somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন একটু দৌড়ঝাঁপ করি!

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা মানুষের চলন-বলন নিয়ে কতো কথাই তো বলি, তাইনা? এর হাঁটা ভালোনা ওর চলা ভালোনা..... মানুষের হাঁটা চলা নিয়ে নতুন করে বলার কিছুই নেই। তাই চলুন ঘোড়ার হাঁটা নিয়ে কিছু কথা শোনা যাক। মানুষের স্বভাব মোটেই ভালোনা- স্বজাতির হাঁটা-চলা নিয়ে কটাক্ষ করেও তাদের মন ভরে নাই। তাই ঘোড়া কেমনে করে হাঁটে সেইটারও ব্যবচ্ছেদ করা শেষ।

ঘোড়ার চলন (Gait) মূলত দুই ধরণেরঃ একটি হলো স্বাভাবিক (Natural) আর অন্যটি স্বচ্ছন্দ (Amble)! স্বাভাবিক চলন প্রায় সব ঘোড়ার ক্ষেত্রেই জন্মগত। কিন্তু স্বচ্ছন্দ চলনের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দরকার হয় প্রশিক্ষণের। এই স্বাভাবিক চলনকে আবার চারটি শ্রেণীতে ফেলা হয়েছেঃ হাঁটা বা কদম চলন (Walk), Trot, Canter এবং Gallop



ঘোড়ার হাঁটা
হাঁটার (Walk) সময় একটি মাত্র পা উপরে ওঠে আর বাকি তিন পা থাকে মাটিতে। হাঁটাকে বলে চতুর্স্পন্দিত চলন। অর্থাৎ প্রতি পদক্ষেপে চারটি beat শোনা যায়। এক্ষেত্রে চলার গতি হয় প্রতি ঘন্টায় ৪ মাইল।


ঘোড়ার দুলকি চলন
দুলকি চাল (Trot) একটি দ্বিস্পন্দিত চলন। এই চলার গতি হলো প্রতি ঘন্টায় ৮ মাইল। এটার ঘোড়ার জন্য সবচেয়ে ভালো চলন, শক্তি খরচ হয় অনেক কম। অনেক সময় ধরে ঘোড়া চলতে পারে। এই চলনে কর্ণ বরাবর পা জোড়া ব্যবহৃত হয়। বিশেষ এক ধরণের দুলকি চালকে বলে Piaffe. এক্ষেত্রে ঘোড়া সাধারণত একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে অর্থাৎ লেফট-রাইট করে আর কি!



ক্যান্টারবেরি চার্চ, ইংল্যান্ড
এবার আসা যাক অর্ধবল্গিত বা Canter চলনে। ইংল্যান্ডের ক্যান্টারবেরিতে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক চার্চের নাম Canterbury Cathedral। এই চার্চে যখন পুণ্যার্থীরা দর্শনে আসতো তখন তারা ঘোড়া যে গতিতে চালাতো সেই গতিকে বলা হয় Canter.


ঘোড়ার অর্ধ-বল্গিত চলন
এটি দুলকি চালের চেয়ে দ্রুত। এক্ষেত্রে চলার গতি হয় প্রতি ঘন্টায় ১০-১৭ মাইল। এটি একটি ত্রিস্পন্দিত গতি। ঘোড়াসওয়াররা তাদের ঘোড়াকে এই গতিতে চালাতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন। পাশ্চাত্যে এই চলনের একটু ভিন্ন ধারা দেখা যায়। সেটাকে বলে Lope (লাফিয়ে লাফিয়ে খরগোশের মতো চলা আরকি!)



ঘোড়ার বল্গিত চলন
আর সবার শেষে বল্গিত চলন (Gallop). সম্ভবত walopথেকে এই শব্দের উৎপত্তি। অর্থাৎ well (ভালো) leap (লম্ফন)। এটিও একটি চতুর্স্পন্দিত চলন। এর গতি সবচেয়ে বেশি। প্রতি ঘন্টায় প্রায় ২৫-৩০ মাইল। মুভি গুলোতে যতোই যুদ্ধক্ষেত্রের দৃশ্যে ঘোড়ার gallop দেখানো হোক না কেন, বাস্তবে কিন্তু এই গতিতে ঘোড়া ১-২ মাইলের বেশি যেতে পারে না।


এছাড়া আরেক ধরণের চলন আছে। সেটাকে বলে Pace. এক্ষেত্রে একই পার্শ্বের দুই পা ব্যবহৃত হয়।

এবার আসা যাক স্বচ্ছন্দ (Amble) চলনের কথায়। এই চলন কার্যক্ষেত্রে বর্তমানে শুধু আমেরিকাতে ব্যবহৃত হয়। কারণ বিশাল কৃষি জমি বা ফার্ম দেখাশোনা করতে গেলে দরকার customized চলন। আর যারা শখের বশে ঘোড়া চালায় তারাও এই চলন
পছন্দ করে। স্বচ্ছন্দ চলনের আবার আছে নানা ধরণের ভঙ্গি, কিন্তু সে কথা হবে অন্য কোনোদিন।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ ইংরেজি উইকিপিডিয়া।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১১:২৭
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×