হাটতেই হঠাৎ তার চোখে পড়লো মেয়েটিকে৷ মেয়েটি পরেছে সবুজ শাড়ি৷ বাতাসে ফুরফুর করে উড়ছিল শাড়ির আঁচল, মাথার চুল...৷ নীল অবাক৷ একা একা কোন মেয়ে সাধারণত এই নির্জন মরা নদীর চরে ঘুরে বেড়ায় না৷ মেয়েটি ঘুরছে৷
ছেলেটিকেও দেখে মেয়েটি৷
এগিয়ে যায় নীল৷
: আপনি?
: হ্যা আমি৷ কেন
: না, এমনি৷ আপনি কি ঘুরতে এসেছেন? নীলের প্রশ্ন৷
: না এখানে বড় একটা ভোজসভা হবে৷ সেই ভোজ সভায় নানা খাবার আছে৷ মোগলাই পরোটা আছে, চটপটি আছে, ফুঁচকা আছে৷ টক তেতুলের খাট্টা দেওয়া৷ আমি নিমন্ত্রিত তাই এসেছি৷
কিছুটা অপ্রস্তুত নীল৷ বলে কি মেয়েটা৷ ঠোটকাটা কি একেই বলে৷ নীল ভাবে৷ হঠাৎ মেয়েটির প্রশ্ন
: আচ্ছা মোগলরা কি চটপটি খেতো, ফুঁচকা?
: জানি না৷ আমার মনে হয় না৷ তারা মাংস পোলাও খেতো বলে শুনেছি৷
: তাহলে তো মোগল মেয়েরা আসল মজাটি পায়নি৷ যদি পেতো তাহলে ফুচকার নাম কি হতো জানেন?
: জানি না৷
: নাম হতো মোচকা৷ মোগল এবং ফুচকা এই দুই নামের একরূপ৷ আচ্ছা এই চরের কি নাম?
: এই চরের কোন নাম নেই৷ কাশবনের চর বলতে পারেন৷ সারা বছর এখানে কাশ থাকে৷ সময়ে ফুল ফোটে৷
: এখানে পাখি নেই? টুনটুনি?
: আছে তো৷ আমি তো প্রায়ই দেখি৷
: আমাকে দেখাবেন৷ আমি কখনো টুনটুনির বাসা দেখিনি৷
নীল টুনটুনির বাসা খোঁজে৷ কাশ সরিয়ে তাকায় এদিকে, ওদিকে৷ পেয়েও যায়৷
: দেখুন এই যে টুনটুনির বাসা৷ ছোট্ট বাসা৷ কাশের ঝাড়ের দুটি গাছের সঙ্গে কি সুন্দর করে বাসাটি বানানো৷
: আচ্ছা ওরা এতো সুন্দর করে বাসা বানায় কেন?
: থাকার জন্য, জন্য ভালোবাসার জন্য৷ প্রিয়ার জন্য, প্রিয়‘র জন্য৷
: ওরা কি ভালোবাসা বোঝে?
: বোঝে তো! তা না হলে এতো কিছু কেন?
: ভালোবাসলেই কি সব কিছু করা যায়?
: যায়৷
: আপনি করেছেন কখনো?
: আমি...দ্বিধায় পড়ে যায় নীল৷ নীল তার জীবনে কাউকে জড়ায়নি৷ কিংবা তাকে কেউ টানেনি৷ কথাগুলো অনেকটা গুছিয়ে বললো সে৷ মেয়েটি শুনলো৷ মেয়েরা নাকি ভালো শ্রোতা নয়, ভালো বক্তা, কে যেন বলেছিল৷ এই মেয়েটি তেমন নয়৷
: প্রেমে পড়েননি... তাহলে তো কবিতাও লিখেন নি৷
: তা লিখেছি৷
: তাই! কাকে নিয়ে?
: আকাশ, এই নদী৷ কালো রাত, সবুজ ঘাস..রঙ্গিন পাখি৷
: বাহ, খুব ভালো৷ এই প্রথম পেলাম, যে কোন মেয়েকে নিয়ে কবিতা লিখেনি৷
: আপনি, মানে আপনি কখনো কবিতা লিখেছেন?
: জানতে চাইছেন প্রেমে পড়েছি কি না?
: ঠিক তাই৷
: মেয়েরা প্রেমে পড়লে কবিতা লিখে না৷ শোনে৷ নিজেকে নিয়ে অন্যকেও কবিতা লিখবে, সেই কবিতা সে শুনবে৷ এটি দারুন মজার ব্যাপার৷
ওরা হাটতে থাকে৷ কথা বলতে থাকে৷ মেয়েটির সবুজ শাড়ি উড়ে ফিরে, কপাল বেয়ে পড়ে কালো চুল৷ ওরা শামুক দেখে৷ দেখে হাটুজল নদীর কুলকুল চলে যাওয়া৷ দূরে আকাশে সাদা বক উড়ে যায় তাও দেখে৷ আজ আকাশে হালকা কালো মেঘ করেছে৷ বকটিকে মনে হয় মেয়েটির কপালের সাদা টিপ৷
মেয়েটি হাটুজলে হাটতে থাকে৷ দাঁড়িয়ে যায় নীল৷ নীল এখনি পানিতে পা ডোবাবে না৷ সন্ধ্যা হবে, জোনাকিরা বাতি জ্বালাবে, তারপর ফিরে যাবে সে৷
মেয়েটি চলে যাচ্ছে৷ একবারের জন্য পিছনে তাকালো কেবল৷ বললো
: ভালো থাকবেন৷

ঝিরঝিরে বাতাস৷ কোথাও একটা নাম না জানা পাখি ডেকে বেড়াচ্ছে৷ হয়তো সে তার সঙ্গীকে খুঁজছে৷ সঙ্গীটি কি হারিয়ে গেছে? ভাবে নীল৷
শাড়িটিকে সামান্য তুলে হাতে স্যান্ডেলটি ঝুলিয়ে চলে যাচ্ছে মেয়েটি৷ বেশ খানিকটা হাটতে হবে তাকে৷ হাটতে হাটতে এক সময় হারিয়ে যাবে সে৷
হারিয়ে যাওয়া এ মেয়েটির নাম জানে না নীল....
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৩:৪৪
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×