somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তারেক সালমান জাবেদ
তন্ত্র,মন্ত্র যতই জপি না কেন জবানে,যৌবনের আসিলে ঋতু রাজে,কোকিল কুহু কুহু সুরে গান করে, আমি পাগল তোমারি,প্রেম সুধা পানে, ভোমর পান করে মধু ফুলে বসে ,সে হোক গোলাপ বৈকি ঘাঁস ফুলে।আমার পরিচয় ছন্দের মাঝে।।

গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ

৩১ শে জুলাই, ২০১৫ ভোর ৫:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

TAREQ SALMAN JABED

আমাদের দেশের বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে গনতন্ত্র।বিগত ৫ ই জানুয়ারী ২০১৪ ইং সালের বির্তকিত নির্বাচনের আগ-পর থেকে আজ পর্যন্ত গনতন্ত্র নাকি বাংলাদেশের সংবিধানের মাঝে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে,গনতান্ত্রিক বাংলাদেশে গনতন্ত্রের কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না কিন্তু আমাদের সাংবিধানিক নিয়মে দেশ পরিচালনার দ্বায়িত্বে এক জন গনতান্ত্রিক সরকার আছে তা দেশের মানুষ ও বহিবিশ্ব জানে।আজ থেকে প্রায় বছর এক পূর্ব ও বর্তমান সময়ে শহর-বন্দর,গ্রামের হাট-বাজারে দোকানপাট-চা ষ্টলে যেখানেই কয়েক জন লোক একত্রিত হয়ে কথা বলতে দেখা গেছে সাবার মুখে ছিলো রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা,আমি আবার রাজনীতির দ্বারে কাছে ও নেই,কেন জানি রাজনীতির প্রতি টান-অনুভুতি কোন দিন ও মনে জাগেনি,স্কুল থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত একদিনও রাজনীতির দ্বারে কাছেও যাইনি। ছোট বেলা থেকে আমার শখ ছিলো লেখা-লেখি কবিতা,গল্প,ছড়া লিখতাম তারই সুবাধে অনার্স পড়া অবস্থায় সাংবাদিকতা পেশায় আসি,শহরের ২ টি প্রিন্ট সংবাদ পত্র ও একটি অনলাইন নিউজ পেপারে লিখতাম সাথে গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের বিনা মূল্যে প্রাইভেট পড়ার জন্য কম্পিউটার সহ তিনটি কোচিং সেন্টার ছিলো। সেদিক থেকে এলাকার লোকজন আমাকে সম্মানের চোখে দেখত। মাঝে মাঝে এলাকার চা ষ্টলে চা পানের জন্য বসলে কেউ কেউ আমাকে প্রশ্ন করতো বাংলাদেশের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, সরকার কি একদলীয় রাজনীতির দিকে এগুচ্ছে,গনতন্ত্র নাকি হত্যা করা হচ্ছে,আবার কেউ কেউ বলছেন গনতন্ত্র আন্দোলন করে ফিরিয়ে আনতে হবে।সাধারন জনগনের এসব প্রশ্নর জবাব আমার কাছেই বা আর কতটুকু আছে,তাই রাজনৈতিক বিষয়ে তাদের সাথে আমি তেমন কথা বলতাম না,পত্রিকাতে মাঝে মধ্যে রাজনৈতিক বিষয়ে লিখতাম আমার সব লিখা আবার ছাপা হতো না,না হওয়ার ও একটা কারন আছে-সরকার ৪ অগাষ্ট২০১৪ সালে গনমাধ্যম সম্প্রচার নীতিমালা প্রনয়ন করেছে এই গনমাধ্যম সম্প্রচার নীতিমালার কারনে আমার পত্রিকার সম্পাদক সাহেব আবার সরকার দলের বিপক্ষে কিছু লিখলে তা ছাপাবেন না আর না ছাপানোর জন্য সম্পাদক সাহেব কে দ্বায়ি করা যাবে না,কেননা-সরকারের বিরোদ্ধে লিখার কারনে বিগত ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ বিএসইসি ভবনে দৈনিক আমার দেশ-এর কার্যালয় থেকে পুলিশের কমান্ডো অভিযানে মাহমুদুর রহমানকে আটক করে নিয়ে যায়।