somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মন ভাঙ্গা ঢেউ-পর্ব - ৩

২২ শে জুন, ২০১৩ সকাল ১১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পর্ব-৩
কিন্তু একটা বিপদের গন্ধ বাতাসের সাথে মিলিয়ে যেতে না যেতেই আরেকটা বিপদ এসে দরজায় হাজির। মাস শেষ হতে না হতেই আবারো কষ্টের ঝড়। স্কুলের মাসিক বেতনের জন্য আবারো ভীষণ চাপ দেয়। এ মাসের বেতনের তিন হাজার টাকা থেকে রবিও খাদিজার বেতনের আংশিক আদায় করে। খাদিজা এখন ৩য় শ্রেণীতে। বেশ সফলতার সাথেই প্রতিটি ক্লাস অতিক্রম করে এসেছে। প্রতিটি পরীক্ষা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ১ম স্থানটি ছিল তার জন্য নির্ধারিত। তাই সকল শিক্ষকবৃন্দের আলাদা একটা দৃষ্টি পড়ে খাদিজার উপর। মা মমিনার আশা বড় একজন শিক্ষিত করে গড়ে তুলবেন। কিন্তু সময় ও বাস্তবতার কষাঘাতে মমিনার সে স্বপ্ন ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায়। অর্থের অভাবে এখন খাদিজার প্রাইভেট বন্ধ। তবুও খাদিজার সাধনা থেমে নেই। নিজের থেকেই পড়াশুনার গতি ধরে রাখে খাদিজা। প্রাইভেট খরচ কিছুটা বাঁচল বলে মমিনার দগ্ধ মনে শান্তির হালকা পরশ লাগে। কিন্তু পরক্ষনে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আবার অশান্তির আগুনে পুড়তে থাকে। সামনে খাদিজার পরীক্ষা। তাহলে এবার খাদিজা ভাল রেজাল্ট করতে পারবেনা। মমিনা ব্যথিত মনে ভাবে। খাদিজার পরীক্ষা শুরু হল। তিনটা পরীক্ষা দেওয়ার পর জ্বরে ভূগতে থাকে খাদিজা। এ জ্বর নিয়েই পরীক্ষা সমাপ্ত করে। এক সপ্তাহ পর যখন খাদিজার রেজাল্ট বের হল, তখন সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ল বিস্মযের এক মৃদু গুঞ্জন। ১ম স্থা্েনই খাদিজার আসন। শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অন্যান্ন অভিবাবকবৃন্দ খাদিজার এ অবিশ্বাস্য সফলতা দেখে চমকে ওঠে। তাদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে খাদিজা ১ম হয়েছে। কারন যার কোন প্রাইভেট টিচার নেই। তার উপর সে অসুস্থ ছিল। তারপরও কিভাবে এত ভাল ফলাফল করল ? মা মমিনা স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞতা জানায়। মেয়ের এ সফলতার জন্য প্রাণ ভরে দু’আ করে। ‘তাকে বড় শিক্ষিত করে গড়ে তুলব’ পুরনো সেই স্বপ্নটা ফের নতুন করে জেগে ওঠে। কিন্তু রবির স্কুল ও কোচিংয়ের খরচ দিতে গেলে খাদিজার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তিনদিন পর গত মাসের বাকি ৫০০ টাকা হাতে নিয়ে মা মমিনা খাদিজার স্কুলে যায়। প্রধান শিক্ষকের হাতে টাকাটা দিয়ে নিজের সমস্যার কথা জানায়। শিক্ষক কিছুক্ষণ চুপ করে নিরর মনে ভাবলেন: একটা প্রতিভাকে এভাবে হাত ছাড়া করা যায়না। তাছাড়া অর্থের অভাবে একটা জ্বলন্ত প্রতিভা শুরু পথেই ঝরে পড়বে ? তা কি করে হয়। মা মমিনা চলে যেতে উদ্যত হলে শিক্ষক বললেন: ঠিক আছে আপনি আংশিক বেতন দিলে হবে। না, আমার দ্বারা তা ও সম্ভব না। কান্নাভেজা কন্ঠে বলে মমিনা।
ঠিক আছে কাল থেকে তাকে স্কুলে পাঠিয়ে দিন।
শান্ত সুরে বলেলন শিক্ষক।
মমিনা কিছুটা সংকোচবোধ করলেও মনে মনে বেশ খুশি হল। অসাধারণ প্রতিভার গুণে এখনো থামেনি খাদিজার পড়াশুনার গতি। ফের আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে মমিনা। এবার অলি মিয়ার মেঘলা মনে যেন চমকে ওঠল সূর্যের সোনালী কিরণ। এখন শুধু সাংসারিক আর শফিক ও রবির পড়াশুনার খরচ মোটামোটি চলে যায় অলি মিয়ার দৈন্য সংসার।



০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×