আজ প্রথম আলোর শেষ পৃষ্ঠার খবরটা নিশ্চয় সবাই পড়েছেন। একটি কর্মশালার উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি কি ভাষণটাই না দিলেন! আহা, তার মনেযে এতো কষ্ট ছিলো তাতো আগে জানতাম না।
উপদেষ্টার মনো:পূত নয় এমন সংবাদ ছাপায় তিনি রাগ ঝাড়লেন, বিনয়ী হলেন, ক্ষমা চাইলেন, হুমকি দিলেন, কষ্ট দিলেন, উপদেশ দিলেন.....আরো কত কী! পুরো বক্তব্য জুড়ে ছিলো প্রথম আলোর প্রতি তার আবদার।
কিন্তু বক্তৃতার শেষে অবশ্য বললেন, ‘আমি কর্মশালার উদ্বোধন ঘোষণা করছি।’
উপদেষ্টা দু্:খ করে বললেন, ‘এরপর ওই ঘটনা নিয়ে সম্পাদকীয় ছাপা হয়। কিন্তু দ্রুততার সঙ্গে ওই সম্পাদকীয় লেখা উচিত হয়নি। মতিউর রহমানের মতো জ্ঞানী লোক অপেক্ষা করতে পারতেন, কোনো প্রতিবাদ আসে কি না। এটা না করে তাৎক্ষণিক সম্পাদকীয় লিখে ফেলল তারা। এখন আমি যদি বলি, ওই সম্পাদকীয় আগেই লেখা ছিল! আমি প্রমাণসহ প্রতিবাদ দিলাম। সেটাকে কোনো না কোনোভাবে উল্লেখ করতে পারতেন। বলতে পারতেন, পরে খোঁজ নিয়ে দেখলাম, বিষয়টি এভাবে ঘটেনি।’
উপদেষ্টা মোদাচ্ছের আলী বলেন, ‘আমি মুকুল ভাইয়ের (প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম) সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি। তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনারা কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে আমাকে যেকোনোভাবেই হোক, প্রত্যেক জায়গায় হেনস্তা করবেন? আপনারা যদি আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে থাকেন, তাহলে সেটা হবে অসম যুদ্ধ। আপনাদের বিরাট ক্ষমতা। তবে অসম যুদ্ধে সব সময় দুর্বলেরা জিতে। কারণ, দুর্বলের হারানোর কিছু থাকে না।”
উপদেষ্টা বলেন, ‘মানুষের ক্ষমতা যত হয়, তাঁকে তত নরম হতে হয়। আমার ক্ষমতা যদি আপনার এক লাখ ভাগের এক ভাগ হতো, তাহলে আমার গলার স্বর এমন হতো কি না জানি না। আমি তো আপনার কাছাকাছি নই। লিখেন। আমরা কেউ ধোয়া তুলসীপাতা নই। তবে আপনার সংগঠনের কী অবস্থা, সে খোঁজও নেন।’
মোদাচ্ছের আলী বলেন, ‘আপনি উপদেশ তো অনেক দেন। ১৯ মাসে কি কিছুই শিখিনি? আপনি একাই শিখলেন সারা জীবন? লেখাপড়া কি আপনিই করেছেন? আমরা কি কিছু করিনি? এটা ঠিক না। আপনি হয়তো অনেক বিজ্ঞ, অনেক ক্ষমতাশালী। কিন্তু ক্ষমতার দম্ভ দেখায়েন না। একজন সাধারণ লোককে বিনা কারণে হয়রানি করবেন না। তবে আমার অনুরোধ না রাখলেও আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধ থাকবে। কারণ, আপনি মালিক হয়ে সম্পাদক হননি। নিজের কাজের মধ্য দিয়ে এ পর্যায়ে এসেছেন। তবে আমিও ৪৮ বছর দীর্ঘ পরিক্রমার পর সামান্য হলেও একটি দায়িত্ব পেয়েছি। হঠাৎ করে আকাশ থেকে নাজিল হইনি। একাধিকবার আপনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমাকে কেন লক্ষ্যবস্তু করলেন?’
সবশেষে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি যা বলেছি, তার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি না। তবে উপস্থাপনার ধরনের জন্য কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা চাচ্ছি। প্রথম আলোকে বলছি, আমাকে কি একটু মাফ করা যায় না? যদি ভবিষ্যতে আবারও কিছু বলি, সেটা নিয়ে শুরু করেন। একটা দিয়ে আর কত লিখবেন?’
"প্রথম আলোকে বলছি, আমাকে কি একটু মাফ করা যায় না?" : স্বাস্থ্য উপদেষ্টার হৃদয় নিংড়ানো ভাষণ
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১১টি মন্তব্য ৩টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।