ওইদিনই রাত ৯টার দিকে একদল পুলিশ তেজগাঁওয়ে আমার দেশ প্রেসে অবস্থান নেয়। তারা প্রেসে কর্মরতদের বের করে দেয়। এ সময় পুলিশ ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি। পুলিশ কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই জবরদস্তিমূলকভাবে আমার দেশ-এর প্রেস সিলগালা করে দেয়। তবে বিকল্প ব্যবস্থায় জেলা প্রশাসককে অবহিত করে দৈনিক সংগ্রাম-এর ছাপাখানা আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেসে পত্রিকা ছাপানো হয়। সেখানে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ছাপানোর অভিযোগে ১৩ এপ্রিল শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে অভিযান চালায় পুলিশ। একজন মহিলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এখানে পুলিশ ৬ হাজার ১ কপি পত্রিকা জব্দ করে। পুলিশ পত্রিকা জব্দের পাশাপাশি ছাপার প্লেট খুলে নেয় এবং আমার দেশ-এর ছাপা সংশ্লিষ্ট ১৯ জন কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় আমারদেশ পত্রিকা।এভাবে আরো দুটি টিভি চ্যানেল দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি সম্প্রচার নীতিমালার কারনে বন্ধ হয়ে যায়। এটা কি গনতন্ত্রের আওতায় পরে যাওয়া যাক সে দিকে:
গনতন্ত্র হলো একটি দেশের সর্বসাধরণের দ্বারা রচিত একটি সরকার পদ্ধতি। সচরাচর এতে থাকে জনগন কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনীধি যারা বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অভিমত প্রকাশের ব্যাপারকে সমর্থন করে। গনতন্ত্রের অর্থ হল সামাজিক শ্রেণীবিভাজন ব্যতিরেকে নগরিকগন কর্তৃক প্রণীত একে অপরের জন্য নিবেদিত একটি সুষ্ঠ ও সুষম ব্যবস্থা। এটি হল জনগণের ইচ্ছা অনুসারে দেশ শাসন করার পদ্ধিতি। গনতান্ত্রিক দেশে জনগন ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে যারা জনগণের জন্য কাজ করবে। সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন হল গনতন্ত্রের পূর্বশর্ত। গনতন্ত্র হল জনগণের একটি অধিকার যেখানে তারা সকলের সমান অধিকারের কথা বলবে। এই পদ্ধিতিতে তারার খ্যাদ্য,বস্ত্র,আশ্রয়,শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার অধিকারগুলো উপভোগ করে। জনগণ হল শক্তির উৎস। অর্থাৎ একটি গনতান্ত্রিক দেশে তারা সর্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। আমেরিকার প্রয়ত প্রসিডেন্ট আব্রহাম লিস্কন গণতন্ত্রকে এভাবে সঙ্গায়িত করেছেন Government of the people, by the people, for the people“গণতন্ত্র হল জনগণের সরকার, জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত সরকার, এবং জনগণের জন্য গঠিত সরকার”। সত্যিকারের গনতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলটি প্রধান বিরোধী দলের সাথে ঐক্য গড়ে তুলবে এবং গণতন্ত্রের জন্য মিলেমিশে কাজ করে যাবে। প্রতিবেশী দেশের সাথে সদ্ভাব, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা গনতন্ত্রের আবশ্যকীয় শর্তবলী। কিন্তু এসব দিক থেকে আমাদের দেশের গনতন্ত্র ও গনতান্ত্রিক সরকার ভিন্ন,আমাদের দেশের গনতন্ত্র অনেকটা এক নায়কতন্ত্রে রূপ নিয়েছে-আর গনতান্ত্রিক সরকার ও নিয়েছেন এক নায়কতন্ত্রের পথ বেছে।গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশের প্রধান বড় দল বি এন পি মাসের পর মাস আন্দোলন করেছে কিন্তু কোন কাজ হয়নি বরং গনতন্ত্রের আন্দোলনের আগুনে হাজার ও নারী,শিশু,বৃদ্ধা ও যুবকের মৃতু্য হয়েছে এবং হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পেট্রল বোমার আগুনের দহনে শত-শত জন এখনও কষ্টে ভোগছেন। এই হল গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন । অতপর আমাদের সুশিল সমাজের লোকেরা গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য কত সভা,সমাবেশ,মানবন্ধন করেছেন তার হিসেব করতে কম্পিউটারের প্রয়োজন হবে,কিন্তু চুর কি শুনে ধর্মের কাহিনি,কে কার কথা শুনবে-সরকার কারও কথা শুনবেন না,এই হলো আমাদের গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৪:৪৮
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×