somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উভলিঙ্গ বিড়ম্বনা

২০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





শহরে হিজড়াদের সংখা বেড়ে যাচ্ছে হু হু করে, গতকাল আমার বাসার দোতালায় হিজড়াদের হঠাট আক্রমন, তারা মোটামুটি দরজায় লাথি মারা শুরু করে দরজা না খোলায় সেই সাথে আস্রব্য গালি যা একজন সুস্থ মানুষের শোনার জন্য ভয়ানক, কারন কি, কারন হোল ওই বাসায় তিন মাস আগে একটা মেয়ে শিশু জন্ম নিছে এখন তারা দাবি করছে তাদের ওই শিশু দেখাতে হবে এবং ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। স্বভাবিক ভাবে বাসার বাসিন্দারা আপারগ জানায় এবং দরজা বন্ধ করে দেয়, এর পর শুরু হয় গালির সুনামি সেই সাথে লাথি কিল ঘুসি বর্ষন দরজার উপরে, আমরা যারাই গেছি এদের থামাতে তাদের সাথে ও এরা মারমুখি হয়ে ওঠে, পরে শুনেছি ৩০০০ টাকায় দফা রফা হয়।

আজ অফিস যাচ্ছি দুই হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষ বাসে উঠে চাদা দাবি করে, একজন সজ্জন ব্যাক্তি চাদা কেন দিবে , কেন তারা কাজ করে না , এটা চাদা না এটা ভিক্ষা এই ধরনের কথা তাদের বলে, ব্যাস, হয়ে গেলো, দুই হিজড়া পারে ত ওই লোক কে মেরে ফেলে আর কি, ধাক্কা ধাক্কি করে অস্থির, বাসের একটা লোক ও কিছুই বলল না , আমি বাসের হেল্পার কে বললাম এদের থামাও, হেল্পার কন্টাক্টর দাত বের করে হাসে , এর পর আমি গেলাম লোক টা কে উদ্ধার করতে, আমার সাথেও এক প্রস্থ ধাক্কা ধাক্কি হোল, সেই সাথে আমার মা বাবা সকলের ইজ্জত হরন হোল। এবং এই বলে শাসিয়ে গেলো আগামিকাল আমাকে ওরা দেখে নিবে। আমার বাসায় গিয়ে ওরা হামলা করবে।

গতবছর, না না ঠিক গতবছর না, ২০১৮ সালে অফিসে বসে আছি, রমজানের সময়, ইদ তখন ১০ থেকে ১২ দিন বাকি, হঠাত শুনি অফিসে ঢোকার মূল দরজায় বিশাল হৈচৈ, যেহেতু আমি এডমিনের লোক , আমাকে যেতেই হোল, দেখতে কি হচ্ছে, যেয়ে দেখি আমার অফিসের গার্ড আর দুই পিয়ন এর সাথে বিশাল হাতাহাতি লেগে গেছে। এক পিয়নের নাক মুখ দিয়ে রক্ত পরছে, দুই জন হিজড়ার কাপড় নাই, তাদের কাপড় মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে বাকি যারা উন্মাদের মত লাফাচ্ছে। আমি দৌড়ে গেলাম পিয়ন দুই জন কে বাচাতে, এরা আমার উপরেও হামলা করলো, আমার অফিসে তখন সাইটের লেবাররা ছিলো তাদের বিল নেয়ার জন্য এসেছিলো, যখন দেখলো আমিও হামলার শিকার , সাইটের লেবাররা অফিসের পেছনে পরে থাকা বাশ, কাঠ নিয়ে হিজড়াদের উপর আক্রমন শুরু করে দিল, এখন আমি পরে গেলাম উভয় সংকটে, কোন রকমে নিজেকে সেফ করে পাসের থানায় ফোন করলাম, তারা আমার কথা শুনে এলো কিন্তু তাদের আসার আগেই হিজড়ারা পালিয়ে গেলো, যাই হোক পুলিশ কে সব ঘটনা খুলে বললাম, তারা আমাকে আশ্বস্ত করলো যে আগামিতে তারা ব্যাপারটা দেখবে, আমি আমার আহাতো পিয়ন ও গার্ড কে চিকিৎসার জন্য পাসের হস্পিটালে পাঠিয়ে দিলাম। ভাবলাম ঝামেলা শেষ, কিসের কি পরের দিন কি করে যেন গেট খোলা পেয়ে এরা দল বেধে অফিসে ঢুকে গেলো, আমি তখন কাজ করছিলাম, এমনিতেই রোজা তার উপর ম্যানেজমেন্টের চাপ , মেজাজা ভয়াবহ খারাপ, হটাত শুনি একাউন্টস রুম থেকে আর্ত চিৎকার আমাদের একাউন্টস অফিসারের, ভদ্রলোকের বয়স ষাট এর উপরে, রিটায়ার্ড জীবনে পার্ট টাইম কাজ করেন , ওনার যখন ইচ্ছা আফিসে এসে কাজ করেন। তার আর্ত চিতকাত কর শুনে ভাবলাম তিনি বুঝি স্ট্রক করেছেন , আমি দৌড়ে তার রুমে গিয়ে দেখি, এক হিজড়া আর্ধ উলং হয়ে তার কোলে বসে আছে অন্যরা তাকে নিয়ে হাসি তামাসা করছে, ভদ্রলোক এক জন নামাজি মানুষ , তিনি আমাকে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পরলেন, আমি হতবাক হয়ে চেয়ে থাকলাম, অনেক টা কিংকর্তব্যবিমুড় হয়ে গেলাম, এর পর তো হুলুস্থুল কান্ড। আবার পুলিশে কল করলাম, পুলিশ এলো এদের ধরে নিয়ে গেলো। কিন্তু আমারা একজন ভালো মানুষ হারালাম, তিনি চাকড়ি ছেরে দিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৫৫
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×