কুহেলিকা
এই মনটা তোমাকে দিব বলেই তো তৈরী করেছি। যা কিছু উচ্ছিষ্ট ছিল এ মনে সব দূরে সরিয়ে দিয়েছি। যা কিছু ছিল জঞ্জাল-আবর্জনা সব দু’হাতে উপড়ে ফেলেছি। এরপরও বলো, তুমি কেন আমার হবেনা ? তোমাকে একলার করে পাবার জন্যই তো আমার এই আয়োজন। নিজকে সম্পূর্ণ একলা করে শুধু মন নিয়ে বসে আছি তোমাকে দিব বলে। তোমার অধিকারে নিজকে সমর্পণ করার এরচেয়ে ভালো কোন আয়োজন আমার জানা নেই।
তুমি রাগ করোনা বন্ধু। আমার এই সীমাবদ্ধতা তোমার প্রতি আমার অনুরাগের সীমাবদ্ধতা নয়। তুমি আমার মনে যতটুকু আছো, তা অসীম এক শূন্যতাকে ভরিয়ে দিতে পারে অবলীলায়। তাই তো বাঁধাহীন আকাশে মনের পাখা মেলে উড়তে আমি শুধু তোমাকেই দেখি।
তুমি ভেবোনা তোমাকে এভাবে দেখেই আমি পরিতৃপ্ত কিংবা মনের কল্পজগতে তোমাকে নিয়ে এভাবে ভেবে ভেবে আমি পূর্ণ। না; অত অল্পতে তৃপ্ত হবার মানুষ আমি নই। তাই তো মনের প্রাঙ্গণের বাইরেও তোমাকে খুঁজি বারবার। তোমাকে পেতে চাই আমার সত্তায়, আমার অস্তিত্বে।
আচ্ছা, তুমিই বলো, এটা কি আমার অতিরিক্ত চাওয়া ? কেউ কেউ বলে এটা আমার মিছে আশা, মরীচিকার মতো একদিন উড়ে যাবে। কিন্তু আমি এসব মানব কেন বলো ? আমি তো তোমাকে চিনেছি আজ নতুন নয়। সেই যে শৈশবে হাত ধরাধরি করে দু’জনে ছুটে বেড়াতাম দিগন্তজুড়ে, সেই থেকে আসাদের এই বন্ধন।
কিন্তু আমার চারপাশে যারা আছে তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা এটা। তাই তো দেখো, তোমার থেকে আমাকে দূরে রাখার জন্য তাদের কত উদগ্রীব প্রচেষ্টা। সেই যে তুমি বলেছিলে না, মনে মনে মিলন হলেও একটা তৃতীয় মন যেন এদের মাঝখানে থেকেই যায় - যে সব সময় সবকিছুতে বাঁধা দেয়।
আমারও আজ হয়েছে সেই দশা। তুমি মানো কি না জানিনা, আমি কিন্তু আমাদের দুই মনের মাঝখানে সেই তৃতীয় মনের অস্তিত্ব একটু একটু করে টের পেতে শুরু করেছি। তোমার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণা আমার এই মনটাকে সম্পূর্ণভাবে অধিকার করে নেয়ার আগে তাই আমি চাই তুমি চলে এসো আমার কাছে। এরপর আর কিসের বাঁধা আমাদের মাঝে ? কিসের তৃতীয় মন ? তুমি-আমি এক হয়ে যাব যখন।
কিন্তু এক হওয়া হয়না রুচিতার। রাতের গভীর নির্জনে একাকি বারান্দায় বসে মনে মনে এভাবেই প্রতিদিন কথা বলে রুচিতা বিপুলের সাথে। তার ছোটবেলার ভালো লাগার বিপুল। মনের গভীরে ক্ষত সৃষ্টি করা বিপুল। যে ক্ষত বয়ে বেড়াতে বেড়াতে আজ চারপাশে নিঃসঙ্গতার একটি দুর্ভেদ্য প্রাচীর তৈরী করে ফেলেছে রুচিতা। যে প্রাচীরে বন্দী থাকতে থাকতে ক্রমশঃ একটা নির্জন প্রকোষ্টে নিজকে আটকে ফেলেছে সে। সেখানে সে শুধু একা নয়। সেখানে তার সঙ্গী এসব সাজানো কথামাল।
মনে মনে কথার গাঁথুনিতে বিপুলকে এভাবেই নিজের মধ্যে ধরে রেখেছে রুচিতা। যখনই মন চায় বিপুলের সাথে এভাবে কথা বলে সে। কিন্তু প্রতিদিন ভোরের আলোতে রুচিতার সম্মোহনী ভাবাবেগ কেটে যেতেই সে দেখে নিজের চারপাশে এতদিন ধরে বিপুলকে নিয়ে সে যা সাজিয়েছে তা কেবলই কুহেলিকা ! কোথাও নেই বিপুল। আর আসবেওনা কোনদিন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

