একজনের গল্প বলি আপনাদের আজ। লেবাননের বৈরুতে তার জন্ম, মুসলিম পরিবারে। ২২ বছর বয়সী এই মেয়েটির পরিবার ২০০০ সালে আমেরিকায় মাইগ্রেট করে। সেখানে সে নর্থ ওয়েস্ট হাইস্কুলে ভর্তি হয়। শুরুতে মুসলিম থাকলেও, আমেরিকায় এসে সে ক্যাথলিক পরিবারে অন্তর্ভূক্ত হয়, যদিও সে বর্তমানে কোন ধর্মের অনুসারী ই নয়!(তার ভাষ্য মতে)।
পার্ট টাইম এক লোকাল ফুড রেষ্টুরেন্টে ওয়েইটারের কাজ করার সময় এক লোক তাকে প্রস্তাব দেয় পর্ণো মুভিতে অভিনয় করার। অর্থের প্রলোভনে সানন্দে রাজি হয়ে যায় সে। অক্টোবার ২০১৪ সালে প্রথমবারের মত সে এডাল্ট ইন্ড্রাস্ট্রিতে পদার্পন করে।
ডিসেম্বর ২০১৪ সালেই সে দুনিয়ার অন্যতম বড় পর্ণ সাইট পর্ণহাবের র্যাংকিং এ এক নাম্বারে চলে আসে। এর আগে এত দ্রুত কেউ পর্ণহাবের ইতিহাসে এক নাম্বারে আসতে পারেনি। সাবেক পর্ণ স্টার লিসা এনের জায়গা দখল করে নেন খুব দ্রুত এই মেয়েটি।

পুরো মিডিল ইস্ট এবং তার নিজের দেশের সরকার তাকে দেশের জন্য শেমফুল হিসিবে আখ্যা দেয়।
আরেক পর্ণ সাইট ব্যাং ব্রস এর একটি পর্ণ ভিডিওতে সে হিজাব পড়ে নায়িকা হিসেবে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সে অংশ নেয়। ভিডিওতে সে হিজাব পড়ে শুধু হিজাবের অপমান ই করেনি, একিসাথে বলেছে এটা পড়া (হিজাব) একটা সমস্যা। ইচ্ছাকৃতভাবে সে ইসলাম কে যাচ্ছেতাই ভাবে অপমান করে সেই ব্যাং ব্রস এর ভিডিও তে।


অতিদ্রুত সে মৃত্যু সহ নানাধরণের হুমকির স্বীকার হয়।

ব্যাপারটা মোটেও অস্বাভাবিক নয়, একজন আরব কান্ট্রির পর্ন স্টার হয়ে আপনি ইসলাম কে অপমান করবেন তাও পর্ন ভিডিওতে, এর মানে হচ্ছে আপনি আজরাইল কে মিস্কল দিচ্ছেন। সে যাই হোক, পরবর্তীতে ওয়াশিংটন পোষ্ট কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্যাপারটাকে স্যাটায়ার হিসেবে নিয়েছেন তিনি, এবং ব্যাপারটা এভাবেই দেখা উচিত! আরো উল্লেখ করেন হলিউডের মুভি গুলোতে মুসলমান দের আরো বাজে ভাবে দেখানো হয়, সে তুলনায় এটা কিছুই নয়!
যদিও তার পিতা মাতা তাকে পরিত্যাজ্য করেছেন এই পেশার জন্য, তবুও তিনি এই পেশাকে ভালোবাসেন!
এই প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন যতক্ষণ না আমেরিকান –লেবানীজ পর্ণ তারকারা লেবাননের ভিতরে বসবাস করে তাদের কার্যকলাপ অব্যাহত রাখবে, ততদিন পর্যন্ত লেবানীজ জাতি নারী অধিকার বিষয়ে সচেতন হবে না!!!
আহা! মধু! পর্ণস্টার শেখাচ্ছেন নারী অধিকার! আমেরিকা বলে কথা! আমেরিকার গু ও যেন হালুয়া!
পর্ণস্টার মহিলা আরো বলেন, এককালে লেবানীজ জাতি নিজেদের মধ্যপ্রাচ্যের সর্বাধুনিক বলে গর্ব করত, তারা পাশ্চাত্য রীতিনীতি এতটাই অনুকরণ করত যে তারা নিজেদের নিয়ে গর্বিত ছিল, আজ তারা আদি রীতি (ইসলাম এবং খ্রিষ্ট ধর্ম) তে বিশ্বাসিত হয়ে শোষিত হয়ে গেছে। তারা ভুলে গেছে নারী অধিকার!
আহা! কি কথা!!!
দেড় মিলিয়ন এর বেশি ভিউ (শুধু পর্ণহাবে) পেয়ে এই পর্ণ স্টার এখন ঐ সাইটের সবচাইতে আকাঙ্খিত নারী, যার বয়স মোটে বাইশ! জানুয়ারী ৩ থেকে জানুয়ারী ৬ ২০১৫ এই তিন দিনে ঐ পর্ণ স্টারের ব্যাপারে সার্চ বেড়েছে পাচ গুন! মজার ব্যাপার হল, এর চারভাগের এক ভাগ ই হচ্ছে লেবানীজ নেট ইউজার!!! আর এরপরেই আছে সিরিয়ান আর জর্ডান এর পুরুষেরা!
বর্তমানে ফ্লোরিডাতে বসবাসরত এই মহিলা, ফেব্রুয়ারী ২০১০ এ ১৮ বছর হওয়া মাত্রই এক আমেরিকান পুরুষ কে বিয়ে করে আমেরিকান পাসপোর্ট এর দখল নেন। মহিলা আবার প্রচন্ড ভালোবাসেন লেবানন কে, তিনি লেবাননের ন্যাশনাল এন্থেম এর প্রথম লাইন আর লেবানীজ ফোর্স এর ট্যাটু করিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি আমার পিতার পলিটিকাল ভিউ এর সাথে একাত্মতা প্রকাশে এটা করেছি।
তার পর্ণ ক্যারিয়ারের জন্য পিতামাতা কথা বলা বন্ধ করে দেয়াতে তার মোটেও আক্ষেপ নেই। যদিও তার পিতামাতা লজ্জিত এবং তাকে সম্পূর্ণ পরিত্যাজ্য করেছেন। তাদের ভাষ্য হল, যদিও আম্রেকিন কালচার ভিন্ন কিন্তু বেচে থাকার জন্য পর্ণ মুভির নায়িকা হওয়া নেহায়েত ই শেমফুল, কারণ তারা তাকে এভাবে বড় করেন নি! তারা আশাবাদী সে একদিন তার ভুল বুঝতে পারবে এবং এই পেশা ত্যাগ করবে যা তার পরিবার এবং জন্মভূমির জন্য ‘ডিসগ্রেস’ বয়ে এনেছে!

টাইম ফ্লাইস নামের এক আমেরিকান ব্যান্ড তাকে নিয়ে গান ও রিলিজ করেছে! তাতে মহিলা এত খুশি হয়েছেন যে সে ইউটিউবে সেই গানের সাথে ‘টুয়ের্কিং’ করে ভিডিও রিলিজ দিয়েছেন!


আলমাযা নামে এক লেবানীজ ব্রুয়ার কোম্পানী মহিলার সিগনেচার সহ বিয়ার বিক্রি করছে, তাতে লেখা... "BOTH OF US FOR ADULTS ONLY."
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



