somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইতিহাসে এমন কোনো শাসক কী আছেন যিনি একইসঙ্গে অনেক খারাপ কাজ এবং ভালো কাজ করেছেন? যদি থাকেন তিনি কে এবং কী কী খারাপ এবং ভালো কাজ করেছেন?

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৪ রাত ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



উপরের ছবিটা দেখে নিশ্চিয় বুঝতে পারছেন, আপনার প্রশ্নের উত্তরে লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির কথা বলছি।

মূলত বহু গোত্রে বিভক্ত ও সদা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ-সংঘাতে লিপ্ত একটি দারিদ্র পীড়িত জাতিকে তিনি তেল সম্পদ আবিস্কারের পর যত দ্রুত একটি উন্নত রাষ্ট্রে রুপান্তর করেছিলেন তা সত্যই বিগত পঞ্চাশ বছরের ইতিহাসে আর কোনও নেতা দেখাতে পারেননি!

তার ভালো কাজ সমূহ

* লিবিয়ার পুনর্গঠনে তাঁর অবদান অস্বীকার করবার কোনও উপায় নেই। তাঁর আমলেই শিক্ষিত নাগরিকের হার ২৫% হার থেকে বেড়ে ৮৩% হয়েছিল!
* দেশের মানুষ বিনা মুল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা দেয়া হত।
* দেশের মানুষ বিনা সুদে ঋণ পেত (দেশের সকল ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত)।
* তিনি সকল নাগরিকের জন্য সরকারিভাবে বাসভবন করে দিতেন।
* লিবিয়ার প্রত্যেক নবদম্পত্যিকে ৫০ হাজার ডলার দেয়া হতো যাতে তারা বাড়ি কিনে নতুন জীবন শুরু করতে পারে।
* বিনা মূল্যে চিকিৎসা এবং কৃষি খামারিদের সরকারের তরফ থেকে ভূমি ও বীজ সহ যাবতীয় উপকরণ দেয়া হতো (ফ্রিতে)।
* চিকিৎসা বা শিক্ষা সেবা নিতে দেশের কোনও নাগরিককে বিদেশে যেতে হলে তার সমস্ত ব্যয়ভার সরকার বহন করত।
* লিবিয়ার তেল বিক্রির একটা অংশ প্রত্যেক নাগরিকের একটা ব্যাংক নাম্বারে সরাসরি জমা হতো।
* সন্তান জন্ম দিলে প্রত্যেক মাকে পাঁচ হাজার ডলার দেয়া হতো।
* তাঁর সময়ে লিবিয়ার কোনও বৈদেশিক ঋণ ছিল না!
* আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক বা অন্য কারো কাছে লিবিয়ার এক পয়সাও দেনা ছিল না।
* উত্তর আফ্রিকার সবচেয়ে স্বাক্ষর দেশ ছিল লিবিয়া।
* লিবিয়া ছিল একটি ভিক্ষুকহীন দেশ।
* দেশটিতে ১০০% বেকারের বেকারভাতা নিশ্চিত ছিল।
* পৃথিবীর যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ ছিল। সেজন্য মাসে ২,৫০০ ইউএস ডলার বৃত্তির সাথে গাড়ি ও আবাসনভাতা।
* উৎপাদন মূল্যে (Ex factory price) গাড়ি দেয়া হতো।
* গাদ্দাফি লিবিয়ায় সবচাইতে বড় সেচ প্রকল্প চালু করেন,যা বিশ্বের ৮ম আশ্চার্য নামে পরিচিত।


মরুভূমিতে সেচ প্রকল্প

তার বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহ।

* গাদ্দাফি নারীদের প্রতি আসক্ত ছিলেন। এ নিয়ে তিনি ব্যপক তিরস্কারের শিকার হন। ত্রিপোলির প্রাসাদে অনেক নারীকে আটকে রাখতেন তিনি। আর গাদ্দাফির নানা খেয়ালি ইচ্ছা পূরণে সাহায্যকারী কর্মকর্তারা দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে যেতেন।


নারী দেহরক্ষী দ্বারা বেষ্টিত গাদ্দাফি

* তার আমলে ছিল সিনেমা বন্ধ, থিয়েটার বন্ধ । ফুটবল খেলাও বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন । কাজেই সাথারণ লোকের জন্য কোন কিছুকে উপলক্ষ্য করে একসাথে হওয়া ছিল এক বিরাট সমস্যা।

* ১৯৭০ দশকের শেষ দিকে প্রকাশ্যে লোকের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা শুরু হয়েছিল।
* ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে লিবিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন মুয়াম্মার গাদ্দাফি৷ হাজার হাজার মানুষকে, বিশেষ করে গণতন্ত্রকামীদের
* নির্বিচারে হত্যা ও নারীদের ধর্ষন, যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে তার শাসনামলে৷
* গাদ্দাফি প্রায় হাজারখানেক রাজনৈতিক ভিন্নমতালম্বীকে হত্যার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে ভীষণভাবে অভিযুক্ত।
* এছাড়াও ১৯৮৮ সালে প্যান আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ১০৩ নম্বর ফ্লাইটে টাইম বোমা দিয়ে মাঝ আকাশে ধ্বংস করার অভিযোগও আছে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে, এই বিস্ফোরণে ২৫৯ জন যাত্রীর সবাই নিহত হয়। পরে এই অভিযোগ স্বীকার করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে প্রায় ২.৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণও দেন গাদ্দাফি।

* স্বৈরাশাসন,একনায়কতন্ত্র,এবং দেশের ক্ষমতা শুধু একটি পরিবারকে ঘিরে আবর্তিত হওয়া ও বিরোধী মতকে নিষ্ঠুর উপায়ে দমন ও হত্যা এগুলোতে সে খুবই আলোচিত ছিল।

* তার আমলে সমগ্র পশ্চিমা বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস করা হয়।
বিরোধী বা ভিন্ন মতাবলম্বীদের একদমই সহ্য করতে পারতেন না গাদ্দাফি। তার গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ছিলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত এবং সর্বত্র সম্প্রসারিত। কারো আচরণে সন্দেহ হলে কিংবা কাউকে তথাকথিত বিপ্লবের বিরোধী মনে হলেই তার ওপর নেমে আসত নির্যাতনের খড়গ, প্রায়শই যার পরিণতি ছিল মৃত্যু।


তথ্যসূত্র

ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর কিছু স্বৈরশাসক | DW | 02.10.2019

ইতিহাসের সাক্ষী: গাদ্দাফির যুগে লিবিয়া

লৌহমানব মুয়াম্মার আল গাদ্দাফি | বাংলাদেশ প্রতিদিন

কেমন ছিল গাদ্দাফির লিবিয়া

কর্নেল মুয়াম্মর গাদ্দাফি: ইতিহাসের নায়ক নাকি খলনায়ক?

https://roar.media/bangla/main/history/ten-evil-autocratic-leader-with-bizzare-habits/
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৪ রাত ১২:১২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=যতই মোহ জমাই দেহ বাড়ী একদিন ঝরবোই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯



আমিও ঝরা পাতা হবো, হবো ঝরা ফুল,
রেখে যাবো কিছু শুদ্ধতা আর কিছু ভুল,
কেউ মনে রাখবে, ভুলবে কেউ,
আমি ঝরবো ধুলায়, বিলীন হবো,
ভাবলে বুকে ব্যথার ঢেউ।

সভ্যতার পর সভ্যতা এলো,
সব হলো এলোমেলো;
কে থাকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×