somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঙালী মধ্যবিত্তজীবন এবং আমার জন্মদিন

১০ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বার্থ ডে পালনের প্রথা আর দশটি বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের মত আমাদের বাড়িতেও কখনো ছিলো না। সন্তানকেন্দ্রিক জীবন হলেও বাবা মা সবসময় আমাদের নিয়ে পড়ে থাকতেন না। জন্মদিন আসতো। চলে যেতো। নিজেরাই কি খুব একটা টের পেতাম। এর পর এলাকায় আমার হাঁটুর বয়সী বাচ্চাগুলোর জন্ম হলো। তাদের বাবা মায়েরা জন্মদিন পালন করা শুরু করলো। বেলুন ফুলিয়ে, রঙিন জিলজিলে ফিতা ঝুলিয়ে, মোমবাতি জ্বালিয়ে, কেক কেটে পাড়া পড়শিকে খাইয়ে জন্মদিন পালন। আমরা যেতাম, খেতাম, ফিরে আসতাম। বাবা মায়ের খুব সম্ভবত ছেলেদের জন্মদিন পালনের ইচ্ছে হয়েছিলো। কিন্তু সংকোচ কাটিয়ে উঠতে পারেননি হয়তো। আমি যখন কলেজে পড়ি তখন এক জন্মদিনের সন্ধায় আব্বু কিছু মিষ্টি কিনে আনলেন। আমরা চারজন মিলে খেলাম। আমি আব্বু আম্মু আর ছোট ভাই। এই আমাদের প্রথম জন্মদিন উৎযাপন। ছোট ভাইয়ের জন্মদিনেও এটা হলো। এরপর আম্মা আমাদের জন্মদিনে ভালো ভালো রান্না করার কালচার শুরু করলেন। পাড়া পড়শির ঘরে দেওয়া শুরু করলেন। কিন্তু পার্টি দিয়ে জন্মদিন। কাভি নেহি হুয়া।

আরেকটা ব্যাপার উইশ করা। আমার স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের মধ্যে এসবের বালাই কখনো দেখিনি। ২০০৭/০৮ এর দিকে নেটের বন্ধুরা উইশ করা শুরু করলো। আমি গলে গলে পড়তাম। জন্মদিনের পরদিন আমি মোবাইলের ইনবক্স, ইমেইলল ইনবক্স, ফেসবুক ওয়াল (তখন টাইমলাইন বলা হতো না), মিগ৩৩ ইনবক্স খুঁজে খুঁজে দেখতাম। গুনতাম, কয়জন উইশ করলো। ডায়েরিতে তাদের নামও লিখে রাখতাম। অন্য রকম এক ভালো লাগা। পাগলামি হলেও এগুলো একান্তই আমার বক্তিগত ভালো লাগা।
.
আমার একজন বান্ধবী আছে। সে প্রতি জন্মদিনে আমাকে উইশ করে। এই একমাত্র ব্যতিক্রম। ফেসবুকের কয়েকটি আইডি মিলে আজ আমাকে আমাকে কয়েকশো মানুষ উইশ করবে। সতের হাজার সামথিং বন্ধু অন ফেসবুক। হাজার খানেক না করলে ইজ্জত থাকে নাকি বলো! কেউ কেউ হয়তো ফোন করবে। ভালো লাগায় আপ্লুত হবো। আম্মা রান্না করার জন্য আজকেই মশলা তৈরী করে রেখেছেন। আমার কেন জানিনা খুব কান্না পাচ্ছে। বহুকাল কাঁদি না। আজকেও কাঁদতে পারছি না। আম্মা খাবার নিয়ে বসে আছেন। যাই খেয়ে আসি।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ২:০৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×