somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছেড়া সেতারের শব্দ ও কিছু মিশ্র অনুভূতি!

০৩ রা নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আনুমানিক দশ হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে অবশেষে আমি আমেরিকা! গতবছরের শুরু থেকে দেয়া শ্রম আর অনেক দিনের লালায়িত স্বপ্নের দেখা মেলার পর এই মুহূর্তের অনুভূতি আজ অনেকটাই মিশ্র! কিছু পাবার জন্যে যে কিছু ছাড় দিতে হয় তা আজ বইয়ের পাতা থেকে জীবনে উপবিষ্ট--অনেক স্পষ্ট! জীবন এখান থেকে কোথায় যে নিয়ে যাবে!!!

৩৬ ঘণ্টার বিশাল জার্নি শেষে গত ২৪ অগাস্ট রাত ১২ঃ০০ টায় পৌছালাম ডুলুথ, মিনেসোটা। ট্রানজিট দুবাই হয়ে শিকাগো। একা একা জার্নি, কিছুটা সংশয়, কিছুটা উত্তেজনা, পেছনে ফেলে আসা সময়, সম্পর্ক, জীবন; সবকিছু ছাপিয়ে মনের কোনায় কেমন যেন এক দুর্বোধ্য অনুভূতি নিয়ের পাড়ি দিলাম এই দীর্ঘ পথ!

দুবাই পার্ক এরাবিয়ান হোটেল এ ছিলাম। এর জানালা দিয়ে বারুজ আল খালিফা দেখা যায়। খালি চোখে ধরা পড়া এই সুউচ্চ নির্মাণ দেখে আমার খালি তার পেছনের গল্প মনে পড়ে! কত কত মানুষ তার নিরলস পরিশ্রমের বিনিময়ে এই নয়নাভিরাম সুউচ্চ অট্টালিকার অবয়বয!

কি যে লিখতে চাচ্ছি তা স্পষ্ট না। ভয় পাচ্ছি এখনকার এই মিশ্র অনুভূতি আবার হারিয়ে না যায়। কিছু একটা লিখে সময়কে ধরে রাখার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস! সময়কে ধরে রাখা !!!??


প্রথমদিন ঘুম থেকে উঠেই বাড়ির পেছনের ব্যলকনি-তে দাড়াই! সকাল ৬ঃ০০ টা। চারদিকে সুনসান নিরবতা চিরে মাঝে মাঝে পাশের রাস্তায় গাড়ির টায়ার মোচড়ানোর শব্দ। সামনেই ময়লা ফেলার ড্রাম (গারবেজ বীন)। একটা কাঠবেড়ালির দেখা মিলল। ব্যাটা নির্ভীক! তরতর করে ইলেক্ট্রিক পোল বেয়ে, তার বেয়ে উঠে যাচ্ছে...এখানে, সেখানে! মাঝে মাঝে আবার নীচে নেমে গারবেজ বীন-এ খাবার খুজে! আমি আনমনে নিশ্চল দাড়িয়ে থাকি---- আমার চোখ নিমিষেই পাড়ি দেয় দশ হাজার মাইল!


ফ্রেশ হয়ে নাস্তা। ইতালিয়ান ব্রেড ওইথ পেরু থেকে আসা কলা। আমি নেড়ে চেড়ে দেখি। এই কলা আর আমার কলা বাগানের কলার মধ্যে কি প্রকট সাদৃশ্য! রেডি হয়ে ইউনী যাবার জন্যে বের হই... বাস ধরব বলে। বাসা থেকে বের হতেই আমার জন্য নতুন চমক! দেখি ফুটপাথের উপর আপেল পড়ে আছে! মাথা উচু করতেই দেখি আপেল গাছে আপেল! (কি গাধা আমি! আপেল গাছে আপেল ধরবে না তো কি তরমুজ ধরবে!)। মনে মনে গাল দেই!

