somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উগ্রতা ও ইসলাম!

০৩ রা মার্চ, ২০১৫ দুপুর ২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশে সামাজিক অবস্থা যেমন নূয়ে পড়ছে তেমন-ই ধর্মীয় উগ্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে! এক শ্রেণীর মানুষ ধর্মকে পুজি করে স্বার্থ হাসিলে ব্যবসা করে যাচ্ছে, আরেক শ্রেণী আছে ধর্মান্ধ, আর তৃতীয় শ্রেণী হল এই অন্ধত্বকে কাজে লাগিয়ে রাতারাতি খ্যাতির চূড়ায় উঠা, এজন্য এ শ্রেণীর মানুষ গুলো ধর্মকে নিয়ে উল্টা-পাল্টা কথা বলে থাকে! আর প্রথম শ্রেণী, এর কতল করা ফরয, সুন্নত, ওয়াজিব, মাগরিব যা মনে আসে বুঝায়, এর মারতে গিয়ে তুমি মরলে শহীদ হবা, তোমার চৌদ্দ গোষ্টি বেহেস্তে যাবে, না মরলে গাজি, শহীদের সমান সোয়াব, আরো আরো সোয়াব কামাতে পারবা, এক সময় পুরা বাংলাদেশের মানুষ বেহেস্তে নিতে পারবা, আর বেহেস্তের অপার সুখ-শান্তির গল্প না হয় আজ বাদ-ই দিলাম! প্রথম পক্ষ, ধর্মীয় জ্ঞানের পরিবর্তে ধর্মীয় অন্ধত্ব ট্রানজিট করে দ্বিতীয় পক্ষের কাছে! সবচে' আতঙ্কের বিষয় হল, এদের তারগেট ১৫-২০ বছরের স্কুল কলেজে পড়ুয়া কোচি-কাঁচা কিশোরদের, নরম কাদা যেভাবে খুশি গড়া যায়, তাই জীবন কি বুঝে উঠার আগেই হাতছানি দেয় জঙ্গিবাদে! আমরা সকলেই জানি, এই বয়সে এই ভয় ডর কম সাহস বেশি, তাই যে কোনো কাজ করানো সম্ভব!
এই তিন পক্ষের চাপাচাপিতে ধর্মের আজ বেহাল দশা! তবে এটা সত্য যে ধর্মে আবিষ্কার হয়েছে মানবজাতির কল্যানের জন্য, সামাজিক অনাচার রোধ করে সুখী সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে জন্য! যে, যে ধর্মের অনুসারি হোক না কেন, সমাজের সকল অনাচার ব্যবিচার রোধ করে, শান্তি শৃংখলিত ও ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষায় ধর্ম দেয়! এই শিক্ষায় মানুষের জীবনে পাথেয় হয়ে থাকার কথা, কিন্ত তা না হয়ে যখন জঙ্গিবাদের উত্থান হয় তখন ভাববার বিষয়, গবেষনার প্রয়োজন, কেন এমনটি হচ্ছে! যদি শুধু মৌলবাদ থেকে জঙ্গিবাদের উত্থান হয় তাহলে গবেষনা হওয়া উচিত, কোর-আন, হাদিস, ফিকাহ্সহ সকল ইসলামী শাস্ত্র! সকল জেনারেল ও কওমি মাদ্রাসর শিক্ষক, মসজিদের ঈমাম, ও সকল ইসলামী বক্তার মান যাচাই করা উচিত! আদৌয় তাদের ইসলামি জ্ঞান আছে কি না, নাকি শুধু কতল করার শিক্ষা দিচ্ছে! সকল মাদ্রাসা মসজিদে স্পাই ক্যামেরা বসানো হোক, আমরা দেখতে চাই জঙ্গি ও ইসলাম কেন গুলিয়ে যাচ্ছে!
যা হোক, তিন পক্ষ নিয়ে বলছিলাম, এবার আসি আরো একটা পক্ষ নিয়া, তারা হল বিজ্ঞান মনস্ক, মুক্ত চিন্তার মানুষ, ধর্ম বিশ্বাস নেই, আমরা জানি, ধর্ম অন্ধ বিশ্বাস, না দেখে না বুঝে বিশ্বাস করতে হয় কিন্তু এরা এটা করতে নারাজ, বিজ্ঞান প্রমান বিশ্বাস করে, প্রমাণ ছাড়া এরা কোন কিছু বিশ্বাস করে না! এখন মূল কথা দাড়াল বিশ্বাস অবিশ্বাসের! অর্থাৎ যারা বিশ্বাস করে তারা আস্তিক, যারা করে না তারা নাস্তিক, শুরু হল দ্বন্দ্ব আস্তিক নাস্তিকের! যখন নাস্তিকরা আস্তিকদের বিশ্বাসের উপর কথা বলে তখন তা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, কতল করা ফরজ! যখন আস্তিকরা নাস্তিকদের বিশ্বাসের উপর আঘাত করে তখন যে কি তা আজও বুঝি নি! ধরুন, নাস্তিকরা বলল, ধর্ম বলে কিছু নেই, এটাই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, যখন আস্তিকরা বলল, ধর্ম বলে কিছু আছে তখন কি নাস্তিকদের বিশ্বাসে আঘাত নয়? ধর্মীয় বিশ্বাসের কারনে কোন নাস্তিক আস্তিক কে একটা থাপ্পর দিয়েছে এমন রেকর্ড আমার জানা নেই, তবে আস্তিকরা যে নাস্তিকদের ধরে ধরে কতল করে তার রেকর্ড ভরি ভরি আছে! সুতরাং উগ্রতার ধারক ও বাহক আস্তিকরা! আমি সরাসরি আস্তিকরা বলতে পারি না, অতিশয় আস্তিক প্রথম পক্ষের অন্তর্ভূক্ত!
ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে এটা বলতে পারি, কোন নাস্তিক ইসলামের ক্ষতি করে নি, যদি কেউ ক্ষতি করে থাকে এই অতিশয় আস্তিকরা করেছে! ইসলাম এতটা ঠুনক নয় যে একজন নাস্তিক কি বলল তাতে তাতে ইসলাম স্বর্গে চলে যাবে বরং তারায় ইসলামের ক্ষতি তারায় করেছে যারা ১লা বৈশাখ বাঙালি কালচারকে হিন্দুয়ানা বলে নিষিদ্ধ করতে চাই, যারা লক্ষ শহীদের শ্রদ্ধা বেদীতে ফুল দেয়াকে পূজা বলে ঘোষনা করে! বাঙালি রক্তের সাথে মিশে থাকা শহীদ মিনারকে ভেঙ্গে এরা নাকি ইসলাম প্রতিষ্টা করবে, এরাই ইসলামের শত্রু, জাতির শত্রু, দেশের শত্রু! ভারতে কোন হিন্দু কোন এক মুসলিমকে পিটিয়েছে, এদেশে যত হিন্দু বাড়ি আছে পুড়িয়ে দাও, যত মন্দির আছে জালিয়ে দাও, কোন এক বোদ্ধর ছেলে ফেসবুকে একটা ছবি আপলোড করেছে তাতে ইসলামকে উপমান করা হয়েছে, যেখানে যত বৌদ্ধ আছে মার শালাদের, ওদের যত বাড়ি ঘর আছে জালিয়ে পুড়িয়ে ছাড়খাড় করে! এবার নির্বাচন ব্যান্ডকরা হয়েছে এরপরও শালা মালাউনের বাচ্চা ভোট দিয়েছে, এবার শুধু জালিয়ে পুড়িয়ে শেষ নয় মালাউনের বৌ মেয়েদের ধর্ষণ করা জায়েজ হয়েছে যে যার পারিস ধর্ষণ কর, এদের ধর্ষণ করেই ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা হবে! (নাউযুবিল্লা) ফেসবুকে বেশ কিছু হিন্দু বন্ধুরা লেখেন, "ওরা যতই অত্যাচার করুক, এই তোরা কেউ এদেশ ছেড়ে পালিয়ে যাসনে, এটা আমাদের বাব-দাদার ভিটে" তখন দু ফুটা অশ্রুজল আর বালিশে মুখ লুকানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না! অভিজিৎ রায়ের মৃত্যু প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ফেসবুক বন্ধু মোহনা ইসলাম বলেন," আমার কোন ধর্ম নেই, হিন্দু মুসলিম খ্রিস্টান সব সমান, আজ থেকে আর কখনো মুসলমান হিসেবে পরিচয় দিব না কখনো না" মোহনা ইসলাম থেকে মোহনা চৌধুরী হয়ে যায়! লজ্জা ঘৃণায় নিজের মাথা হেট হয়ে যায়, বলতে পারি নি এটা ধর্ম নয় উগ্রতা!
আজ যদি অভিজিতের আত্মা কেঁদে কেঁদে বলে তোমরা আমাকে মার নি, মেরেছ একটা আলোকে, একটা ভবিষ্যতকে, একটা জাতিকে! কি জবাব দেবে তুমি? এর কারনেই উদার মনা লেখকগণ লিখতে পারেন না লিখলেও প্রকাশ হয়, আবার প্রকাশ হলে মৃত্যু ঝুঁকি থাকে! একদিকে উদার মনা লেখক তৈরী হয় না আবার যারা হয় তাদের হত্যা করা হয় এভাবে দেশকে মেধাশুন্য করা হচ্ছে!
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতটা নির্লজ্জ বেহায়া ভিসি সারা দুনিয়াতে নেই-- ছি:

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০১

একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, সেই সাথে ক্ষমতার+ টাকার+ সরকারী সুবিধাদী পাবার কাঙ্গাল হতে পারে, চুয়েটের ভিসি (Vice-Chancellor) কে না দেখলে জানতেই পারতাম না। এতদিন শুধু লোভী বলে বুবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×