somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎ

০৩ রা আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মনের ক্ষত স্থানটিতে সময়ের প্রলেপ লাগিয়ে আমার বর্তমান চেতনা এখন উত্তেজনাহীন। নিরুত্তাপ থাকার সহস্র চেষ্টা করেও বুকের ভেতর হাপরের উঠানামা রোধ করা যাচ্ছে না কিছুতেই। সাদা নাম ফলকে কালো গোটা গোটা অক্ষরে জলজল করছে কাঙ্ক্ষিত সেই নাম। তারপরেও স্মার্ট ফোনে সেইভ করে রাখা ঠিকানার সাথে নেইম প্লেটের লেখা মিলিয়ে নিশ্চিত হয়ে যাই "হ্যা এই বাড়ীটিই ৫২ ম্যাপল ষ্ট্রীট চেরি হিল"।

কিছুটা ইতস্তত করে দরজার ডানপাশের ডোরবেলে হাত রাখি। এপ্রিল মাসের আরামদায়ক ঠাণ্ডাতেও আমার হাতের তালু ঘামে ভিজে গেছে। চকচকে সাদা ডোরবেলে ঘামে ভেজা আঙ্গুলের ছাপ লেগে গেলো। কয়েক মিনিট পর আধবোজা দরজা ধরে এক কৃষ্ণ মহিলা উঁকি দিয়ে যথাসম্ভব মোটা গলায় জানতে চাইলেন “কী চাই?”

মহিলাটির বয়স বেশী হলে চল্লিশের কোঠায়।

“এটাইতো ৫২ ম্যাপল ষ্ট্রীট, অনির্বাণ এখানেই থাকেন তো"? এতটুকু কথা বলতেই আমার পানির তৃষ্ণা পেয়ে গেলো !

মহিলাটি গম্ভীর আর ভীষণ শান্ত গলায় বলল "ইয়েস"

তাঁর বলা "ইয়েস" কথাটি আমার কর্ণ দিয়ে ঢুকে হৃদয়ের দুই অলিন্দে ভীষণ আলোড়ন তুলে আমাকে চঞ্চল করে দিল। অনেকটা যেন সাহিত্যে যেমন করে বলা হয় "শান্ত দিঘিতে ঢিল ফেলা" ঠিক তেমন করে। তারপরেও আমি নির্বিকার থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করলাম। আমার মুখে কোন রকম ভাবান্তর সে যেন টের না পায় তাই যথেস্ট পরিমান শান্ত আর বিনয়ী গলায় বললাম

“আমি কি তাঁর সাথে দেখা করতে পারি?”

কৃষ্ণ মহিলাটি পূর্বের চেয়েও আরোও একটু বেশী গম্ভীর হয়ে বলল " তিনি এখন লাঞ্ছ করে আরাম করছেন। বিকেল চারটায় তার কফি খাওয়ার সময় তখন দেখা হতে পারে"।

আমি কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে স্মার্ট ফোনে সময় দেখে নিলাম। এখন বাজে দুপুর দেড়টা। আরও আড়াই ঘন্টা সময় কি করে কাটানো যায়! এই ভাবনায় আমার ভ্রু জোড়ায় ভাঁজ পড়লো। আমি তাকে কিছু বলতে চাইলাম। দরজার দিকে চেয়ে দেখলাম দরজা বন্ধ। মেয়েটি উধাও।

নিউইয়র্ক পোর্ট অথোরিটি বাস টারমিনাল থেকে গ্রে হাউন্ড বাসে করে রওনা দিয়েছি সকাল নয়টায়। ফিলাডেলফিয়া আসতে চার ঘন্টা লাগলো। উবার কল করে ঠিকানা খুজে বাড়ি বের করতেই এত সময় চলে গেলো !

ছোট ছোট পা ফেলে আমি বাড়ির আঙ্গিনা থেকে রাস্তায় এসে দাড়ালাম। কাঙ্ক্ষিত তাঁর সাথে সাক্ষাৎ না হওয়াতে বুকের ভেতর কেমন যেন ভারি ভারি লাগতে লাগলো। চোখ দুটো জালা করে ঝাপ্সা দেখতে লাগলাম। দীর্ঘ বছরের জমানো অনুভবগুলো এখন দুচোখ গড়িয়ে আমার সাদা সুয়েটার ভিজিয়ে দিচ্ছে। উল্টো হাতে চোখ মুছে আমি অদুরে এক কফি শপের দিকে হাঁটতে লাগলাম

কফি শপের দিকে হাঁটতে যেয়ে টের পেলাম আমার পা দুটি বেশ ক্লান্ত। চোখের সামনে দিয়ে অতীতকে হেঁটে যেতে দেখে বুঝতে পারলাম ভালোবাসা রূপকথার মতোই এক অলীক ব্যাপার! জুলাই মাসের সেদিন সকালে বৃষ্টি হচ্ছিল খুব। রাস্তা পার হতে গিয়ে, পা পিছলে অনি একটা গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে জ্ঞান হারায়। পথচারী ৯১১ এ কল করে তাকে হাস্পাতালে নিয়ে যায়। জ্ঞাণ ফিরে আসার পর অনি চোখ কচলাতে কচলাতে আমাকে খুঁজতে থাকে। খবর পেয়ে আমি পড়িমরি করে ছুটে আসি তাঁর পাশে। কি গভীর আকুলতায় সে তখন আমার হাত ধরে বলেছিল " বিশ্বাস করো জ্ঞাণ হারানোর মুহূর্ত আগে তোমার মুখটাই দেখতে চেয়েছিলাম শুধু"! তার কথার সারল্য আমাকে বিশ্বাস করতে হয়েছিল। হ্যা আমি তাকে বিশ্বাস করেছিলাম।

আজ এতোগুলো বছর পর বুকের পাঁজর সংকোচন করে হাঁটতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। কফিশপের পাশ দিয়ে কালো পীচ মোড়ানো রাস্তাটি চলে গেছে বাফেলোর দিকে। রাস্তার উপর ছুটন্ত গাড়ীর চাকার প্রতি দৃষ্টি রেখে আপন মনে বলতে থাকি "অনির্বাণ তোমার জন্য ভালোবাসা" ৷
তুমি কেবলমাত্র আমার একটি স্পর্শকাতর অনুভবের নাম ৷সম্পর্কের মাপাজোঁকায় এ অনুভবের কোন প্রতিচ্ছবি নেই অনির্বাণ! নেই কোন ইতিহাস, নেই ভবিষ্যতও। শূন্যতার বেড়াজালে আবদ্ধ আমি বুঝতে পারি তোমার প্রতি এ আমার শুদ্ধ প্রেম। কোথায় তুমি অনির্বাণ ?

কফি শপের স্বচ্ছ কাঁচের ভেতর দিয়ে বাহিরে দেখতে পাই শুভ্র চেরীফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে শীতল বাতাস বয়ে যাচ্ছে।

প্রথম পর্ব শেষ করলাম--

(অনেক দিন পর নতুন কিছু লেখার আনন্দই আনন্দ)

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০২১ ভোর ৬:১১
১৫টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রধানমন্ত্রী বিদেশে, আইনও কি সঙ্গে নিয়ে গেছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৬


প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলেই দেশ অশান্ত হয়ে ওঠে । সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে কেন? প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলেই কিছু নেতাকর্মী যেন নিজেদের দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তখন

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×