
কবিতা লেখার মত যথেষ্ট পরিণত হাত আমার নেই, মস্তিষ্কও নেই । বিপরীত অর্থে, কবিতা না লিখলে ভাতে মরার ব্যাপারও নেই, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি রুখে যাওয়ার মত ঘটনাও ঘটে না । তবুও কবিতা লিখি, কবিতা লেখা হয়ে যায়, হয়তো কবিতার মত নয় ! কবিতার মধ্যে একপ্রকার যাদুবিদ্যা রয়েছে । কবিতা লিখতে বসলে হৃদয়ে এক ধরণের অলংক্রিয় অনুভব খেলা করে। কেউ কেউ এই অনুভবকে উপভোগ করার চেষ্টা করে, কেউ কেউ এড়িয়ে যায়। কাব্যিক মন সার্বজনীন । যারা অনুভব করে তাদের কিছু লিখতে ইচ্ছে করে, কিছু না লিখলে অস্বস্তি লাগে। মানুষের হৃদয় যতদিন আছে, কবিতাও ততদিন থাকবে । হৃদয়কে এড়িয়ে চলার ক্ষমতা মানুষের নেই । তবে শতকরা অনুপাতে সিংহভাগ মানুষ কবিতা এড়িয়ে চলে । কবিতাভিত্তিক হৃদয় মূলত বিরল, এমন হৃদয় মানুষকে নিঃস্ব করে দেয়ার মত ক্ষমতাবান !
কবিতা সন্ধানীরা স্বার্থান্বেসী হতে পারে না, খুব সম্ভবত এখানেই নিঃস্ব হওয়ার বীজ লুকিয়ে থাকে । কবিতা ধরতে ধরতে কবিরা নিজের অজান্তে উজাড় হয়ে যায় ! আত্মিক সম্পর্কে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে । এখানেই মূলত আমার ভীষণ ভয়, এই জগত মারাক্তক ধরণের নেশাগ্রস্ত, গোগ্রাসে গিলে ফেলে মানুষের পুরো হৃদয়। স্বাভাবিক জীবনে হামলে পড়ে বেখেয়াল, চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে বেখবরগুলো । কিঞ্চিৎ বিষয়গুলোয় গভীর অন্তর্ধান এ জন্য দায়ী । কিছু বিষয়ে দায়বদ্ধ হয়ে আঁটকে পড়ে কাব্যিক জীবনের এক গোলোক ধাঁধায় । এখন পর্যন্ত কেউ এ বিষয়ে উদ্ধারনীতি প্রণয়নের কোন পদক্ষেপ নেয় নি । কবিতাগ্রস্ততার দায় যেন শুধু উক্ত কবিই বহন করবে ! আত্মঘাতী বিষয়ে পৃথিবীর আগ্রহ যথেষ্ট পরিমাণে নেই । কবিদের হয়তো পৃথিবী ভাবে আত্মঘাতী সাবজেক্ট ! তাই কী হয় ! উজাড় করে দেয়ার সম্পর্ক তো মহৎ কাজের সাথে সম্পৃক্ত, তবে কেন কবি আত্মঘাতী ! নির্মমের সাথে তার বোঝাপড়া নেই তাই ? সে স্বচ্ছ দৃষ্টিতে অস্বচ্ছতাকে দেখতে চায় তাই ? পৃথিবী এ বিষয়ে কোন প্রকার জবাব সংরক্ষিত রাখে নি । হয়তো কবিদের বিষয়ে কোন জবাব থাকে না, প্রশ্ন দিয়ে হয়তো কবিদের খণ্ডন করা যায় না.....
ওরা দৃশ্যমান অদৃশ্য....
সম্ভাব্য কিছুতে নিমগ্ন ব্যাখাতীত কেউ একজন....
দরজাহীন ঘরে বসতকারী কোন আগুন্তুক...
হয়তো নিজেকে চিনে ফেলার ভয়ে কুঁকড়ে থাকা কোন ঘরকুনো....
ছবি বন্ধু- গুগল ইমেইজ !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