গত কিছুদিনের জেট লেগ আর নতুন পরিবেশে এসে কেমন ভ্যাবা চ্যাকা খেয়ে গেছি। আমি স্মার্ট না; যা দেখি, তাতেই দেশের ফেলে আসা জিনিষের সাদৃশ্য খুজি। এখানে দিনে এখন সর্বোচ্চ ২২-২৩ ডিগ্রী সে উঠে আর রাতে ১০-১১ তে নেমে আসে! আমাদের ওখানে শীত কালের ওয়েদার! এখানে এখন নাকি গ্রীষ্মের শেষ, সামনে শীত আসছে!!!!

আসে পাশে ঘুরাঘুরি চলছে--ডাউনটাউন, মল, ব্যাংক, রেস্তোরা, কফি শপ, নতুন নতুন কত কিছু যে দেখছি! আছি ১৯০২ ইস্ট ১স্ট স্ট্রিট-এ। এখান থেকে লেক সুপিরিওর খুব কাছে! আমি প্রায়-ই ওদিকটায় আসি। দেখে এত ভাল লাগে! আমি আশ্বস্ত হই...প্রচণ্ড মনখারাপ, ভীষণ ভাললাগায়...আর কিছু না পাই; আমার লেক সুপিরিয়র হলেই চলবে! পাশের রাস্তাটার নাম লন্ডন রোড! আর লেক-এর পাড় দিয়ে একে বেকে যে রাস্তা টা চলে গেছে, আমি পণ করেছি সময় সুযোগ পাওয়া মাত্রই ওখানে চলে যাব! লাইট হাউজ, কানেক্টিং ব্রীজ! কি সুন্দর! কানেক্টিং ব্রীজ আবার ভার্টিকালি মুভ করে! কোন জাহাজ আসলে , উপরে উঠে যায় আবার নীচে নামে। কি আজিব, না!!?? আরে ব্রিজ আজিব না, আজিব হচ্ছি ...আমি :D । লাইট হাউজ টাও ভালjj লাগছে। ওখান থেকে পুরা ডুলুথ শহর দেখা যায়! অহ...বলাই হয়নি, ডুলুথ শহর পুরা পাহারময়! লাইটহাউজ সবচেয়ে নিচু জায়গা। ওখান থেকে তাকালে, পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে শহর প্রকাশিত! ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এসোসিয়েশান এর সাথে চামে দিয়া আরও কিছু জায়গা ঘুরে ফেললাম :D । হক রিজ, এনগার টাওয়ার, বীচ! লুল...পুরাই লুল! চোখ নষ্ট... ম্যান :P
কি আর কমু!

একমাস হয়ে গেল! ঢাকায় থাকতে প্রতি একমাস পর পর বাড়ি গেলেও, মনে হত-- কত কাছে থাকি! ইচ্ছে হলেই বাসে চড়ে বসব--২/৩ ঘণ্টায় বাড়ী! অথবা মন খারাপ? বন্ধু-বন্ধুসমতুল্য মানুষ গুলা-তো পাশেই ছিল! এখানে এসব কই পাই? মাঝে মাঝে রাতে সুনসান নিরবতায় সেতারের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে। কেমন যেন বেসুরো! মনে হয়, দুএকটা তার ছেড়া--- অথবা টিউন ছাড়া সেতার! এই কদিন ধড়মড় করে উঠে, শব্দের উৎস খুজে পাইনি! গতকালকে পুরা ব্যপার বুঝতে পারছি। এই শব্দের উৎস আসলে ভেতরে! ঐকতান হারিয়ে শব্দ আজ ছেড়া ছেড়া...দশ হাজার মাইল দুরের ওই ছোট্ট জায়গার তরঙ্গ আজ প্রযুক্তির ছোঁয়ায় প্রায় সাথে সাথে পৌঁছালেও, ওই তরঙ্গের ক্ষমতা অনেকটাই প্রশমিত। অন্তত, অনুনাদের ক্ষমতা বিলুপ্ত!!!


(লেখাটি ইতিপূর্বে ফেসবুকে নোট আকারে প্রকাশিত)
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:০৭
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×