somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের দেশে ডিজে শেখার জন্য একটা ইন্সটিটিউট খুব প্রয়োজন।

২২ শে জুন, ২০০৮ রাত ৯:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমান সময়ে ডিস্ক জকি বা ডিজে বেশ জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।
গভীর রাত। একটি বাড়িতে লাউড স্পিকারে গান বাজছে। তবে ক্যাসেট প্লেয়ারে নয়, লাইভ। ছোটখাটো কনসার্টই বলা চলে। এটি একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের চিত্র। তবে আজকাল কনসার্টের জায়গায় অন্য একটি জিনিস বেশ প্রচলিত হয়ে উঠেছে।এএই মাধ্যমটির নাম ডিজে। বাংলাদেশে ডিজে কালচারের আগমন হয়েছে আশির দশকের একদম শুরুর দিকে। বহির্বিশ্বে ডিজে কালচারের জনপ্রিয়তা দেখে এদেশের গুটিকয়েক তরুণ এটিকে বাংলাদেশে পরিচিত করে তোলে। প্রথমদিকে ডিজে করা বা ডিজে পার্টিতে অংশগ্রহণ একদমই সীমাবদ্ধ ছিলো। এখনও যে এটা তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছেছে তা নয়। তবে একটি শ্রেণী, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ডিজে পছন্দ করে। বর্তমানের আধুনিক তরুণদের কাছে ডিজে এক জনপ্রিয় মাধ্যম। ডিজে’র অ্যাব্রিভিয়েশন হলো ডিস্ক জকি বা যে ডিস্ক পরিচালনা করে। ডিজে, শ্রোতাদের আনন্দ দেয়ার একটি মাধ্যম। একদিকে লাউড স্পিকারে চলে গান, আরেকদিকে শ্রোতারা নেচে গেয়ে ভেসে যায় আনন্দের সাগরে। এটাই ডিজে পার্টির মোক্ষম চিত্র। গান, তাও যেই-সেই গান নয়, নানা ধরনের আপ-বিট গানকে একটির সাথে আরেকটি ব্লেন্ড করে তৈরি হয় ট্র্যাক। একজন ডিজে যখন ডিস্ক প্লে করে তখন দর্শক-শ্রোতাদের আনন্দ দেয়াই থাকে তার মূল লক্ষ্য। শ্রোতা-দর্শক নাচলেই তার সার্থকতা। ডিজে’র পুরো কর্মপ্রক্রিয়া খুব কঠিন নয়, আবার খুব সহজও নয়। প্রথমে ট্র্যাক সিলেকশন, এরপর কম্পোজিশন সবশেষে ডিস্ক প্লেয়িং। সবমিলিয়ে একজন ডিজে’র বেশ দক্ষ হতে হয়।
আমাদের দেশে ডিজে কালচার শুরু হয়েছে আনুমানিক ’৮১ সালের দিকে। তবে তখন ক্যাসেট প্লেয়ারে মিউজিক চালানো হতো। কোনো ডিস্ক ছিলো না। কারণ তখনো আমাদের দেশে সিডির প্রচলন শুরু হয়নি। কেবল দর্শকদের নাচানোর জন্য ক্যাসেট প্লেয়ারে মিউজিক ছেড়ে দেয়া হতো। সেই বিচারে সেটাকে প্রোপার ডিজে বলা যাবে না। কিন্তু তারা এদেশে মাধ্যমটিকে পরিচিত করে তুলেছিলেন। ডিজে’র বর্তমান সমৃদ্ধির জন্য তাদের অবদান অনস্বীকার্য।’
ডিজেরা একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর জন্য কাজ করে,বিষয়টি সত্য এবং যুক্তিযুক্ত। কারণ, আমাদের ক্লাবিং শুরু হয় রাত এগারোটার পর। দেশের খুব কম সংখ্যক লোকই আছে যারা রাত এগারোটার পর বাড়ির বাইরে থাকে। বিনোদনের জন্য রাত এগারোটার পর বাড়ির বাইরে কোনো ক্লাবে যাওয়ার কালচার আমাদের দেশে প্রচলিত নয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে অডিয়েন্সের শ্রেণীবদ্ধতার কথা যুক্তিযুক্ত’।আসল বিষয় হলো দৃষ্টিভঙ্গি বা পছন্দ। একেকজন মানুষ একেক ধরনের মিউজিক পছন্দ করে। ডিজে’ও একটি ভিন্ন স্টাইলের মিউজিক। এই মুহূর্তে যেহেতু বাংলাদেশে এটি বহুল পরিচিত নয়, তাই শ্রোতা-দর্শক শ্রেণীটিকে মুষ্টিমেয় মনে হয়। তবে এটি একসময় অবশ্যই তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জন্য কাজ করবে বলে আমার বিশ্বাস। তবে ডিজে ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিকেও সমৃদ্ধ করতে হবে। কারণ আগে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি তারপর ডিজে ইন্ডাস্ট্রি।’

ডিজে’র স্টাইল হলো অনেকগুলো গানকে মিক্স করা। কিন্তু এই মিক্সিং করতে গিয়ে মূল গানের স্বকীয়তা নষ্ট হয়। এমন অভিযোগে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ডিজে মিশু বলেন, ‘মিক্সিংয়ের কাজটি করে কম্পোজার। ডিজে শুধুমাত্র প্লে করে। তবে চেঞ্জিং বা মিক্সিংয়ের যে বিষয়টি প্রায়ই আমরা শুনি সেটা করা হয় ফিলিংসের জন্য। একটা ে া বিটের গানের সাথে একটা আপ-বিটের গান মিক্স করা হয় শ্রোতাদের আনন্দ দেয়ার জন্য। আর এই দোষে শুধুমাত্র ডিজেদের দোষারোপ করা উচিত নয় বলে আমি মনে করি। কারণ বর্তমান বাজারে অনেক মিক্স-রিমিক্স অ্যালবাম প্রকাশ হচ্ছে যেগুলো ডিজেরা করে না। আর আমরা যেটা করি সেটা নিতান্তই ডিজে স্টাইল। বরং আমার মনে হয় ডিজেরা যা করে তা একটা স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেন করে।
ডিজে হতে গেলে কী করতে হবে? এ জন্য কি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন আছে।অবশ্যই আছে, সবকিছুর মতো ডিজে’ও একটি শেখার বিষয়। না শিখে করলে ফলাফল বিপরীত হতে পারে। তবে আমাদের দেশে ডিজে শেখার জন্য একটা ইন্সটিটিউট খুব প্রয়োজন।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×