বর্তমান সময়ে ডিস্ক জকি বা ডিজে বেশ জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।
গভীর রাত। একটি বাড়িতে লাউড স্পিকারে গান বাজছে। তবে ক্যাসেট প্লেয়ারে নয়, লাইভ। ছোটখাটো কনসার্টই বলা চলে। এটি একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের চিত্র। তবে আজকাল কনসার্টের জায়গায় অন্য একটি জিনিস বেশ প্রচলিত হয়ে উঠেছে।এএই মাধ্যমটির নাম ডিজে। বাংলাদেশে ডিজে কালচারের আগমন হয়েছে আশির দশকের একদম শুরুর দিকে। বহির্বিশ্বে ডিজে কালচারের জনপ্রিয়তা দেখে এদেশের গুটিকয়েক তরুণ এটিকে বাংলাদেশে পরিচিত করে তোলে। প্রথমদিকে ডিজে করা বা ডিজে পার্টিতে অংশগ্রহণ একদমই সীমাবদ্ধ ছিলো। এখনও যে এটা তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছেছে তা নয়। তবে একটি শ্রেণী, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ডিজে পছন্দ করে। বর্তমানের আধুনিক তরুণদের কাছে ডিজে এক জনপ্রিয় মাধ্যম। ডিজে’র অ্যাব্রিভিয়েশন হলো ডিস্ক জকি বা যে ডিস্ক পরিচালনা করে। ডিজে, শ্রোতাদের আনন্দ দেয়ার একটি মাধ্যম। একদিকে লাউড স্পিকারে চলে গান, আরেকদিকে শ্রোতারা নেচে গেয়ে ভেসে যায় আনন্দের সাগরে। এটাই ডিজে পার্টির মোক্ষম চিত্র। গান, তাও যেই-সেই গান নয়, নানা ধরনের আপ-বিট গানকে একটির সাথে আরেকটি ব্লেন্ড করে তৈরি হয় ট্র্যাক। একজন ডিজে যখন ডিস্ক প্লে করে তখন দর্শক-শ্রোতাদের আনন্দ দেয়াই থাকে তার মূল লক্ষ্য। শ্রোতা-দর্শক নাচলেই তার সার্থকতা। ডিজে’র পুরো কর্মপ্রক্রিয়া খুব কঠিন নয়, আবার খুব সহজও নয়। প্রথমে ট্র্যাক সিলেকশন, এরপর কম্পোজিশন সবশেষে ডিস্ক প্লেয়িং। সবমিলিয়ে একজন ডিজে’র বেশ দক্ষ হতে হয়।
আমাদের দেশে ডিজে কালচার শুরু হয়েছে আনুমানিক ’৮১ সালের দিকে। তবে তখন ক্যাসেট প্লেয়ারে মিউজিক চালানো হতো। কোনো ডিস্ক ছিলো না। কারণ তখনো আমাদের দেশে সিডির প্রচলন শুরু হয়নি। কেবল দর্শকদের নাচানোর জন্য ক্যাসেট প্লেয়ারে মিউজিক ছেড়ে দেয়া হতো। সেই বিচারে সেটাকে প্রোপার ডিজে বলা যাবে না। কিন্তু তারা এদেশে মাধ্যমটিকে পরিচিত করে তুলেছিলেন। ডিজে’র বর্তমান সমৃদ্ধির জন্য তাদের অবদান অনস্বীকার্য।’
ডিজেরা একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর জন্য কাজ করে,বিষয়টি সত্য এবং যুক্তিযুক্ত। কারণ, আমাদের ক্লাবিং শুরু হয় রাত এগারোটার পর। দেশের খুব কম সংখ্যক লোকই আছে যারা রাত এগারোটার পর বাড়ির বাইরে থাকে। বিনোদনের জন্য রাত এগারোটার পর বাড়ির বাইরে কোনো ক্লাবে যাওয়ার কালচার আমাদের দেশে প্রচলিত নয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে অডিয়েন্সের শ্রেণীবদ্ধতার কথা যুক্তিযুক্ত’।আসল বিষয় হলো দৃষ্টিভঙ্গি বা পছন্দ। একেকজন মানুষ একেক ধরনের মিউজিক পছন্দ করে। ডিজে’ও একটি ভিন্ন স্টাইলের মিউজিক। এই মুহূর্তে যেহেতু বাংলাদেশে এটি বহুল পরিচিত নয়, তাই শ্রোতা-দর্শক শ্রেণীটিকে মুষ্টিমেয় মনে হয়। তবে এটি একসময় অবশ্যই তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জন্য কাজ করবে বলে আমার বিশ্বাস। তবে ডিজে ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিকেও সমৃদ্ধ করতে হবে। কারণ আগে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি তারপর ডিজে ইন্ডাস্ট্রি।’
ডিজে’র স্টাইল হলো অনেকগুলো গানকে মিক্স করা। কিন্তু এই মিক্সিং করতে গিয়ে মূল গানের স্বকীয়তা নষ্ট হয়। এমন অভিযোগে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ডিজে মিশু বলেন, ‘মিক্সিংয়ের কাজটি করে কম্পোজার। ডিজে শুধুমাত্র প্লে করে। তবে চেঞ্জিং বা মিক্সিংয়ের যে বিষয়টি প্রায়ই আমরা শুনি সেটা করা হয় ফিলিংসের জন্য। একটা ে া বিটের গানের সাথে একটা আপ-বিটের গান মিক্স করা হয় শ্রোতাদের আনন্দ দেয়ার জন্য। আর এই দোষে শুধুমাত্র ডিজেদের দোষারোপ করা উচিত নয় বলে আমি মনে করি। কারণ বর্তমান বাজারে অনেক মিক্স-রিমিক্স অ্যালবাম প্রকাশ হচ্ছে যেগুলো ডিজেরা করে না। আর আমরা যেটা করি সেটা নিতান্তই ডিজে স্টাইল। বরং আমার মনে হয় ডিজেরা যা করে তা একটা স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেন করে।
ডিজে হতে গেলে কী করতে হবে? এ জন্য কি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন আছে।অবশ্যই আছে, সবকিছুর মতো ডিজে’ও একটি শেখার বিষয়। না শিখে করলে ফলাফল বিপরীত হতে পারে। তবে আমাদের দেশে ডিজে শেখার জন্য একটা ইন্সটিটিউট খুব প্রয়োজন।
আমাদের দেশে ডিজে শেখার জন্য একটা ইন্সটিটিউট খুব প্রয়োজন।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।