somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভূতেরাও একা। নি:স্ব।

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভূতেরাও একা। নি:স্ব।



গভির রাতে ঘুমটা ভেঙে যায় প্রচন্ড আক্রোশ আর হতাশায়। ঘেমে একাকার শরীরটাকে কোনো রকম টেনে চুপচাপ বসে থাকলাম। নিজেকে সীমাহীন অসহায় মনে হলো। বুঝতে পারলাম, মানুষ বড় নি:স্ব। দু:স্বপ্ন দেখার সময় এলো বুঝি...। অবশ্য এরকম দু:স্বপ্ন মানুষ দেখে না। না দেখাই ভালো। আমি দেখলাম জীবনে এ-ই প্রথম।

দেখলাম, আমি মারা যাচ্ছি। ছটফট করতে থাকি ব্যকুল হয়ে। মৃত্যু যন্ত্রণা আমাকে তখনো ভাবায়নি। ভাবছিলাম, আমি মারা গেলে এতো এতো স্বপ্নের কি হবে? খুব চেষ্টা করলাম এ দু:স্বপ্ন থেকে জেগে উঠতে। পারলাম না। একেবারে শেষ সময়ে যখন বুঝতে পারলাম মৃত্যুটা অবধারিত, তখন চিৎকার করে যাকে ডাকতে থাকলাম, সে আর কেউ নয়। সে আমার মা। মা’কে এতো ভালোবাসি?

কখনো এ রাতের মতো এতোটা শূণ্যতা অনুভব করিনি।

মারা-ই যখন গেলাম তখন খুব হাস্যকর ঘটনা ঘটলো। মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে পৃথিবীর সব খারাপ ভাষা নিক্ষেপ করতে থাকলাম ঈশ্বরের প্রতি। পুরনো সব দেবতাদের বান নিক্ষেপের মতো। আমার সাধারণ জীবনে অসাধারণ কিছু স্বপ্নের মৃত্যু বা পতনের জন্য ঈশ্বরকে দায়ী করতে লাগলাম, প্রচন্ডরকম আক্রোশে অসাড় হয়ে থাকা শরীরটাকে টেনে তুলে নিলাম বিছানা থেকে। ঘেমে একাকার আমি বসে থাকলাম কিছুক্ষন। তারপর, বেসিনে গিয়ে মুখে পানি দিলাম। পানি খেলাম। খুউব একাকিত্ব পেয়ে বসলো তখনই। মানুষ নিদারুন একা। একা আর নি:স্ব।

ফোনটা নিলাম পিসি টেবিল থেকে। কি করবো বুঝতে পারছি না। এ মুহূর্তে দুজন মানুষকে ফোন দিতে ইচ্ছে করছে। একজনকে সম্ভবত ইহজীবনে আর সম্ভব না। বাকিজনকে ফোন দেয়া যেতে পারে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইচ্ছেটা দমন করলাম। বেশি মায়া বাড়ানো ঠিক না। পিসি অন করে কিছুক্ষন ‘হাউজ অব ডেথ’ খেললাম‌‌। একে একে যখন ভূতদের গুলি করে মেরে যাচ্ছি তখন হঠাৎ মনে হলো- নাহ্ ভূতেরাও একা। নি:স্ব।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×