
চারপাশ নিমজ্জিত- যেন নেই কোন দ্যুতি, অথবা নেই কোন আঁধার ! বিশ্বাসের কীলকে ঝুলে আছে অবিশ্বাসের নিথর দেহ, ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে মাংসাশী পিঁপড়ের দল- লোমকূপ থেকে হৃদপিণ্ড। তারকাঁটায় ঝুলে ঝুলে চলা পিঁপড়েগুলোর বিষাক্ত চোয়াল হয়েছে যেন আরও ক্রুদ্ধধার । দেহের চামড়া, মাংসপিণ্ড দেহ কাঁপিয়ে আসছে ছিঁড়ে মুখের রসাল লালায় । এই বিশুদ্ধ নগরীতে আছে জলছবি , ফোঁটা ফোঁটা জল গড়েছে সাগর, ঝরনা নিদারুণ- শুধু যায় শ্রবণ করা তাদের কথপোকথন, বয়ে চলা ঝিকিমিকি সুর । যদিও কেউ তাদের অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেয় নি, যায় নি ওদের দেখা কখনো । বিরহী রঙয়ের বাজপাখিগুলো ধূসর কক্ষপথের বুকে ডানা ঝাপটায় - ওদের বুকভরা স্বপ্ন, একদিন ওরাও ডাকবে কন্ঠস্বরের অস্তিত্ব খুলে । পত্রপল্লবের শরীরে চিকন রেখাগুলো এঁকেছে ঠিকানাহীন চিঠি , এভাবে ওরা নিজেদের ঝরিয়ে দেয় বয়ে চলা শুকনো বাতাসের দিকহারা অন্তহীন পথে । এ নগরী করে না কাউকে ঋণী, দায়হীন হয়ে সকলে চিরনিদ্রায় পতিত হয় জেগে উঠা রঙহীন মৃত্তিকার নিঃস্বার্থ বুকে । আধিপত্যহীন স্বতন্ত্র এই সাম্রাজ্যে আপনালয় বলে নেই কোন কিছুর অস্তিত্ব- প্রতিটি পদধূলি আপন হয়ে আলিঙ্গন যত্রতত্র ! কান্না- হাসির যৌথ অনুভবের নেই কোন হানাহানি, যে হয়েছে যার আপন মনে- মালিকানা দাবিতে মূল্য ওদের বরাবর ! সুখী হওয়ার মাপকাঠির হয়েছে ঘৃণাতে প্রেম । নগরীর যত ঘৃণা, মরে কুরে কুরে অবিশ্বাসের দেহে ।এবং পিপাসু পিঁপড়ার দল খায় ছিঁড়ে ছিঁড়ে পচনশীল ভালোবাসা ।
অতিকায় প্রাচীন গন্ধমাখা শরীরের গল্প যখন হয়েছে এতটুকু, হলাম আমি মুগ্ধ । এই রঙহীন নগরী আছে কোথায় ? যেতে চাই আমি সেখানে ! কাটিয়ে দিতে চাই অনন্তকাল নীরবে, নিঃসংশয়ে । বড্ড ক্লান্ত আজ এই রঙ্গময় নগরীর রঙিন ধাঁধায় ! ওরা বলে এটা, এরা বলে সেটা; ওরা বলে এদিক এরা বলে ওদিক । চারপাশ জুড়ে দুঃখ সুখের কাণ্ডারি, প্রেম-হৃদয়ের আগ্নেয়গিরি ! কতশত রহস্য, জৈবিক আখ্যা- ব্যাখ্যা, মনঃসংযোগের অপেক্ষা ! ক্ষণে ক্ষণে রঙের রূপ অদলবদল, ধোঁয়াশার দুঃখে হচ্ছে নিত্যি সময়ের অপমৃত্যু, বিমুখ রাতকে সাক্ষী রেখে কতশত দুঃখের পুনর্বাসন, পাপের ভূমিষ্ট । নিয়ে যাও মোরে ওই রঙহীন নগরীতে, রঙের প্রয়োজনীয়তা গেছে ফুরিয়ে- হয়েছে বহুকাল । রঙহীন নগরী তো দিয়েছে কথা- কোথাও নেই অবিশ্বাস !
ছবি- নেট কৃতজ্ঞতা ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৬ রাত ৮:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



